চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বাবা (পর্ব: সাত)

মিলন ফারাবীমিলন ফারাবী
২:৩১ অপরাহ্ণ ০৮, মে ২০১৬
অন্যান্য, শিল্প সাহিত্য
A A

হাসু আপুরও নিশ্চয়ই খুব কষ্ট হচ্ছে। সেও আব্বাকে খুঁজছে। জীবনের এমন একটা পরিবর্তন – বাবা ছাড়া কেমন করেই বা সম্ভব!

আর আম্মা। তার মুখ দেখলে মায়া লাগছে। স্বামীকে ছাড়া গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। দুধ শাদা মুখটা মলিন। কপালে মুক্তোদানার মতো ঘামের বিন্দু।

শাড়ির আঁচলে আলতো করে মুছলেন।

মা-কে একটু উদভ্রান্ত লাগছে। বিয়ের ব্যস্ততার মাঝেও বারান্দায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন। একা। খানিকবাদে কী কাজ মনে হতেই ছুটে আসছেন।

বারান্দায় মায়ের বিষণ্ন মুহূর্তগুলো কি কারও অপেক্ষায়? আরো কারও কি আসার কথা আছে! নাকি নিজেকে কয়েক মিনিটের জন্য আলাদা করে একাকী একান্ত প্রিয় মানুষটার কথাই ভাবছেন! তারও কি মনে হচ্ছে – মানুষটা অদৃশ্য ইজিচেয়ারে আধশোয়া হয়ে কন্যার কল্যাণ কামনায় মগ্ন। মানুষটাকে অন্তত এক কাপ চা-কফি তো দেয়া দরকার।

হয়তো সেই তাড়নাবোধে ছুটে আসছেন। ভুল ভাঙতেই এটা সেটা কাজের বাহানায় সম্বরণ করছেন নিজেকে। মায়ের চোখের নিচে চিকচিক করছে ঘাম – না অন্য কিছু!

Reneta

মা কাঁদছেন। অনিরুদ্ধ অশ্রু কেমন করেই বা সামলাবেন। আয়ুবশাহী কি পাষন্ড বর্বর। এমন দিনেও মানুষটাকে বাইরে আসতে দিলো না জালিমেরা। অথচ তাকে আজ কতই না ছিল প্রয়োজন। ওই মানুষটার বিরুদ্ধে বদমাশ ষণ্ডচক্র একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে চলেছে।

এই অত্যাচার, জুলুমবাজির শেষ কোথায়! উনি আর কত জেল জুলুম খাটবেন! একটাই তো মাটির দেহ। সইতে সইতে নিঃশেষ হচ্ছে – কিন্তু কার কাছে কোনো অনুযোগ করেনি। মানুষটাকে সে কথা স্মরণ করিয়ে দিলেই বেশ হাসেন – বলেন, রবিঠাকুরের কবিতা তুমি শোননি রানু – নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই। আমি কোটি কোটি মানুষের জন্য লড়ছি। এই লড়াইয়ে আমার প্রাণস্পন্দন নিঃশেষ হয়ে গেলেও অন্য কিছুর পরোয়া করি না। ওরা যা ইচ্ছে জেল জুলুমবাজি করুক, মানুষের জন্য আমি ফাঁসির মঞ্চেও দাঁড়াতে রাজি।

কিন্তু কন্যার বিয়েতে মানুষটা কাছে নেই – রানুর কাছে সবকিছু শূন্য শূন্য লাগছে। এখন যে কি প্রবল কষ্ট, সেটা তিনি কাকে বোঝাবেন!

বেগম মুজিব আবার বারান্দায় গিয়ে নির্জনে কিছুক্ষণ দাঁড়ালেন। তার দৃষ্টি দূরের রাস্তায়। মনে হচ্ছে – তিনি অস্ফূটে একা একা কিছু বলছেন!

রসুমতের এই অনুষ্ঠান না হয় ছোট্ট। লোক সমাগম হাতে গোনা। তার মাঝেও দু’পক্ষে এ কথায় সে কথায় হঠাৎ ঝড়। মৌলানার কাছে বিয়ে পড়বেন বর। কিন্তু সেজন্য একটা টুপি চাই। টুপি কই! ডাক পড়ছে কামালের। টুপির ব্যবস্থা হলো। পঁচিশ হাজার টাকা দেনমোহরে কাবিন হলো। কাবিননামায় স্বাক্ষর করলেন ওয়াজেদ। এবার দোয়া মুনাজাত। মৌলানা সাহেবের কণ্ঠ বেশ সাবলীল।

