বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের প্যাকেজিংয়ে ‘সাস্টেইনেবল ইউএস সোয় (SUSS)’ লেবেল ব্যবহার শুরু করেছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মার্কিন সোয়াবিন আমদানিকারক হিসেবে মেঘনা গ্রুপের এই পদক্ষেপকে টেকসই উৎস থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতার প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হিসেবে দেখা হয়।
প্রতিদিন প্রায় ৭,৫০০ মেট্রিক টন সোয়াবিন প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে মেঘনা গ্রুপের। তারা বলছে, ‘সাস্টেইনেবল ইউএস সোয় (SUSS)’ লেবেল ব্যবহার বাংলাদেশের খাদ্য ও পশুখাদ্য শিল্পকে যেমন টেকসই করবে, সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতাও বাড়বে।

মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ (এমজিআই) -এর পরিচালক তানজিমা মোস্তফা বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু, এবং ‘সাস্টেইনেবল ইউএস সোয়’ লোগো সেই যাত্রার একটি তাৎপর্যপূর্ণ ধাপ। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে যাচাইকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য মানদণ্ডের মাধ্যমে তুলে ধরতে সহায়তা করবে, যাতে গ্রাহকরা নিশ্চিত হতে পারেন যে তারা যে পণ্য বেছে নিচ্ছেন তা দায়িত্বশীল ও স্বচ্ছ কৃষি পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে উৎপাদিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের গ্রাহকদের জন্য এটি শুধু একটি লেবেল নয়; বরং এটি এমন একটি নিশ্চয়তা যে তাদের বিনিয়োগ একটি টেকসই ভবিষ্যতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাপ্লাই চেইনে টেকসইতা সংযোজনের মাধ্যমে আমরা শুধু উন্নতমানের পুষ্টি সরবরাহ করছি না, বরং গ্রাহক ও পরিবেশ উভয়ের জন্য দীর্ঘস্থায়ী মূল্য তৈরি করছি।”
দক্ষিণ এশিয়ায় ইতোমধ্যে ২০টি প্রতিষ্ঠান এই লেবেল ব্যবহারে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইউএস সোয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (ইউএসএসইসি)-এর নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে বলেন, “বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। এই প্রেক্ষাপটে এমজিআই-এর মতো প্রতিষ্ঠানের এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
২০২৫-২৬ বিপণন বছরে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ১.১৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন সোয়াবিন আমদানি করেছে, যার বড় একটি অংশ এমজিআই-এর মাধ্যমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এই লেবেলের ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে ‘সাস্টেইনেবিলিটি অ্যাস্যুরেন্স প্রটোকল (SSAP)’, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি কাঠামো। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে সোয়াবিন উৎপাদনে পরিবেশ, শ্রমিক কল্যাণ এবং কৃষি ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট মান বজায় রাখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর বাজারে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।







