বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় ভারত, ইউরোপ, জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক অবনতি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
আজ (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত ‘বাংলাদেশ চায়না: পারস্পারিক ও বহুমুখী সম্পর্ক’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বরং ইতিবাচকই হবে। বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগ নিভর্র দেশ। দেশের ১৬ কোটি মানুষের শক্তিতে আমাদের অর্থনৈতিক উত্থান হবে।
বাংলাদেশের সাথে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশে সফর করেছেন এবং অনেকগুলো দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সই করেছেন। সেজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও চীনের প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব দেশে এসে দাঁড়িয়েছে। এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি করেছে। উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে প্রতিবেশী ও বন্ধু-রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি করতে হবে।
“বর্তমান যুগ বিশ্বায়নের যুগ। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী আঞ্চলিক সম্পর্ক বজায় রাখা দরকার।”
তথ্যমন্ত্রী বলেন, চীন থেকে আমরা প্রচুর পণ্য আমদানি করি। চীন শুধু রপ্তানি করবে, তা নয়। আমাদেরকেও চীনে রপ্তানি করতে হবে, বিশেষ করে পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, ওষুধ ও গার্মেন্টস চীনের বাজারে রপ্তানির সুযোগ করতে হবে।

বর্তমান সরকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশকে উন্মুক্ত করে দিয়েছে উল্লেখ করে হাসানুল হক ইনু বলেন, বিনিয়োগ নির্ভর বাংলাদশকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আমাদেরকে মসৃণ যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তির আরও উন্নয়ন এবং কাজের দক্ষতার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। এজন্য আমদেরকে বহুপাক্ষিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থায় পরিবর্তন আসছে। চীন আমাদের আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে। বাংলাদেশের রফতানির ডেসটিনেশন হওয়া উচিত চীন। কারণ সেখানে ক্রেতা আছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ও সভা পরিচালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ। অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ্ মোহাম্মদ সুলতান উদ্দিন ইকবাল ও সাধারন সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু।