দোতলায় বৌয়ের সাজে হাসু আপু। দুলাভাইকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সেই ঘরে। আপু এখন পরীর মতো সুন্দর। সত্য, বোনটার মুখটা দেখতে চাঁদের মতোই মিষ্টি লাগছে।

কামালের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। ছোটবেলার ফুল-সবুজ দিনগুলো। ভাইবোন কত ছুটোছুটি। অচ্ছেদ্য বন্ধন। কী মনে হতে কামাল কোন ফাঁকে নেমে এলো নিচে উঠোনে। একা একা পায়চারি করল কিছুক্ষণ। আজ রাতে কোথায় যেন বিষণ্ন বেহালা হালকা লয়ে বেজে চলেছে।

মধ্যরাতে বাড়িটা যেন নিঝুমপুরী। কবুতর কলোনী থেকে হঠাৎ অস্পষ্ট বাকবাকুম। এছাড়া কাছে দূরে কোথাও শব্দ নেই। রেহানা, জামাল, কামাল অন্যরুমে। ছোট্টটি রাসেল অঘোরে ঘুমুচ্ছে। একা মন খারাপ হাসিনারও। বাবার কথা কিছুতেই মন থেকে মোছা যাচ্ছে না। আব্বা নির্জন কারাগারে কেমন আছেন। বরাতের রাতেও কোনো খাদ্য মুখে বোধ হয় রোচেনি।

হাসুর রুমের কোণে ফুলদানিতে একগুচ্ছ ফুল। কয়েকটি তাজা গোলাপ। রঙ লাল টকটকে। পাশে বেতের ডালাতে ওগুলো কী! আশ্চর্য! এক গাদা শিউলি বকুল কুড়িয়ে এনে কে এখানে রাখল? তাই বুঝি রুমটা এত সুরভিত-সুবাসিত লাগছিল। ফুলের অকৃত্রিম সুগন্ধ। এক পশলা খুশি যেন হাসিনার মনকে দুলিয়ে দিলো।

হাসু ঠিকই জানে ওটা ছিল কামালেরই কাণ্ড। কামালের রুচি তার ছোটবেলা থেকেই জানা। গান শুনতে খুব ভালবাসে সে। আর ফুল, পাখি, লতাপাতার প্রতি ষোলআনা প্রেম। বাড়ির উঠোনে যে মালতীলতার ঝোঁপ; ছন্দে ছন্দে আনন্দে দুলে উঠে গেছে দোতলায়-ছাদে; ওই লতা কামাল লাগিয়েছিল। রাতে ঝরে পড়া বকুল শিউলি পরম যত্নে কুড়িয়ে ডালাতে তুলে রাখা; আড়াল থেকে বোনের মনকে ভালো করা; এ কাজ অন্য কেউ করেনি। বিয়ের রসুমতের রাতে এমন পবিত্র উপহার একমাত্র কামালই দিতে পারে আপুকে। সোনার গয়নাগাটি, অলংকার-সাজসজ্জা – এসবে কখনোই ওর মন টানেনি। আব্বাও নিরাভরণ জীবন ভালবাসেন।

কিন্তু ফুলে হাসুর তীব্র টান। বকুলের মালা কখনো খোঁপায়, কখনো হাতে চুড়ির মতো পরেছে।

কন্যাটির সাজপ্রিয়তা বলতে ওটুকুই।

ফুলের প্রতি বাবারও প্রচণ্ড দুর্বলতা। বাড়ির আঙ্গিনায় ফুলবাগান আছেই। শিউলি বকুল কদম গাছ কত্ত বড়। আব্বার ইচ্ছা হিজল তমাল পলাশ শিমুল সজনে, কৃষ্ণচূড়া এনে লাগাবেন। বত্রিশ নম্বর বাড়ির আঙ্গিনায় তেমন দরকারি মাটি কই। তারপরও প্রায়ই কত গাছ লাগিয়েছেন নিজ হাতে। সারা বাংলার বনে বাদাড়ে শ্যামল পল্লীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আলো করা এই ফুলবৃক্ষ ও ফলবৃক্ষই তিনি বেছে নিচ্ছেন। তার কথা – এই গাছগুলো যখন বড় হবে – বসন্তে গ্রীষ্মে ফুল ফুটবে – কী সুন্দরই না লাগবে তখন ঢাকাকে।

আব্বা স্বপ্ন দেখেন দেশী ফুলের অপরূপ রঙ রূপচ্ছটায়; এবং সৌরভে ঢাকায় সারা বছর জুড়েই বিরাজ করবে বসন্ত।

বাইরে থেকে সবাই তেজস্বী, ওজস্বী বাবাকে দেখছে, আর সন্তানেরা দেখতে পেত ফুল-কোমল শিশুটিকে।

এই ফুলে কি তবে দংশন করেছে বিষ-কীট!

