বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ুর পরিবর্তন। উপকূলীয় অঞ্চলে শস্য আবাদে আরও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এজন্য বাংলাদেশে ক্লাইমেট স্মার্ট প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও গবেষণায় সহযোগিতা আরো প্রসারিত করবে দেশটি। বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ কোটি ডলারের কার্যক্রম করছে ইউএসডিএ।
বাংলাদেশের কৃষিতে সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং পটভূমি জানানোর জন্য রাজধানীর আমেরিকান সেন্টারে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক কৃষি সহায়তা (এফএএস) বিভাগ এ সংবাদ সম্মেলনের ঢাকা যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ইউএসডিএর বাংলাদেশ মিশন প্রধান মেগান এম ফ্র্যানসিক এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কৃষি সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে মিশন প্রধান বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান দন্দ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় আরো সংকট তৈরি করবে, ইতোমধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধিও পেয়েছে। সামনের দিনে সাপ্লাই চেইন আরো বাধাগ্রস্থ হতে পারে। বিশেষ করে কৃষি উপকরণ বিপনন বাধাগ্রস্থ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র কোনভাবেই খাদ্য ও কৃষির পণ্যের ওপর বাধা আসুক তা চায় না।
শক্তিশালী জি-৭ এর সদস্যভুক্ত দেশ হিসেবে প্রতিবারই যুক্তরাষ্ট্র বলে আসছে, কৃষি পণ্যের ওপর যেন কোনো দেশেই নিষেধাজ্ঞা না দেয়।
বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে সামনের দিনে ইউএসডিএ কি করবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে মেগান এম ফ্র্যানসিক বলেন, কৃষির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বিপণন বা সাপ্লাই চেইনের উন্নতি করা। সেটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে। এছাড়া কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ এবং আরও সঠিক তথ্য সরবরাহ বাড়ানোর ব্যাপারেও নজর দিচ্ছে ইউএসডিএ। এছাড়া কৃষির উন্নয়ন সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব বাড়াতে কাজ করা হবে। বিশেষ করে কৃষির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ানো, কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া ও দক্ষ করে তোলায় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এছাড়া দেশের কৃষি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের যুক্তরাষ্ট্র সরকার উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য ফেলোশিপ কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করছে।
২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশি স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ কোটি ডলারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বাংলাদেশের কৃষি পণ্যের বাণিজ্য সহজীকরন করতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য সুতার একটি বড় অংশ আমদানি করা হয় যুক্তরাষ্ট্র থেকে। সেটিও সামনের দিনে সরবরাহ করবে।
বাংলাদেশের কৃষির উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা ও কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।







