বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন মাত্রায় আনন্দিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ব্যবসায়ীদের এক অনুষ্ঠানে দেশটির রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, প্রতিবেশি দু’দেশের উন্নয়ন মানে দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী উপস্থিতি। কারণ প্রেসিডেন্ট ওবামা ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক করিডর আইপেক-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগে আগ্রহী।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের পর দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো আন্তরিক হয়েছে বলে মনে করছেন শক্তিশালী দেশ ও জোটের নেতারা।
বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ ও বাণিজ্য আছে এমন উদ্যোক্তাদের সংগঠন ফিকি’র মধ্যাহ্ন ভোজে বিষয়টি খোলাসা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।
হাজার হাজার মাইল দূরের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেন এতো আগ্রহী? তাও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। এ অঞ্চলের প্রায় দুশ’ কোটি মানুষ আর সাড়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ।
আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক এবং ইতিবাচক সফর নিয়ে আমি ভীষণ আনন্দিত। তার সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে যেসব চুক্তি ও সমঝোতা সই হয়েছে তাতে বোঝা যায়, এ অঞ্চলের অর্থনীতির উন্নয়নে দু’নেতাই জোরালো ভূমিকা রাখবেন।
নরেন্দ্র মোদিতো বলেই দিয়েছেন, প্রতিবেশির উন্নতি ছাড়া ভারত উন্নত হতে পারবে না। আমি বিষয়টি নিয়ে দারুণ আশাবাদী। প্রেসিডেন্ট ওবামাও চাইছেন, ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক করিডর আইপিইসির মাধ্যমে এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থবহ সম্পর্ক উন্নয়ন করতে।
বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল-ভুটানের আন্তঃযোগাযোগ চুক্তিকেও আগাম স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
সন্ত্রাসীদের কোনো সীমা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল এবং ভুটানের মধ্যে সড়ক যোগযোগ চুক্তিকে আমি স্বাগত জানাই। এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার হলেও হতে পারে। তবে এও মনে রাখা দরকার, সন্ত্রাসীদের কোনো সীমানার দরকার নেই।
‘তারা এমনিতেই হীন কর্মকাণ্ড করে বেড়ায়। আমি তো বরং মনে করি, মানুষে-মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের মোকাবিলা করা সহজ। কাজেই এ অঞ্চলে পণ্য এবং মানুষের সহজ চলাচলের পক্ষে আমরা।’
এসময় ব্যবসায়ীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
তিনি ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন করে জানার চেষ্টা করেন, বাংলাদেশে ব্যবসা করতে কী কী অসুবিধার মুখে পড়তে হয়।







