ইতিহাদে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি ফাইনালের প্রথম দেখায় রোমাঞ্চে ঠাসা ম্যাচে ৪-৩ গোলে জয় তুলেছে ম্যানচেস্টার সিটি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় তুলায় সিটি ফুটবলারদের পারফরমেন্সে খুশি পেপ গার্দিওলা। ম্যাচ হারলেও ফাইনালে ওঠার সুযোগ থাকায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সিটিকে ভাগে আনার অপেক্ষায় কার্লো আনচেলত্তি।
ম্যাচের শুরুতেই দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। প্রতিপক্ষের ডেরায় লড়াই করেছে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত। একের পর এক আক্রমণ সামলে ব্যবধান বাড়াতে দেয়নি সিটিকে। উল্টো সুযোগ লুফে নিয়ে জোড়া গোল আদায় করে লিগে ১৪ গোল নিয়ে লেভান্ডোভস্কিকে ছাড়িয়ে গেছেন করিম বেনজেমা। তবে যেভাবে রিয়াল দুর্গে একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে গেছে সিটি তারকারা তাতে বেশ খুশি গার্দিওলা।
‘ছেলেরা সবার সামনে যেভাবে পারফর্ম করেছে তাতে আমি দারুণ খুশি। কোনো অভিযোগ নেই। আমরা সাহসের সাথে খেলেছি। জয়ের জন্য মাঠে সবকিছু করেছি। আমরা নিজেদের পুনরুদ্ধার করেছি এবং আশা করি লিডস ও বার্নাব্যুতে খেলার সময় তা কাজে লাগবে।’
ম্যাচের শুরু থেকে যেভাবে একের পর এক আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে সিটি ফরোয়ার্ডরা। তাতে এক অন্য সিটিকেই দেখল রিয়াল। ম্যাচ শুরু দ্বিতীয় মিনিটে ডে ব্রুইনের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ১১ মিনিটে ফের ব্যবধান বাড়ান গাব্রিয়াল জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধেও সেই ধারা অব্যাহত রেখে জয় তুলে নেয় ৪-৩ গোলে। তবে বেশ কিছু সহজ সুযোগ গোলে পরিণত করতে না পারায় হতাশা আছে গার্দিওলার।
‘গোলের সম্ভাবনা তৈরি করলে তা রূপান্তর করতে হবে। ফুটবলারদের বোঝাতে চাই আমরা জয় পেয়েছি এবং মাথা তুলেছি। আমরা এক গোলে এগিয়ে ছিলাম কিন্তু তারা ১০ মিনিটে তিনটি গোল করার ক্ষমতা রাখে তারা। নিজেদের জন্য ভালো পরীক্ষা ছিল এটি তাদের ম্যাচে সমতায় ফেরার সুযোগ দেয়নি ছেলেরা।’
অন্যদিকে ম্যাচ হারের হতাশা থাকলেও এখনো সুযোগ থাকায় তা কাজে লাগাতে চান আনচেলত্তি। পিছিয়ে পড়েও যেভাবে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে তার দল তাতে প্রশংসার দাবীদার রিয়াল ফুটবলাররাও।
‘আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। যারা বার্নাব্যুতে দ্বিতীয় লেগে অংশ নেবে তাদের সাথে সরাসরি কথা বলব। আরেকটি জাদুকরী রাতের জন্য লড়াই করতে চাই আমরা।’
এ ম্যাচেও ত্রাণকর্তা হিসেবে অবতীর্ণ হন বেনজেমা। জোড়া গোল আদায় করার পাশাপাশি ব্যবধান কমানোতেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
‘করিম বরাবরের মতোই দারুণ খেলেছে। পেনাল্টিটি দুর্দান্ত ভাবে নিয়েছে সে। মদ্রিচকে তুলে নেয়ার কারণ সে খারাপ খেলছিল। হেরে যাওয়ায় একটু হতাশ। আমরা একটু মনোযোগ দিলেই দুটি গোল এড়ানো যেত। আমাদের এখনো সুযোগ আছে। আমাদের ভালো ডিফেন্স করতে হবে। আমরা বল পেলে ভালো করছি। শেষ অবধি লড়াই করেছি।’







