বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের আর কোনও প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ব্যবসায়িদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের তিনি কথা বলেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, পৃথিবীর কোথাও অ্যাকোর্ড ও অ্যালায়েন্সের কার্যক্রম নেই। উন্নত দেশে তাদের ঢুকতে দেয়া হয় না। বাংলাদেশেও তাদের প্রয়োজন নেই। কারণ বাংলাদেশ এখন আত্মমর্যাদাসম্পন্ন জাতি। আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশ। আগামী ২০২৭ পর্যন্ত আমরা এলডিসি সুবিধা পাবো।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যেই অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তারা কার্যক্রম গুটিয়ে নিয়ে চলে যাবে।
শ্রমিকদের বেতন-বোনাস বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পোশাক খাতের শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-ভাতা দিতে হবে। ১০ তারিখের মধ্যে মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং ১৪ তারিখের আগে বোনাস পরিশোধ করতে হবে। ঈদের আগে কোনও শ্রমিককে ছাঁটাই করা চলবে না।
ব্যবসায়িদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিবে- এমন কোনও কর্মকাণ্ড করা যাবে না। ব্যবসায়িরা নগদ টাকা বহনের ক্ষেত্রে পুলিশি সহয়তা চাইলে তা দেয়া হবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, এবার দেশের প্রতিটি শ্রমিক শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ৮২ শতাংশই তৈরি পোশাক। এবছর এই খাতে ৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তাই এ বছরের এ খাতের ৩০ বিলিয়ন রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই) সহ ৮টি সংগঠনের ব্যবসায়ি প্রতিনিধিরা।
এদিকে অনেক দিন থেকেই অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের মেয়াদ বাড়ানের তাগিদ দিয়ে আসছেন জোট দুটির কর্তাব্যক্তিরা। সর্বশেষ গত সোমবারও বিজিএমইতে এক অনুষ্ঠানে অ্যাকর্ড ও এলায়েন্সের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার ও বিজিএমইএকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানান মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট।
ওই সময় তিনি বলেন, দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া না হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ভোক্তাদের কাছে বাংলাদেশের পোশাক কারখানারে বিষয়ে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে।








