গুলশানের আগেও অনেক রক্তাক্ত ঘটনায় আইএস দায়দায়িত্ব স্বীকার করলেও বাংলাদেশ সরকার ধারাবাহিকভাবে দেশে আইএস কিংবা আইএসআইএসের উপস্থিতি অস্বীকার করেছে। স্থানীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোর দিকেই আঙুল তুলেছে পুলিশসহ প্রশাসন ও নীতি-নির্ধারক মহল। কিন্তু, গুলশানে বড় সন্ত্রাসী ঘটনার পর বাংলাদেশ কি আইএসের অন্যতম টার্গেট কিনা সে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার রাতে সেখানে জঙ্গিরা ১৭ বিদেশী ও তিন বাংলাদেশীসহ ২০ জনকে হত্যা করে। তার আগে তাদের ছোঁড়া বিস্ফোরকে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। আর সেনাবাহিনী পরিচালিত ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ ৬ জঙ্গি নিহত ও এক সন্দেহভাজন জঙ্গি আটক হয়। আর উদ্ধার হয় জিম্মি হয়ে পড়া তিন বিদেশীসহ ১৩ জন।
গুলশানে হামলার পর বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশ আইএসের অন্যতম টার্গেট।
এশিয়া প্যাসিফিক ফাউন্ডেশনের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ডিরেক্টর সাইজান গোহেল মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনকে বলেন, ‘আইএসআইএস এবং বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদের আন্তর্জাতিক যে সংযোগ রয়েছে সেটা তারা (আইএস) আগেও বেশ কয়েকবার তাদের পত্রিকা দাবিক ও অনলাইন জার্নালে উল্লেখ করেছে।’
তিনি বলেন, আইএস-এর পত্রিকা ‘দাবিক’-এর গত সংখ্যাতেই লেখা হয়েছিল, কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে তারা ‘হাই প্রোফাইল’ আক্রমণ করবে। সেখানেই থামবে না। তার পরের আক্রমণটা হবে আরো বড়। এছাড়া তারা বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবকদের তাদের দলে যোগদানের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।’
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ কোটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের বাংলাদেশ এক সময় বিশ্বব্যাপী মহামারীর মত ছড়িয়ে পড়া উগ্রবাদ এড়িয়ে চলতে পারছিল। কিন্তু গত দুই বছরে বাংলাদেশ জুড়ে একের পর এক খুনের ঘটনা ঘটেছে। যাতে ধর্মনিরপেক্ষ লেখক, শিক্ষাবিদ ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, টার্গেট কিলিংয়ে আইএসআইএস সম্পৃক্ততা নিয়ে আগে থেকেই বিতর্ক ছিল। সরকার গত মাসে জঙ্গি বিরোধী অভিযান শুরু করেছে এবং শতশত গ্রেফতার করেছে। কিন্তু, আটকদের বেশিরভাগই সাধারণ অপরাধী এবং ইসলামী চরমপন্থী নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।