বাবার আরেকটা স্বপ্ন ছিল। কে জানে কোনোদিন তা এই বাংলায় নাড়া দেবে কিনা তরুণ-তরুণীদের। তরুণ প্রাণ উৎফুল্ল­ হবে বৈশাখী ও বসন্ত উৎসবে। ফুল, লতা-পাতা রঙের মিছিলে তারুণ্য এগুবে শুভযাত্রায়। জয় করবে অশুভকে। মননে বিশ্বাসে বাবাও যে মহান কবি, তার কবিকল্পনাকে বাস্তবায়নে তিনি ভীষণ উদগ্রীব। কখনো কখনো রাতের বেলা ইজি চেয়ারে শোয়া বাবার পাশে মোড়া টেনে বসে কবিত্ব মাধুর্য মাখানো পদাবলী মুগ্ধ হয়ে শুনেছে হাসু। রবীন্দ্রনাথ ছিল খুব প্রিয়। জীবনানন্দের রূপসী বাংলা তো তিনি এই বাংলার হিজল তমাল রূপসা ইছামতী নদী ও প্রকৃতি চষে ফিরে সচক্ষে দেখেছেন।

বাবার কণ্ঠে গভীর আত্মবিশ্বাস – বাংলার রূপ আমি দেখেছি মাগো। বাংলার মানুষের চাহিদা খুব কম; কিন্তু একবার বিগড়ে গেলে গর্জে ওঠে বজ্রের মতো। দেখবি জাতি হিসেবে আমরা যদি আপন শক্তিতে এগুতে পারি – নিজস্ব মহিমা যদি ভুলে না যাই – মাথা উঁচু করে একদিন আমরা দাঁড়াবোই। এই বাঙালির ভাবনাই হয়ে উঠবে বিশ্বপ্রাণের ভাবনা।

বাবার কথায় টের পাওয়া যেত – রবীন্দ্রনাথকে তিনি গভীরভাবে আপন করে নিয়েছেন। বাংলাদেশের হৃদয় থেকে বিশ্বকে আপন করে নেবার দৃঢ় প্রত্যয় তার মুখে শুনেছে অনেকবার। বিশ্বরূপটা দেখে শিখে সেই আলোকে বিশ্ব সভায় মর্যাদার স্থান কেমন করে গড়ে নিতে হবে – বাবার দর্শনচিন্তা ছিল সরল ও অতি স্বচ্ছ। অন্যের ভালোকে নিতে হবে আপন করে, নিজের ভালোটাও অন্যকে দিতে হবে অকাতরে। আর মন্দকে সব সময় রাখতে হবে দূরে। মন্দ যেমন নিতেও নেই। মন্দ কিছু কাউকে দিতেও নেই।

বাবার সরল দর্শন, সরল চিন্তা। যে বাবার কঠোর বজ্র গর্জন শুনে একদিন সারাদেশের মানুষের মতো হাসুরা জেগেছিল অদম্য স্পৃহায়। সেই বাবার কোমল কল্যাণী দর্শন কথা শুনে হয়েছে আপ্লুুত। বাঙালকে কুঁড়ে ও কাঙাল হয়ে, দারিদ্র্যক্লিষ্ট হয়ে থাকলে চলবে না। জনবলকে রূপান্তর করতে হবে শক্তিতে; আজকের সুজলা সুফলা মাটি চিরকাল উর্বর থাকার কথা নয়; কাজে লাগাতে হবে হাতকে। মানুষকেই দক্ষতায় হয়ে উঠতে হবে সম্পদ। জনশক্তিকে খুঁজে নিতে হবে নিত্য নতুন কাজের সন্ধান।

বাবা মানুষ দক্ষিণের। কিন্তু উত্তরের প্রতি প্রবল টান; চট্টগ্রাম, সিলেট পুরো দেশটাই তার চোখের দর্পণে। তার স্বপ্ন – উত্তর দক্ষিণকে যদি সমান্তরাল সড়কে বেঁধে দেয়া যায় ঢাকার সঙ্গে। তখন আর অঞ্চল বৈষম্য থাকবে না। এমন একটা দেশ চাই, যেখানে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়; কিছু পাইনি – এমন কষ্টের আহাজারির যেন কারও মনে ঠাঁই না হয়। কৃষককে তার ফসলের দাম দিতে হবে। বেশি দিলেও ক্ষতি নেই; চাষীর পেটে দানাপানি মানেই ফসলের ক্ষেতে দানাপানি; খেতে দানাপানি মানেই তো খাদ্যে দেশের পেট ভরপুর। কিন্তু ফড়িয়া বাটপার যেন দাম লুটে নিতে না পারে – তা হলে উদ্বৃত্ত গুড় খেয়ে নেবে ডাসা লাল পিঁপড়ায়। ফড়িয়া মানে মজুদদারি, ফড়িয়া মানেই বাজারে লাগামছুট ঘোড়া। ফড়িয়া লুটের সুযোগ পেলে পুরো সিস্টেম অচল। লুটের ঘি-চর্বিতে সে হয়ে উঠবে ভয়ংকর রক্তচোষা দানব।

