চ্যানেল আই অনলাইন
Advertisement
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সব টেলিভিশনেরই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী: হারুন-অর-রশীদ

রাজু আলীমরাজু আলীম
৮:১২ পূর্বাহ্ণ ২৫, ডিসেম্বর ২০১৮
সাক্ষাতকার
A A

২৫ ডিসেম্বর পৃথিবীর প্রথম বাংলা ভাষার চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশনের ৫৪ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। সম্প্রতি বিটিভি’র জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক বিশেষ সাক্ষাতকার দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি মহাপরিচালক এস এম হারুন-অর-রশীদ।

তিনি ১৪ জানুয়ারি ২০১৬ তারিখে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। সাংবাদিক, নাট্যকার ও সংস্কৃতি কর্মী হারুন-অর-রশীদ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। পেশাগত জীবনে তিনি বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের একজন সদস্য হিসেবে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর বহুমুখী কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বর্তমান পদে যোগদানের পূর্বে তিনি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন অফিসে তিনি দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। হারুন-অর-রশীদ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া তিনি রিয়াদ বাংলাদেশ মিশনেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। মানব সম্পদ উন্নয়ন ও ফ্রিকোয়েন্সি ম্যানেজমেন্ট এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তির উপর তিনি প্রভূত দক্ষতা অর্জন করেছেন। গণমাধ্যম ও যোগাযোগের উপর তিনি একজন বিশিষ্ট রিসোর্স পার্সন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ভারত, বেলজিয়াম, সিঙ্গাপুর এবং হংকং থেকে হারুন-অর-রশীদ টেলিকম ম্যানেজমেন্ট, গণমাধ্যমের বিষয়বস্তু উন্নয়ন এবং ট্রান্সমিশন ও ব্রডকাস্ট বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

এই প্রশিক্ষণ গুলো তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে, তিনি হয়েছেন ঋদ্ধ। দেশের একজন প্রখ্যাত নতুনত্ব ও বিষয় বৈচিত্র্য নাট্যকার হিসেবে তিনি বেশ কিছু টেলিভিশন নাটক লিখেছেন। টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে জন্য তিনি বেশ কিছু পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেন।

Reneta

গণমাধ্যম ও যোগাযোগে অবদানের জন্য তিনি বহু পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেছেন। হারুন-অর-রশীদ ১৯৬২ সালে সিরাজগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সিরাজগঞ্জ বাংলাদেশের নদী তীরবর্তী একটি জেলা। যেখানে মানুষ ও প্রকৃতি উত্তাল যমুনার প্রবহমানতার সাথে প্রাণিত হয়। বাল্যকাল থেকেই হারুন-অর-রশীদ নদীর গতি আর প্রকৃতির সৌন্দর্যে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ লাভ করেন। আর নদীর সাথে তাঁর এই সখ্য তাঁকে নন্দনতত্ত্বে যেমন সমৃদ্ধ করেছে তেমনি তাঁকে দায়িত্বপরায়ণ, বিনয়ী এবং অনুভূতিপরায়ণ করেছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মদিন উপলক্ষে এই স্বনামধন্য নাট্য ব্যক্তিত্বের সাথে আলাপচারিতা তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন : বাংলাদেশ টেলিভিশনের ২৫ বছর। এই পথচলা সম্পর্কে কি বলতে চান?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি মানুষকে শুভেচ্ছা জানাই। আমাদের দর্শক, পৃষ্ঠপোষক, শুভানুধ্যায়ী আর বাংলাদেশ টেলিভিশন যেহেতু সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত হয় সেহেতু সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা এবং শুভেচ্ছা জানাই-যারা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো মানুষ। মানুষের জন্যে কাজ করা। এই দেশের সাধারণ মানুষ যারা আমাদের সকল প্রেরণার উৎস। যারা আমাদের শক্তি তাদের প্রতি অকুণ্ঠ ভালবাসা, শুভেচ্ছা এবং শ্রদ্ধা।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ টেলিভিশনের শুধু প্রধান ব্যক্তিই নয়। আপনি একই সাথে এই টেলিভিশনের একজন শিল্পীও। তাই জানতে চাই একজন নাট্যকার, অভিনয় শিল্পী এবং মহাপরিচালক হিসেবে আপনার অনুভূতি কি বিটিভি’র ৪৫ বছরে?

