বেশি কথা বলা স্বভাবে নেই। ক্রিকেট নিয়ে কথা উঠলে আরও চুপসে যান। মোস্তাফিজুর রহমান কথাই বলেন গুণেগুণে! নিজেকে কেন এত গুটিয়ে রাখেন সেটি আদতে রহস্যই মনে হতে পারে। কিন্তু এর পেছনেও আছে দর্শন। ক্যারিয়ারে ভাল সময় যাবে, খারাপ সময়ও আসবে, এই চিরন্তন সত্য মেনে সবসময় বাস্তবতার কাছাকাছি থাকার চেষ্টাতেই নাকি এমন চুপচাপ থাকেন বাঁহাতি টাইগার পেসার। সব মিলিয়ে ভাল করলে খুব উচ্ছ্বসিত, আর খারাপ হলে হতাশায় মুষড়ে পড়া, দুটোরই বাইরের একজনের নাম তাই ফিজ।
‘খারাপ সময়, ভাল সময় আসবেই। আমি তাই ওসব নিয়ে ভাবি না। খারাপ করলেও খুব আফসোস হয় না। যদি বেশি ভাবি সেটা তো আমার জন্যই ক্ষতি। সামনে কেমন হবে সেটি সময়ের উপরই ছেড়ে দেই।’
বুধবার চিটাগং ভাইকিংসের সঙ্গে ম্যাচ খেলেই রাতে ঢাকায় ফিরেছেন রাজশাহী কিংসের হয়ে বিপিএলে নামা মোস্তাফিজ। পুরো দল ফিরেছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। তার আগেই মিরপুরে জিম সেশন সেরে নিলেন অ্যাংকেল ইনজুরি থেকে ফেরা এই তরুণ। কঠোর অনুশীলনের মানসিকতা নিয়ে দুই ঘণ্টা ছিলেন জিমে।
২০১৫ সালে ঘরের মাঠে ভারত সিরিজে প্রথম ওয়ানডেতেই ৫ উইকেট, পরের ম্যাচে ৬টি। তিন ম্যাচের সিরিজে ১৩ উইকেট! ম্যান অব দ্য সিরিজ। তার আগে অভিষেক টি-টুয়েন্টিতে পাকিস্তানের সঙ্গে দুই উইকেট। টেস্টের শুরুতেও ছিলেন সপ্রতিভ। আইপিএলে প্রথমবার গিয়েই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে বাজিমাত। ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও দেখিয়েছেন বোলিং ক্যারিশমা। সাসেক্সের হয়ে টি-টুয়েন্টি ব্লাস্টে শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্ত।
শুরুর দিকেই এমন সাফল্যের পথে হাঁটার অভ্যাস যার, সেই মোস্তাফিজ কাঁধের অস্ত্রোপচারের পর থেকে পিছিয়ে পড়তে থাকেন। ট্রডমার্ক মায়াবী কাটারগুলো দেখা যায়নি অনেকদিন। কেন এমন হচ্ছে সেটি নিয়ে সবার মধ্যে হাপিত্যেশ থাকলেও মোস্তাফিজ থাকছেন বাস্তবতার কাছাকাছিই, ‘তখন তো নতুন ছিলাম। কেউ রিড করতে পারেনি। সময়ের সঙ্গে মানুষ রিড করছে, ভিডিও ফুটেজ দেখার সুযোগ আছে। আমি হতাশ হই না। সবসময় শেখার চেষ্টা থাকে। আর ইনজুরি তো আমার হাতে নেই।’
মোস্তাফিজ ভাল করতে না পারলে আফসোস ঝড়ে বন্ধুদের মনে। কিন্তু মোস্তাফিজকে সেসব আবেগ স্পর্শ করে খুব কম সময়েই, ‘প্রতি ম্যাচেই ৫-৬ উইকেট পাব, এমনটা আশা করা বাস্তবে থাকা নয়। শুরুতে পেয়েছি, এখন হয়ত ২-৩টা পাচ্ছি। আমার বন্ধুরা খুব আফসোস করে ভাল না করলে। বয়স এখনও কম। অনেক শেখার আছে। এখন ছন্দে ফেরার চেষ্টা করছি।’
সাউথ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে সিরিজের আগমুহূর্তে ওয়ার্মআপে ফুটবল খেলতে গিয়ে বাঁ-অ্যাংকেল মচকে যাওয়ায় মোস্তাফিজকে ফিরে আসতে হয়েছিল দেশে। চোটে পড়ায় রাজশাহী কিংসের হয়ে খেলা হয়নি বিপিএলের সিলেট ও ঢাকা পর্বে। চট্টগ্রাম পর্বে নেমে তিন ম্যাচে নামের পাশে ৪ উইকেট। ফুল রানআপে মাত্র দুইদিন বোলিং অনুশীলন করে নেমে যা করেছেন তাতেও খুশি মোস্তাফিজ, ‘আমি খুশি আমার পারফরম্যান্সে। মাত্র দুইদিন বোলিং করেছি। সে হিসেবে সব ঠিক আছে।’
বার বার ইনজুরিতে পড়লে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। সতর্ক থাকতে হয়। অনেক সময় তার প্রভাব পড়ে পারফরম্যান্সে। মোস্তাফিজেরও সেই সময় গেছে। তবে তা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছেন বলে জানালেন টাইগার পেসার।