বাবার অর্থনৈতিক চিন্তাতে কোন কঠিনতত্ত্বের কচকচানি, ঘোর মারপ্যাঁচ নেই। তার কথা – আমি সরল অর্থনীতি বুঝি; সরলভাবেই বুঝতে চাই।

বিলাতে বেড়াতে আসার ক’দিন আগেও তার কথা শোনার সুযোগ হয়েছিল হাসুর। সুদের কারবারের বাড়াবাড়িকে তিনি বলছিলেন জঘন্য। তার পরিষ্কার চিন্তা দাদন সুদ তো ব্যবসায়ের লাভ নয় – দাদন হচ্ছে লাল রক্ত। বেঁধে রাখা দরিদ্র মানুষের শরীর থেকে চুয়ে চুয়ে পড়া তাজা খুন। সেই রক্ত চেটে খাচ্ছে দাদন-মহাজন। ভয়ংকর দাদন ব্যবস্থাকে কিভাবে জব্দ করা যায় তিনি পথ খুঁজছিলেন। তার মস্তিষ্কে ছিল ব্যাপক সমবায়। সমবায়ের নিবিড় নেটওয়ার্ক সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে দাদনের মুখে চপোটাঘাত করে জয়ী হবে কৃষক সংঘ। সমবায় জন্ম দেবে ক্ষুদ্র শিল্পের। আর এই তেজী বীজের একবার অঙ্কুর উদগম হলে দীর্ঘজীবী বৃক্ষ হবেই। আর তাতে ফুল পল্লবের সমারোহ আসবেই। আর এজন্য দেশের কৃষক-শ্রমিক-শিক্ষক-প্রশিক্ষক-ইঞ্জিনিয়ার সবাইকে এক সুতায় বাঁধতে হবে। বাংলাদেশকে হয়ে উঠতে হবে এক বাংলাদেশ।

আর একটা ব্যাপারে তার অবস্থান দেখেছে অনড়, কঠোর ও ইস্পাতদৃঢ়। দাদনের মোকাবেলায় ফরেন ফড়িয়ারা সুদ সংঘ হয়ে ছড়িয়ে পড়তে যেন না পারে। ওরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির মতো চুষে চুষে শুষে নিয়ে যাবে বাংলা মাটির সমস্ত নির্যাস। ওরা দাজ্জাল। কথিত কল্যাণের কোলাহল তুলে মানুষের মুখে তুলে দেবে জীবনমৃতের নামে তীব্র হলাহল। এসব অশুভ শক্তির পদধ্বনি টের পাচ্ছিলেন বাবা; সমবায় শক্তি, জাতীয় আত্মশক্তির উদ্বোধন ঘটাতে তিনি মরিয়া। একবার সিস্টেমটা চালু হলে দেখবি মা আর চিন্তা নেই; রেলগাড়িটা আপনাআপনি চলতে পারবে। তখন আমার ছুটি। আমি বিশ্রাম নিতে পারব। যে গুরুভার কর্তব্য দেশের মানুষ আমাকে ভালবেসে আমার উপর সঁপেছে, তার সরল সাধন হবে। আমিও মরতে পারবো টুঙ্গীপাড়ায় আপন ঠিকানায়। তোর মাও চাচ্ছে আমি ছুটি নেই। অনেক লড়াই সংগ্রাম তো করলাম; শেষ লড়াইটা লড়ে দেখি – জীবন তো একটাই। ভোগ আমার নয়, বিশ্রামও নয়; ত্যাগ তিতিক্ষা করে জীবনটা কাটালাম মা গো, আমরণ ত্যাগীই থাকতে চাই। মৃত্যুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি আমি; ওরা আমার ফাঁসির মঞ্চ তৈরি করছিল; সে সব দেখেও ভয় পাইনি; বাঙালি ভয় পেতে জানে না; এটাই জাতির সবচেয়ে বড় সম্পদ। আজ নির্ভীক, নির্লোভ বলেই আমরা স্বাধীন। এই স্বাধীনতা ধরে রাখতে চাই ধৈর্য, শৌর্য, ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং কষ্ট সহিষ্ণু মনোবল।

