ব্রাজিলকে প্রায় একাই হারিয়ে দেয়া বেলজিয়াম গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে ভলিবল খেলোয়াড় বানাতে চেয়েছিলেন তার বাবা-মা।
থিবো নিকোলাস মার্ক কোর্তোয়া বেলজিয়ামের ব্রি’তে ১৯৯২ সালের ১১ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা থিওরি কোর্তোয়া ও মা গিটা কোর্তায়া দুজনই ছিলেন বেলজিয়াম জাতীয় ভলিবল দলের খেলোয়াড়। তাইতো তারা চেয়েছিলেন ছোট থেকেই ভলিবলের সঙ্গেই সখ্য গড়ে উঠুক, হয়ে উঠুক পুরোদস্তুর একজন ভলিবল খেলোয়াড়।
কিন্তু ছেলে থিবো তা হতে চাননি। তাইতো থিবোর বোন ভ্যালেরিকে ঠিকই ভলিবল খেলোয়াড় বানিয়েছেন তারা। ভ্যালেরি এখন বেলজিয়াম জাতীয় ভলিবল দলের খেলোয়াড়।
ছোট্ট থিবো প্রথম দিকে জিমন্যাস্টিকস নিয়ে মেতে ছিলেন। উপভোগ করতেন জিমন্যাস্টিকসের বিভিন্ন ইভেন্ট। তার বাবা-মা পাঁচ বছর বয়সে তাকে নিয়ে যান ভলিবল কোর্টে। স্থানীয় একটি ট্রেনিং সেন্টারে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যে ভলিবলে তার অনীহার কথা জানান বাবা-মাকে।
এরপর এক রকম বাধ্য হয়ে নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে থিবোকে বেলজিয়ামের ব্রিগ শহরের ফুটবল ক্লাব ভি ভি বিলজেনে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলজিয়াম ফুটবল সংস্থার নিয়ম হল ছয় বছরের নীচে বাচ্চাদের গ্রাসরুট কোচিংয়ে নেওয়া হয় না। কিন্তু থিবো কোর্তোয়া ক্লাবের সামনে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করতে থাকে। এ দেখে ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে ট্রেনিংয়ে নিয়ে নেয়।
প্রথম দিকে কোর্তোয়া ছিলেন লেফট ব্যাক। কিন্তু ছোটবেলায় জিমন্যাস্টিকসে যুক্ত থাকায় তার অ্যাক্রোবেটিক মুভমেন্ট ছোট বয়সে সকলের নজরে পড়ে। তখনই তার ডাকনাম হয়ে যায় ‘অক্টোপাস’।
ভি ভি বিলজেনের নার্সারি কোচ বার্ট টিওনিকসন তাকে নিয়মিত গোলে খেলাতে থাকেন। বেলজিয়ামের জুনিয়র লিগে ভালো খেলার সূত্রে তিনি দেশের বড় ক্লাব জিঙ্ক ক্লাবের স্কাউটদের নজরে পড়ে যান। ২০১০-১১ মৌসুমে জিঙ্ক ক্লাব দেশের পেশাদার লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়।
কোর্তোয়ার তখন বয়স মাত্র ১৯ বছর। তার খেলা দেখে ২০১১ সালে চেলসি মাত্র আট মিলিয়ন ইউরোতে তাকে কিনে নেয়। মাঝে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ধারে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদেও খেলেন কোর্তোয়া। চেলসি চেয়েছিল তার ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাড়াতে।
২০০৯-১০ মৌসুমে বেলজিয়াম অনূর্ধ্ব-১৮ দলেও গোলরক্ষক হিসেবে খেলেছেন, ২০১১ সাল থেকে বেলজিয়াম জাতীয় দলের নিয়মিত গোলরক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।







