টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার রূপা খাতুনের লাশ কবর থেকে তুলে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম গোলাম কিবরিয়া এই আদেশ দেন। পরে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে লাশ তুলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে বলেন।
এই ঘটনায় আটক ৫ আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে টাঙ্গাইলে। সর্বস্তরের মানুষ আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের মেয়ে রূপা খাতুন। দুই ভাই, তিন বোনের মধ্যে ছিলেন তৃতীয়। তাকে হারিযে বাকরুদ্ধ স্বজনরা। এ ঘটনায় জড়িতদের প্রকাশ্য ফাঁসি চান তারা।
রূপা ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ। পরবর্তীতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে এমন নজির দেখতে চান সকলে।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুব আলম বলেছেন, এ ধরণের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জন্য আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যা যা করণীয় তার সব করা হবে।
ঘটনার দিন গত শুক্রবার রাতে বগুড়া থেকে রূপা ময়নসিংহ ফিরছিলেন ছোঁয়া পরিবহনের একটি বাসে। বাসটি টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা অতিক্রম করলে নেমে যায় সব যাত্রী। আর এই সুযোগ নিয়ে বাসটি কালিহাতী এলাকায় পৌঁছালে গাড়ীর হেলপার ও অন্যরা তাকে গাড়ির পিছনের সিটে নিয়ে রূপাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
পরে বাসটি মধুপুর পৌঁছালে নিহত আলো দেখতে পেয়ে রূপা চিৎকার চেচামেচি করলে তার ঘাড় মটকে মৃত্যু নিশ্চিত করে খুনীরা। পরে মধুপুর ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর বনের পঁচিশ মাইল এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে তার লাশ ফেলে রেখে যায় হত্যাকারীরা।
পরের দিন সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে হত্যা মামলা দায়ের ও লাশের পোস্টমর্টেম করে এবং কোন দাবিদার না থাকায় বেওয়ারীশ হিসাবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।