স্বাধীনতা মানে অফুরন্ত ভোগের দুয়ার খোলা: কেবল ভোজন আর আরাম – তা কিন্তু নয়। বরং মনে রাখতে হবে বহুরূপী ছায়াশত্রুরা ভোগ আর আরামের লোভ দেখিয়ে ছলে কৌশলে আমাদের দাদন-দাস করতে চাইবে। আমরা যেন ভোগ-আরামের দাস হয়ে আবার দাদন-দাস হয়ে না পড়ি। আজ দেশ ও জনগণের স্বার্থ বিকিয়ে যদি ওদের স্বার্থসিদ্ধির ক্রীড়ানক ও সেবাদাস হও; ওরা দেবে নানা জগৎ রঙিন পুরস্কার – যদি না হও প্রতিটি কাজে ও পদক্ষেপে বাগড়া দেবে। করবে ষড়যন্ত্র ও তিরস্কার। এই তিরস্কার মৃত্যুর মতো ভয়ংকর হতে পারে। সম্মুখ সমরে প্রত্যক্ষ শত্রুর ঘি মাখানো ফাঁসির রজ্জু দেখেছি। আর এখন শত্রুরা আড়ালে-অন্তরালে; যে রজ্জু পাকিয়ে ওরা সাপের দেহের মতো তেলতেলে করে তুলেছে – সেই রশি হয়তো দেখতে পাচ্ছি না কিন্তু তাই বলে নির্ভীক চিত্তের কোন বিকল্প নেই; আসুক মৃত্যু, বুকে বিধুক বিষ মাখানো ফলা – কিন্তু যে অন্তরাত্মার ডাকে ভালবেসেছি দেশ ও মানুষকে – সেই আত্মশ্লাঘার আত্মতৃপ্তির মৃত্যুও শ্রেয়।

আমি ভয় পাই না – এটা সর্বাংশে সত্য নয় মাগো – আমি ভয় পাই। একটা ভয় আমাকে তাড়া করে। আমার বড় ভয় – আমার কৃষক যেন ঠকে না যায়, মজুর গরীব যেন ঠকে না যায়। মাগো, বাঙালি যেন ঠকে না যায়।

বাবার কথাগুলো অক্ষরে অক্ষরে শুনতে পাচ্ছিল হাসু। বাবা যেন এই সামনে বসেই বলছেন – ছবির মতো দেখতে পাচ্ছিল সব। যত দেখতে পাচ্ছিল – ওর দু’চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে অশ্রু।

কেনো এমন হচ্ছে – বাবার পরম স্নেহ, নরম ছোঁয়া। মেঘ গমগম কণ্ঠ আর নীল আকাশের বিশাল ফ্রেমে জীবন্ত মুখটা যতই দেখছিল – কেবলি অশ্রু, কেবলি কান্না। বুকের ভেতর রক্ত ঝরানো কষ্ট প্রবল থেকে প্রবলতর হচ্ছে।

বাবার কি তবে গুরুতর কিছু হয়েছে?

চোখের সামনে দিব্যি বাবার চলচ্ছবি; আর অন্তরপটে খণ্ড খণ্ড মেঘের মতো খোয়া খোয়া ধূসর কষ্ট – আবার তার সবকিছুই ঝাপসা মেঘবারির অনিরুদ্ধ ধারায়।

বাবা, ও বাবা, তুমি ভালো আছো তো বাবা! তুমি ওসব কথা কেনো অমন করে বলছিলে – তোমার সরল সকল কথা ভাবনায় আসতেই আমি কেনো চোখের জলে ভেসে চলেছি!

আমি কেমন করে বিশ্বাস করি – তোমার কিছু হয়েছে। আমিও এখন ভয় পাচ্ছি খুব। প্রচণ্ড শঙ্কায় আমি – চারপাশের এই কয়েকজন মানুষ – ওরা যেন শোক-চাদর গায়ে নিঃশব্দে হাঁটছে। ওরা আমার চোখে শাদা ঘুম পাড়িয়ে দিতে চাইছে। আমি ক্লান্ত শক্তিহীন ঠিক, কিন্তু এ চোখে কোনোদিন বুঝি ঘুম আর আসবে না।

হাসু একাই কথা বলছিল আপন মনে। আবার তার মনে হচ্ছে –

নিশ্চয়ই সে এসব ভুলই ভাবছে! তার বাবার কিস্যুটিই হয়নি! কিন্তু ঢাকায় খারাপ খবর কিছু একটা ঘটেছে – মনের মধ্যে সেই শঙ্কা কষ্ট-পাথর হয়ে চেপে বসেছে। কোনোভাবেই তা থেকে মুক্তি নেই।

