বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ ফেরদৌস ওয়াহিদ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে একটু ভিন্নধর্মী গান দিয়ে বাংলা গানের জগতে প্রবেশ করেন। সেই সময়ে তার গাওয়া গানগুলোর আবেদন আজও যেন এতটুকু কমেনি। তার গানের তালিকায় রয়েছে মামনিয়া, এমন একটা মা দে না সহ অসংখ্য জনপ্রিয় গান। গেল শুক্রবার তিনি সিটি ব্যাংক এনএ’র ‘গানে গানে গুণীজন’ সংবর্ধনা’ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে তার অনুুভূতি এবং সাম্প্রতিক নানা ব্যস্ততা নিয়ে কথা হলো চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে-
‘গানে গানে গুণীজন সংবর্ধনা’ পেলেন, এমন স্বীকৃতি পেয়ে কেমন লাগছে আপনার?
খুব ভালো লাগছে। এটা একটা অদ্ভুত অনুভূতি। মানুষের ভালোবাসার পাশাপাশি যখন একটা স্বীকৃতি পাওয়া যায় এটা খুবই আনন্দের। শুক্রবারের যে আয়োজনটা ছিল সেটা পুরোপুরি আমাকে ঘিরে। আমার তো মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল, আমি যেই সংবর্ধনা পাচ্ছি সত্যিই কি আমি এতটা অবদান রাখতে পেরেছি কিনা!

আগামীতে গান নিয়ে নতুন কোনো প্ল্যান আছে?
শুক্রবার পুরস্কার পাবার পরে আমার মনে হয়েছে, গানের প্রতি আমার দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেছে। আমাকে আরও বেশ কিছু গান তৈরি করে দিতে হবে। আমি সবাইকে ডেকেছি, আমরা নতুন আরও কিছু কাজ করতে চাইছি।
আপনার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে আপনার কোনটি প্রিয়?
‘মামুনিয়া’ কিংবা ‘আগে যদি জানতাম’ গানগুলোর আবেদন ৪২ বছরেও শ্রোতাদের কাছে ফুরায়নি। ঠিক তেমনি আবেদন রয়েছে আমার কাছেও। এতদিন একটা গান টিকে থাকা আসলে বিশাল ব্যাপার।
সামনে কোনো স্টেজ পারফর্মেন্স আছে?
সে তো সবসময়ই চলছে। দেশে এবং দেশের বাইরে। এইতো মার্চের ২৯ তারিখ কানাডা যাচ্ছি আমি এবং আমার ছেলে সংগীতশিল্পী হাবিব। সেখানে ৫ টি কনসার্ট করবো আমরা। এটা আমার জন্য খুব মধুর লাগে বাবা এবং ছেলে একই মঞ্চে গাইতে পারা।

শুধু গান নয়, নিজেকে উপস্থাপন করার ঢংয়েও এত বছরে কোনো পরিবর্তন হয়নি এর পেছনের রহস্য কি?
সবই আল্লাহর ইচ্ছা। তিনি আমাকে সুস্থ রেখেছেন শারীরিকভাবে। তাছাড়া আমি মনে করি, গানের পাশাপাশি নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারা দর্শকদের জন্য একটা বাড়তি আকর্ষণ। দর্শকরা আসলে গানের পাশাপাশি একটু নান্দনিকতা পছন্দ করে। যেমন: একটু নাচ, পোশাক পরিচ্ছদ, হাত-পা নাড়া। এগুলো ভালো কি মন্দ তা জানি না। কিন্তু দুনিয়া জুড়েই তো এসব চলছে। তবে আমরা কেন পিছিয়ে থাকবো? ৪২ বছর ধরে করে আসছি এসব, আজও করবো।
ধন্যবাদ চ্যানেল আই অনলাইনকে সময় দেবার জন্য
আপনাকেও ধন্যবাদ
ছবি: সাকিব-উল-ইসলাম








