২০১৭-১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ঘোষণার আগে ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ অনুষ্ঠানে পাওয়া কৃষি ও এর উপখাতগুলোতে সরকারের বরাদ্দ ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার সুপারিশ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এবারের সুপারিশমালায় কৃষিতে সরকারি বরাদ্দ ও পরিকল্পনা সম্পর্কে কৃষিজীবী জনগোষ্ঠীর সচেতনতা সৃষ্টিতে বিশেষ বরাদ্দ, হাওরের জন্য পরিকল্পিত ও গবেষণামূলক পরিকল্পনা, আগামী দিনের কৃষি উদ্যোক্তার সঙ্গে কৃষকের অংশীদারিত্বের একটি নীতিমালা প্রণয়ন এবং ফলন মৌসুমে কৃষিপণ্য আমদানি নিরুৎসাহিত করতে আমদানি কর বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। সুপারিশমালায় প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের দাবি, প্রত্যাশা ও চাহিদা রাষ্ট্রের সামনে উপস্থাপনের এই অর্থবহ ও কার্যকর আয়োজনকে আমরা স্বাগত জানাই। কেননা এর মধ্য দিয়ে কৃষক ও সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হয়ে গেছে বলে আমরা মনে করি। এ সুপারিশগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তা বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আমাদের বিশ্বাস। কেননা এ সুপারিশমালা প্রান্তিক কৃষক এবং কৃষি সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সরাসরি পাওয়া মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সুনাম রয়েছে। কিন্তু কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক অপ্রতুল বলে স্বীকার করতে হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এটা বিরাট অন্তরায় বলে আমরা মনে করি। তাই ধারাবাহিকভাবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে হলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আরো বেশি উদ্যোগী হওয়া এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ছাড়া বিকল্প নেই। কিন্তু এর বদলে সর্বশেষ হাওরাঞ্চলে পাহাড়ি ঢলে আগাম বন্যায় ওই অঞ্চলের কৃষককে আমরা সর্বশান্ত হতে দেখেছি। এছাড়া দেশের অন্যান্য আরো অনেক জায়গায় ন্যায্যমূল্য না পাওয়াসহ নানা কারণে কৃষি পেশা ছেড়ে কৃষকদের শহরমূখী হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এটা কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য অশনি সংকেত বলে আমাদের স্বীকার করতে হবে। তাই হাওরাঞ্চলসহ সারাদেশের কৃষকের উন্নয়নের বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়ে আসন্ন বাজেটকে বিগত বাজেটগুলোর চেয়ে আরো বেশি কৃষিবান্ধব করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের উদাত্ত আহ্বান রইলো।