কামালকেও সেই দেখে এলো – ও আছে আগের মতোই। মাত্র মাসখানেক বিয়ে হলো – ও বদলায়নি একফোঁটাও। আপাতত চুপচাপ, কিন্তু ভীষণ কর্মচঞ্চল। কোনো কাজ হলেই কামাল ছুটে চলেছে। বাড়িতে নতুন বউ – কোনো পরোয়া নেই সেদিকে। দশের কাজ ফেলে ঘরে বসে থাকার ছেলে সে নয়।

সুলতানা খুকীর সঙ্গে ওকে মানিয়েছে খুব। বিয়ের সময় তোলা ছবিগুলোয় ওরা কি প্রাণময়! ওর জন্য এমন একটা দুরন্ত মিষ্টি বউই ওরা সবাই চাচ্ছিল। খুকীর চোখ বড় বড়। কিন্তু কি মায়াময়। ওর মধ্যে মায়ের মায়াবতী রূপটা দেখতে পেয়েছে। খেলার মাঠে কি যে দুরন্ত সে – দৌড়ে তার আগে আর কেউ নেই। ভার্সিটির স্পোর্টস-এ সেরার সেরা। আর বাড়িতে খুকী ঘরকুনো বউ। মুরব্বীদের প্রতি বিনয়ী সম্ভ্রম। ওর হাতের চা-কফি তো বাবার না হলে চলেই না।

জুলাই মাসে দু’টি বউ এলো – তখন বত্রিশ নম্বর বাড়ি একটুও বদলায়নি। ঠিক আগের মতোই।

কামাল-জামাল পিঠাপিঠি। খুকী ও রোজীও এলো যেন পরস্পরের হাত ধরে। ওদের বাড়িতে বকুল-শিউলির সমারোহ – ভোরের হাওয়ায় ঝুলন্ত মালতী। দু’টি বউই ফুলের সান্নিধ্যে কি যে খুশি।

রোজীকে দেখেছে অনেকবার – খোঁপায় গুঁজেছে ফুল। হাসু আপুর সামনে এসে সলাজ হাসি।

আর খুকীরও পছন্দ বকুল মালা।

আপু বলেন তো – কেমন লাগছে আমাকে!

হঠাৎ প্রশ্নে চমকে উঠল হাসু।

বিয়ের লাল বেনারসী পরণে খুকী না রোজী!

প্রশ্নটা কি করলো তো তাকেই! একসঙ্গে দু’জনে কোত্থেকে এসে দাঁড়াল সামনে।

রোজীর বিয়েতে কি পরণে লাল বেনারসী ছিল, নাকি রঙটা ছিলো উজ্জ্বল গোলাপি। ওর হাতে মেহেদীর রঙ কি তাজা ও প্রখর।

খুকী ও কামাল থাকছে তিনতলাতেই। বলতে গেলে চিলেকোঠা। মাত্র দুটি রুম সেখানে। ছোট্ট একটি ড্রইংরুম। কখনো কখনো আব্বা ওঠেন এখানে। ঘনিষ্ঠ সহচরদের সঙ্গে আলাপ সালাপ সারেন। আরেকটি রুম, সেটি কামালের। বলতে গেলে কামালের আদি নিবাস। ছাদের রুম যেমন হয় – বেশির ভাগ সময় রোদে পোড়া – বিকেলে রাতে লেক থেকে আসা ঠাণ্ডা হাওয়া। যখন বিয়ে করেনি রুমটি তার জন্য ঠিকই ছিল। বিয়ের পরও নববধূকে তুলেছে রাজ্যের অগোছালো কক্ষেই। খুকী সেটিকে গুছিয়ে পরিপাটি করেছে। কামালের সঙ্গে ছাদে থাকতে সেও আপত্তি করেনি।

জামাল অবশ্য নিজেই খুব পরিপাটি। আর্মি অফিসার। ওর কক্ষ কখনো অগোছালো দেখেনি কেউ। সামনের বারান্দা লাগোয়া ঝোপালো আম কাঁঠালের ছায়ায় রুমটি এমনিতেই ঠাণ্ডা। আম্মার জন্য অপরিসীম মমত্ব তার। মা এখনো তাকে চোখে চোখে রাখতে চান। পশ্চিম জার্মানিতে স্কলারশিপ নিয়ে গ্রাজুয়েশন প্রশিক্ষণ কোর্স করেছে এ বছর। তারপর পোস্ট গ্রাজুয়েশন করার সুবর্ণ সুযোগ ছিল। ঘনিষ্ঠজনেরা সবাই তেমন পরামর্শ দিচ্ছিল। আরও বছর খানেক থেকে গিয়ে কোর্স করে এলে পরে ভীষণ কাজে দেবে।

কিন্তু মায়ের টানে, নাড়ির টানে জামালের মন পড়েছিল বাড়িতে। মায়ের আঁচলের নিচে। ওর তর সইছিল না। মাও মাসের পর মাস জামালকে না দেখে ছিলেন প্রাণান্ত অস্থির। মনে হচ্ছিল জামাল জার্মানিতে নয়, ধরাছোঁয়ার বাইরে অন্য কোনো গ্রহে গেছে। আব্বার কাছেও তার অনুযোগ – এইভাবে দিনের পর দিন আর কতকাল সে বাইরে থাকবে। ঘরের ছেলে তাই হুট করে ফিরে এসেছিল বাড়িতে। উচ্চতর সাফল্যের জন্য আর বিলম্ব করেনি। এসেই কামালের বিয়ের সাত দিনের মাথায় তার ও রোজীর বিয়ে হলো। দু’টি নতুন বৌ-এর আগমনে বাড়িটি দারুণ পূর্ণতা পেয়েছিল।

মা আছেন। সঙ্গে দুই পুত্রবধূ। আব্বা-আম্মা অনেকদিন ধরে এই মধুর পূর্ণতাটুকু একান্তভাবে কামনা করছিলেন। মা এ জন্যই কিনা বলা মুশকিল – ফুটফুটে বোনঝিকে বৌ করে আনতে মেঝ ছেলেকে কাছে চাচ্ছিলেন।

খুকী ও রোজীর মিষ্টি হাতের ছোঁয়ায় বত্রিশ নম্বর বাড়ি এখন অপূর্ব সাজে সেজে উঠেছে। গাছের পাতা নিশ্চয়ই আরো সবুজ; ছায়া আরও ঘন; ফুল বনে আরও সুগন্ধ।

ছাদের রোদতপ্ত ঘরে খুকীর কষ্ট হচ্ছে না তো! কামাল একটা পাগল। ফুটবল, আবাহনী নিয়ে তো সে অজ্ঞান। বৌয়ের ভালোমন্দ দেখার তার সময় কোথায়! খুকী বেশ ঘরোয়া কন্যা। নিশ্চয়ই সবকিছু সামলে নিচ্ছে।

রোজীকে হাসু চেনে ছোটবেলা থেকে। যখন সে এতোটুকুন, তখন থেকেই গাল ফোলানো পুতুল পুতুল মিষ্টি। মুখটা ভীষণ মায়াকাড়া। স্বভাবে শান্ত। কম বয়সে কেমন চোখ বড় বড় করে কথা বলতো – এখনো তা মনে আছে।

কিছু একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে বত্রিশ নম্বর বাড়িতে। দু’টি নতুন বৌ – ওরা কেমন আছে? রাসেল ছোট্টভাইটি। আল্লাহ নিশ্চয়ই ওদের সহিসালামতে রেখেছেন। রাসেলের মুখটা চোখের সামনে ভাসলেই হাসুর চিত্তে অদ্ভুত এক অনুভব। সে যেন বাবার ছেলেবেলার মুখটা দেখতে পায় – ও সকলের ভীষণ আদরের। ইউরোপে এসে হাসুর সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছিল রাসেলকে চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছিল না বলে। ওকে সঙ্গে করে আনতে মন খুব চাচ্ছিল। কিন্তু ওর স্কুল আছে। আম্মাও তাকে কাছছাড়া করতে চাননি একদম।

বন শহরের কনিংসউইটারে এ্যামবাসেডর রেসিডেন্সে ওরা শেষ বিকেলে এসে পৌঁছেছিল। শেষ বিকেল। এই এলাকায়ও যেন করুণ বেহালা বেজে চলছিল। তাড়াহুড়া করে ব্রাসেলস ছেড়েছিল সেই সকালে। দানাপানি কিস্যুটি মুখে রোচেনি। পানিও মুখে নিতে পারছিল না। কি এক তিতে স্বাদ তাতে। রেহানার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। জয়, পুতলী থাকছেই সঙ্গে। কোলের কাছে বুকের কাছে। মনে হচ্ছে ওরা হাসুর অস্তিত্বের সঙ্গে বিলীন হতে চলেছে। আত্মজ, আত্মজাকে কাছে টেনে অবুঝের মতো নীরবে নিঃশব্দে হাহাকার করে যাচ্ছিল। কোথায় ছুটে চলেছে ওরা! কোন পথে! কোন ঠিকানার পানে!

বত্রিশ নম্বর বাড়িটা এখান থেকে কত দূরে! সেই আপনতম ঠিকানায় কেমন করে, কখন, কোন পথে যাবে! কে তাদের কয়েক মুহূর্তের মধ্যে নিয়ে যেতে পারে সেখানে! মন পবনের নৌকা কেবলই যে তীরগতিতে ছুটছে এবং ছুটছে সাত সাগর তের নদী পেরিয়ে!

বাবা, মা ভাইদের খবর জানতে হাসু তো আর কখনো এমন ভয়ংকর ব্যাকুল হয়ে পড়েনি। এবার এ কোন মনান্তরে পড়ল। পুরো একটা বেলা ছুটতে ছুটতে এই পাথুরে বাড়িতে পৌঁছুতেই বিকেল ফুরিয়ে গেল। এরপরও কত হাজার মাইল পাড়ি দেয়া বাকি।

কনিংসউইটারের বাড়িটি টিলার উপরে। চারপাশে সাজানো হালকা সবুজ। তিনতলা বাড়িটিতে ক’দিন আগেও থেকে গেছে আনন্দ আবাহনে। কিন্তু এখন চিনতেই পারছে না বাড়িটাকে। মনে হচ্ছে কখনোই যেন আসেনি। অচিনপুরে অচিন কোনো ঠিকানায় এসে পৌঁছেছে। কাছে দূরে হলুদ পাতারা ঝরছে। দূরে টিলা ও পাহাড়ের ওপর ঝুলে পড়া আকাশে রক্ত রেখার আলপনা। সন্ধ্যায় অন্তিম লগ্নে বাড়ির আকাশে এমনটা অনেকবার দেখেছে! ইউরোপের আকাশও বুঝি ভিন্ন কিছু নয়। ছেলেবেলায় অনেক শুনেছে বিষাদ কারবালার কাহিনী। শুনেছে ওই রক্তলাল আকাশ ফোরাত দজলা তীরের বিশাদঘন দৃশ্যের শোকরঞ্জিত। আজ ওই রক্তাম্বর কি তবে সারা পৃথিবী জুড়েই দৃশ্যমান!

আজ কী হয়েছে মুজিব কন্যাটির! ওর দু’চোখ চুয়ে চুয়ে নোনা অশ্রুজলে ধুয়ে যাওয়া রক্ত ঝরছে কেনো! জয়, পুতলী এভাবে ওর শরীরে লেপ্টে কেনো! ওদেরকে তোমরা এক মুহূর্তের জন্য সরিয়ে নাও। হাসুকে কয়েকটা মুহূর্ত একা থাকতে দাও। তার দু’চোখে জলপ্রপাতের প্রবল উচ্ছ্বাস। কিছুতেই রুখতে পারছে না। হাসু এখন একান্তে একটু কাঁদতে চায়। তার যে অনেক কান্না বাকি!

ব্রাসেলস থেকে বন পর্যন্ত কালো কার্পেট পাতা পথ জুড়ে কি সুন্দর বনশোভা! পথের দিগন্তে ঘন নীল পাহাড়ের সারি। তার মাঝ দিয়ে দৌঁড়ে চলা পথ তো নয় – যেন নিরুদ্দেশের গন্তব্য। বনশোভা, নীল পাহাড় – এসব কিছুই আজ আর দেখতে পায়নি হাসু। কখনো কখনো নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল। রেহানা, জয়, পুতলী – ওরা কোথায় চলেছে – মন ও মস্তিষ্ক এলোমেলো হয়ে পড়ছিল।

এ্যামবাসেডর হাউসে পৌঁছে দেখা গেল এ্যামবাসেডর হুমায়ুন, বেগম হুমায়ুন; এমন কি ড. কামাল সাহেব সেখানে রয়েছেন। তারা এগিয়ে এলেন ওদেরকে দেখে। হাত ধরাধরি করে ড্রইংরুমে বসালেন।

ওনাদের দেখে স্বস্তি মিলল ক্ষনিকের। এবার নিশ্চয়ই ঢাকার খবর জানতে পারবে! কামাল সাহেব আশা করি সব কিছু জানাবেন। আব্বার কেবিনেটের ফরেন মিনিস্টার। উনি ইতিমধ্যেই আসল খবরটা জেনেছেন। (চলবে…)

অলংকরণ: শিল্পী শাহাবুদ্দিন ও উত্তম সেন

Channel-i-Tv-Live-Motiom

শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

অযু করার সময় বজ্রপাতে মাদ্রাসার ৩ ছাত্র নিহত

জুন ২১, ২০২৬

প্রকৃতি ও জীবন ক্লাব ভৈরবের নতুন কমিটি, পরিবেশ রক্ষায় কর্মপরিকল্পনা

জুন ২১, ২০২৬

শাইখ সিরাজের সাথে ইরির বাংলাদেশ প্রধানের সাক্ষাত

জুন ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশগামীদের দক্ষ করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে: প্রধানমন্ত্রী

জুন ২১, ২০২৬

প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জুন ২১, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey June 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • ফিফা ২০২৬
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT