বার্সেলোনার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন ১৮ বর্ষী ব্রাজিলিয়ান তরুণী জিওভানা কুইরোজ। কাতালান ক্লাবটিতে থাকাকালীন অপমান, দুর্ব্যবহার ছাড়াও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন জানিয়ে সভাপতি হুয়ান লাপোর্তাকে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন বর্তমানে লেভান্তের জার্সিতে খেলা তারকা।
‘প্রিয় সভাপতি, এই অবস্থানে পৌঁছানো সহজ ছিল না। অনেকমাস ধরে যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমি বার্সেলোনা নারী দলে থাকাকালীন যে আপত্তিকর আচরণের শিকার হয়েছি তার নিন্দা জানাই। নারীর প্রতি পুরুষের সহিংসতার সংস্কৃতি মেনে নেয়া যায় না। ক্লাবের বেশিরভাগ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাদের ক্ষমতা ব্যবহার করে দুর্বল ও অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের শিকারে পরিণত করে থাকেন।’
১৭ বছর বয়সে কুইরোজ বার্সায় যোগ দিয়ে কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন চিঠিতে।
‘প্রথম, আমি ইঙ্গিত পেয়েছিলাম যে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে খেললে ক্লাবে আমার ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। পরে ক্রমাগত হয়রানি শিকার হওয়া সত্ত্বেও বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। তারা আমাকে নানাভাবে হয়রানি করছিল, যাতে ব্রাজিল দলের প্রতিনিধিত্ব ছেড়ে দেই। বার্সা আমার পেশাদার জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য স্বেচ্ছাচারী পদ্ধতির পথে হেঁটেছে।’
২০২১ সালে করোনা আক্রান্ত হলে বার্সার চিকিৎসকরা তাকে অবৈধভাবে আটকে রাখে বলেও অভিযোগ তুলেছেন কুইরোজ।
‘তারা আমাকে বেআইনিভাবে তালাবন্ধ করে রেখেছিল, বাড়ি ছেড়ে যেতে পারিনি। অনুশীলন ও স্বাভাবিক জীবন চালাতে পারিনি। আমি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলাম।’
কোয়ারেন্টাইন শেষ করার পর কুইরোজ ফিফা থেকে ব্রাজিল দলে যোগ দেয়ার অনুমোদন পেয়েছিলেন। পরে বার্সা তার বিরুদ্ধে কোয়ারেন্টাইন লঙ্ঘনের সঙ্গে ক্লাব ও দলের অধিনায়কের সম্মতি ছাড়াই ভ্রমণ করার অভিযোগ তোলে।
‘ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ে ছিলাম। সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বাড়ি গিয়েছিলাম। অনেকবার কেঁদেছি। অধিকারের জন্য লড়াই করার শক্তি আমার ছিল না। নারীদের সম্মান এবং মর্যাদা প্রাপ্য। ক্লাবকে অবশ্যই শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক সততা নিশ্চিত করতে হবে। আশা করি বার্সেলোনা ধারাবাহিক ও স্বচ্ছভাবে কাজ করে যাবে।’