এস এম হারুন-অর-রশীদ: এটি অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা আমার জন্যে। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন থেকেই বিতর্ক এবং নাটকের সুবাদে বিটিভি’র সাথে সম্পৃক্ত হই এবং তখন শুধুমাত্র এই একটি টেলিভিশনই ছিল।

প্রশ্ন : কত সালের কথা?

এস এম হারুন-অর-রশীদ: ১৯৭৯ সালের শেষের দিকের কথা। তখন আমাদের অনুভূতি ছিল- টেলিভিশন মানে আমরা চিনতাম যে,  স্টুডিও – কিছু বাইরের কাজ আর টেলিভিশন মানে মনে করতাম প্রযোজক। কে ডিজি, কে জেনারেল ম্যানেজার? এটি জানার কোন অবকাশ ছিল না। এমনকি প্রয়োজনও ছিল না। সেই মহাপরিচালকের পদটি তখন ছিল দূরের একটি নক্ষত্র। আজকে সেই জায়গায় কাজ করতে গিয়ে এখন আমি যেটি অনুভব করি- প্রথমত সেই অদেখা মানুষটির জায়গায় আমি বসেছি। এটি অবশ্যই একটি অভিজ্ঞতা। তবে পাশাপাশি আরেকটি জিনিস কিন্তু পরিবর্তন হয়ে গেছে সেটা হলো আমাদের দূরের এবং কাছের যে ব্যবধান সব ক্ষেত্রেই কিন্তু সেই ব্যবধান অনেক কমে এসেছে। আজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে যতো সহজে যেতে পারি তা টেকনোলজির মাধ্যমেই হোক- উপনিবেশিক সময়ে বা পরাধীনতার সময়ে কিংবা অগণতান্ত্রিক সময়ে তা কিন্তু এতো সহজ ছিল না?

যতো গণতন্ত্র বিকশিত হবে- দেশে যতো মানুষের সৃষ্টিশীলতা পৃষ্ঠপোষকতা পাবে- তখন কে বড় পদে চাকরি করে কে সাধারণ মানুষ কে শিল্পপতি কে ডিরেক্টর বা অভিনেতা- এই ব্যবধান কিন্তু কমে আসবে? সেই কমার জায়গায় চমৎকার একটা স্মার্ট সময়ে চারিদিকে সবাই যখন স্বপ্রতিভ কাজ করছে সৃষ্টিশীলতা প্রতিনিয়ত নতুন মাত্রা পাচ্ছে এই সময়ে টেলিভিশনে কাজ করা।

প্রথমত এটি হচ্ছে আমার তারুণ্যের সময় থেকে এখনকার বিচারিকভাবে অনন্য অভিজ্ঞতা এবং নিঃসন্দেহে এক্সাইটিং। এর পাশাপাশি অনেক দায়িত্ববোধের জায়গায় আমরা পৌছে গেছি- এতোটা দায়িত্ব বোধ হয় আমার মনে হয় না আগে পালন করতে হতো?

প্রশ্ন : আপনি যখন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন তখন কি ভেবেছিলেন আপনি টেলিভিশনে কাজ করবেন?

এস এম হারুন-অর-রশীদ: না। এই রকম ভাবনা ছিল না। তবে আমার ঝোঁক ছিল সাংবাদিকতায়।

প্রশ্ন : আপনি তো সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: আমি বাংলাদেশ অবজারভারে এবং আরও কিছু পত্র পত্রিকায় কাজ করেছি। তখন সাংবাদিকতা মানে প্রিন্ট মিডিয়ার ব্যাপারে আমরা বেশি কনসার্ন ছিলাম। টেলিভিশন সাংবাদিকতা ভবিষ্যতে এতো বড় একটি গুরুত্বপূর্ন, মর্যাদাবান এবং একই সাথে আর্থিক দিক দিয়ে লাভজনক পেশায় পরিণত হবে তা আমরা ভাবিনি। তা বুঝলে হয়তো আমি আমলার চাকরিতে যোগদান করতাম না। অবাক হয়ে দেখতাম যারা টেলিভিশনে কাজ করতেন তাদেরকে। তবে নিজে কাজ করবো টেলিভিশনে তা কখনো ভাবিনি।

প্রশ্ন : এখনকার টেলিভিশন সাংবাদিকতা ধীরে ধীরে কোন অবস্থার দিকে যাচ্ছে- কি মনে হয় আপনার?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: আমি টেলিভিশনের ক্ষেত্রে বলি- পত্র পত্রিকার জায়গায় যাব না। তখন বলা হতো টেলিভিশনে তুমি যা দেখাবে তাই দর্শক দেখবে। এখন কিন্তু এই থিওরি অচল। এখন টেলিভিশনে যা দেখাবো তা দর্শক দেখবে না।

দর্শকের এখন অসংখ্য অপশন আছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, চ্যানেল আই বা যে কোন টেলিভিশন তারা যা দেখাবে মানুষ তা দেখতে বাধ্য না? ষ্মল ডিভাইস এখন মানুষের হাতে। নেটক্লিক্সে গিয়ে সে তার পছন্দের প্রোগ্রাম দেখতে পাচ্ছে। সুতরাং টেলিভিশনকে কিন্তু এখন অনেক বেশি নিজেকে আস্থাশীল, তার যে সততা এবং নিষ্ঠার জায়গা- তা প্রতিদিন প্রতি মুহুর্তে প্রমাণ করতে হচ্ছে। সুতরাং সেই আগের তুলনায় এখন টেলিভিশনের প্রোগ্রাম করা বেশ কঠিন। ঘরে ঘরে আমাদের জীবন যাত্রার মান বেড়েছে। বাড়িতে বাড়িতে রঙিন টেলিভিশন ইন্টারনেট আছে। এই কারণে রুচিশীলতার জায়গায়ও পরিবর্তন এসেছে। তাই আপনি যা করছেন তা আমি তির্যকভাবে দেখার চেষ্টা করবো। আমি আমার মত করে বিশ্লেষণ করবো এবং আমি অন্য মাধ্যম থেকেও তথ্য সংগ্রহ করবো।

সেখানে যদি টেলিভিশন কন্ট্রাডিকটরি কোন কিছু করে তাহলে তা মানুষের কাছে কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হবে না। এটি সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

প্রশ্ন : সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই ব্যাপারে বিটিভি’র প্রস্তুতি কি?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: বিটিভিসহ সব টেলিভিশনেরই প্রস্তুতি আমি মনে করি একই রকম। যখন দেশে নির্বাচন হয় তখন আমরা সবাই নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে যাই। সুতরাং নির্বাচন কমিশনের যে নির্দেশনা এবং পরামর্শ তা অনুযায়ীই আমাদের কাজ করতে হয়। আমাদের কাজটা কি? আমাদের কাজ হলো নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশন যাতে কাজটা ঠিকঠাক উৎসব মুখর পরিবেশে শান্তি শৃংখলা বজায় রেখে করতে পারে তাদের সহায়ক শক্তি হিসাবে আমরা কাজ করে থাকি। সেই কাজ আমরা করছি।

প্রশ্ন : বিজয়ের মাসে বিটিভি নানা অনুষ্ঠান করে। এই বছরের বিজয়ের মাসে আপনারা কি ধরণের অনুষ্ঠান প্রচার করছেন?

এস এম হারুন-অর-রশীদ: এখনকার যারা ৩০-৩৫ বছরের তরুণ তারা তো মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। আমি মনে করি মুক্তিযুদ্ধের যে উৎসব সে দেখছে কিন্তু সেই উৎসব অর্জনের জন্যে আমাদের যে ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা, আমাদের যে ত্যাগ তিতিক্ষা, আমাদের যে আত্মদান- সেই আত্মদান আমরা যদি আমাদের দর্শককে বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণ কিশোর- তাদের কে যদি উপলব্ধি করাতে পারি তাহলে তাদের দেশপ্রেমের যে জায়গাটি আছে তা আরও গভীর হবে। তাই বাংলাদেশ টেলিভিশন যে কাজটা আমরা করি, বিজয়ের মাসে একটু বিশেষভাবে। এর সাথে সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট- এই বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করি। আমি বলবো না যে- আমরা তুলে ধরতে সাংঘাতিক সক্ষম? আমাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। সৃজনশীল এবং কারিগরি সীমাবদ্ধতা আছে আমাদের। কিন্তু আমাদের ইচ্ছার কোন অভাব নেই। চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং সবাইকে আহ্বান করি যে, আপনারা আমাদের এই সমস্ত প্রচেষ্টার সাথে সম্পৃক্ত হোন। বাংলাদেশ টেলিভিশন এই দেশের মানুষের টেলিভিশন। এটি কোন ব্যক্তি কোন কোম্পানী বা কোন গ্রুপের টেলিভিশন না। সাধারণ মানুষের মালিকানা তাই আপনাদের শুধু মালিকানা থাকলেই হবে না? আপনি এখানে আসবেন শুধু দর্শক হিসাবে না। তাই বাংলাদেশ টেলিভিশনকে সমৃদ্ধ করার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের।

প্রশ্ন : অনেক প্রাইভেট টেলিভিশন এসেছে এখন। দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে আপনাদের দায়িত্ব কি অন্যদের তুলনায় বেশি এবং প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বিটিভি’র অবস্থা কোথায়?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: যে কোন গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা কিন্তু একই। কিন্তু আমাদের একটু বাড়তি দায়িত্ব আছে। প্রথমত- বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যারেকটার। প্রতিটি টেলিভিশনেরই আলাদা আলাদা ক্যারেকটার আছে। কোনটা নিউজ চ্যানেল, কোনটা এন্টারটেইনমেন্ট চ্যানেল, আবার কোনটা মিক্সড চ্যানেল। বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং চ্যানেল আই মিক্সড চ্যানেল। তাই আমাদেরকে শুধু সংবাদ দিয়ে বা শুধু প্রোগ্রাম দিয়ে বিচার করলে হবে না? অন্য চ্যানেলগুলোতে মালিক আছেন। যারা এর লাভ ক্ষতির সাথে সম্পৃক্ত। কিন্তু বাংলাদেশ টেলিভিশনের মালিকানা সরকার। সরকার মানে জনগণ। সুতরাং আমাদেরকে কিন্তু সব পেশা, সব ধর্ম এবং সকল মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে অনুষ্ঠান তৈরী করতে হয়। আমরা চাইলের খুব বেশি গ্ল্যামারাস প্রোগ্রাম ওই অর্থে করতে পারি না।টেলিভিশনের কাজ কি? এর কাজ হলো টু ইনফর্ম, টু এডুকেট এন্ড টু এন্টারটেইন। আমি মানুষকে তথ্যটা দেবো, শিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করবো এবং সেই সাথে আমি বিনোদন দেবো। শিক্ষা আমি দেবো? ওইভাবে মানুষ আমার কাছে শিখবে কেন? শিক্ষার অনেক ক্ষেত্র আছে। তাই এর সাথে আরও কিছু জিনিস আমি যোগ করতে চাই। সেটা হলো- টু পারস্যু। পারস্যু কি? তুমি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকো। তুমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে থাকো। তুমি আমাদের ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের পক্ষে থাকো। আমাদের যে জাতীয় সংগীত তা তুমি শুধু মুখে কণ্ঠ দিয়ে গেয়ো না? এটাকে তুমি ভেতর থেকে ধারণ করো। তাই এই কাজটি বাংলাদেশ টেলিভিশনকে করতে হয়। আরেকটা হলো- আমরা মানুষকে আশ্বস্ত করতে চাই। চারিদিকে নানা ঘটনা ঘটছে। ঘটবে না কেন? ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে। সড়ক দূর্ঘটনাও ঘটে। এই সবই ঘটবে। এই নিউজটা আমরা দেখাতে চাই। জনদুর্ভোগের ঘটনা আমরা দেখাবো না কেন? এইগুলো তো আর মিথ্যা নয়? কিন্তু জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, এই ঘটনা ঘটছে কিন্তু এই ঘটনার উত্তরণেও কিছু কিছু কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।মানুষকে নিরাশার দিকে ঠেলে দেওয়া পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাষ্টিংয়ের কাজ নয়।এই বিষয়ে আমাদেরকে অনেক বেশি সচেতন থাকতে হয়। মানুষ যেনো কোনভাবেই আমাদের কাছ থেকে কোন নেতিবাচক ধারণা না পান এবং মানুষকে উৎসাহিত করা জীবনের পজিটিভিটির দিকে। নেগেটিভিটির দিকে ঠেলে দিলে তা আমাদের বড় ভুল হয়ে যাবে। তাই আমাদেরকে সবার কথাই বিবেচনা করতে হয়। এই কাজটি খুব কঠিন এবং তা যে আমরা খুব সুচারুভাবে করতে পারি তা না? কিন্তু আমরা করার চেষ্টা করি।

প্রশ্ন : আরণ্যক নাট্যদলের সদস্য হিসেবে ইবলিশ নাটকে অভিনয় করা এবং তা যখন বাংলাদেশ টেলিভিশনে অনএয়ার হয়- এই অভিজ্ঞতা কেমন?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর-শুধু তাই নয় এর আগে আমি তথ্য মন্ত্রণালয়ে জয়েন্ট সেক্রেটারী এডিশনাল সেক্রেটারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছি। যেহেতু টেলিভিশন আমার পারভিউতে ছিল। এখানকার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণের সাথে আমি সম্পৃক্ত। এই দায়িত্বে আসার পরে আমি টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করি না। কারণ হলো- অনেক ক্ষেত্রে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই তিন বছরে টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে চাকরি এবং আরও এক বছর তথ্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করা মোট চার বছরে সহকর্মীদের পীড়াপীড়িতে মাত্র একটি নাটকে অভিনয় করেছি। আর কিন্তু আমি অভিনয় করি না। কারণ হলো- অভিনয় করলে আমি ব্যবস্থাপনার দিকে দুর্বল হয়ে যাব। তাই টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করি না তবে মঞ্চে অভিনয় করি।

প্রশ্ন : ২৫ তারিখ বিটিভি’র জন্মদিনের আয়োজন সম্পর্কে জানতে চাই?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: ঘটা করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা দিবস আমরা পালন করি না। তবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের কয়েকটি বিশেষত্ব আছে শুরু থেকে আমি তা জানাতে চাই আজকের সুবাদে।তা হলো- বাংলাদেশ টেলিভিশন যখন যাত্রা শুরু করে ঢাকায় রাজউক ভবনে। আমাদের অগ্রজরা যারা শুরু করেছিলেন তারা অসাধারণ কাজ করেছিলেন। সেই পরাধীন দেশে ১৯৬৪ সালে আইয়ুব খানে মার্শাল ল’ এর সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন তার সব অনুষ্ঠান বাংলা ভাষায় করেছে অন্য ভাষায় কোন অনুষ্ঠান করেনি সেই পরাধীন সময়েও।বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন জায়গা থাকে পয়েন্ট- সবাই লেখে অনএয়ার। আমরা বলি ধারণ চলছে বা নিরব এলাকা এইভাবে লেখা কিন্তু সেই আমল থেকে। পাকিস্তানের সেই সময়ে বাংলা ভাষায় প্রথম চেকটি লেখা হয় বাংলাদেশ টেলিভিশনে। তাই বাংলাদেশ টেলিভিশনের যে সূচনা একেবারে বাংলা দিয়ে । পৃথিবীতে বাংলা ভাষার প্রথম টেলিভিশন হলো বাংলাদেশ টেলিভিশন।এই অঞ্চলের প্রথম টেলিভিশন হলো বাংলাদেশ টেলিভিশন।এটি একটি সুখকর ষ্মৃতি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সব টেলিভিশনেরই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী। এটি শুধু আমাদের না। সবাই উদযাপন করে। তাই আমাদের উদযাপন হয়ে যায়। তিবে ষ্ক্রিনে কিছু কাজ তো আমরা করবোই। যেমন, চ্যানেল আই প্রতিবছর বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করে। এটি একটি বিরাট ব্যাপার। চ্যানেল আই উদযাপন করছে। এর কারণ- চ্যানেল আই বাংলাদেশ টেলিভিশনকে ষ্মরণ এবং ধারণ করছে । অন্য টেলিভিশনও কিন্তু বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং আমাদের অগ্রজদেরকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে ষ্মরণ করেন। চ্যানেল আইতে সকাল বেলা বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন আমাদেরকে রিফ্রেশ করে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের সিনিয়র শিল্পী, কলাকুশলী ও অভিনেতারা চ্যানেল আইয়ের এই আয়োজনে যোগ দেন। সবাই আমাদেরকে মনে করিয়ে দেন, তোমরা ঠিকঠাক মতো কাজ করো। তাই এটি আমাদের জন্যে সুখকর অভিজ্ঞতা এবং আমাদের দায়িত্বকে ষ্মরণ করিয়ে দেয়।কিছুদিন পর এমন হবে চ্যানেল আইয়ের সেলিব্রেশন হবে অন্য একটি চ্যানেলে।এই রকমই হওয়া উচিৎ তাই হচ্ছে এবং আগামীতে আরও হবে।

প্রশ্ন : ২৫ তারিখ সকালে চ্যানেল আইতে বিটিভি’র জন্মদিনের আয়োজনে আপনার সাথে অবশ্যই দেখা হবে?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: অবশ্যই। চ্যানেল আইকে ধন্যবাদ জানাই। আজকাল আমরা অনেক কিছু স্বীকার করতে দ্বিধা বোধ করি। আমার যিনি গুরু আমি যার কাছে বড় হয়েছি- তাকে তো অস্বীকার করতে পারি না? তারুণ্যকে তো আর অস্বীকার করতে পারি না? আজকে পরিণত বয়সে এসে আমি ভাল আছি, ভাল জামা কাপড় পড়ছি, ভাল খাবার খাচ্ছি কিন্তু আমার তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের সাথে সেই সময়ে যে কিছু সংকটও ছিল তা তো অস্বীকার করতে পারি না? এই কাজটি চ্যানেল আই করে তাই চ্যানেল আই পরিবারকে আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। আমরা মনে করি- উই আর পার্ট অব দ্যাট।

প্রশ্ন : নতুন বছরে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কি?
এস এম হারুন-অর-রশীদ: আমরা বলি- এই দেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। শুধুমাত্র কারিগরিভাবে ডিজিটাল হলে চলে না- বিশেষ করে টেলিভিশনের ক্ষেত্রে? ডিজিটাল মানে আমি মনে করি আধুনিক। সেই আধুনিকতার একটি জায়গা হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি। বাংলাদেশ টেলিভিশন আংশিকভাবে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন হয়েছে আমাদের নিজস্ব স্যাটেলাইট। ২০১৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্পুর্ণ সম্প্রচার বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে হবে।

বিটিভি’র পুরো প্রোগ্রাম মেকিং এন্ড ট্রান্সমিশন সম্পুর্ণ ডিজিটাল করার কাজ শুরু করে দিয়েছি। এই নির্বাচনের পরে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ নতুন অভিযাত্রা শুরু করবে। সেই অভিযাত্রার লক্ষ্য হলো ২০৪১ সাল। সুতরাং সেই লক্ষ্যে পৌছতে হলে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে ডিজিটাল কনটেন্ট দিতে হবে। ডিজিটাল কনটেন্ট বলতে আমি কারিগরি ডিজিটাল বলছি না? সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে আধুনিক এবং সময়োপযোগী এবং দর্শকের আকাংখার পরিপূরক কনটেন্ট দিতে হবে- এর জন্যে আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি এবং সেই পরিকল্পনায় অংশ নেয়ার জন্যে আমি সবাইকে উদাত্ত আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

Channel-i-Tv-Live-Motiom

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: এস. এম. হারুন-অর-রশীদপ্রতিষ্ঠা বার্ষিকীবাংলাদেশ টেলিভিশনলিড নিউজ
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

ঈদ উপলক্ষ্যে দোকান-বিপণিবিতান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা

মে ১২, ২০২৬

ওয়ালটনের প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির নতুন ৪ মডেলের ওয়াশিং মেশিন উন্মোচন

মে ১২, ২০২৬

এসপির মোবাইল ছিনতাই, একই পরিবারের ৩ ছিনতাইকারী গ্রেফতার

মে ১২, ২০২৬

স্বপ্নপূরণে ৪০০ মেধাবী পাচ্ছেন ব্র্যাকের এককালীন ও মাসিক বৃত্তি

মে ১২, ২০২৬

ভিসার আর্থিক নথি যাচাইয়ে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

মে ১২, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: জাহিদ নেওয়াজ খান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In
Bkash Stickey January 2026 Bkash Stickey September 2025 Desktop

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT