বৈচিত্র্যময় বনভূমি ও এর প্রাকৃতিক সম্পদ দেশের গর্ব। কিন্তু বিভিন্ন কারণে ধ্বংস হচ্ছে বনভূমি, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। তাই বন ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণ এবং এর সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।
বৈচিত্র্যময় বনভূমির দেশ বাংলাদেশ। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি এই বনভূমিগুলো হাজার বছর ধরে বনজ সম্পদের যোগান দিয়ে আসছে। ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ, বৃক্ষ নিধনের কারণে বনভূমির পরিমাণ দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। সেইসাথে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ছে বনের বন্যপ্রাণীগুলো।
তাই বনভূমি সংরক্ষণের জন্য রক্ষিত এলাকা ঘোষণা করা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বন ও বনজ সম্পদ সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং যুগোপযোগী করতে যুক্ত হয়েছে সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। সহ-ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদের সুষম ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের বনভূমির প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন বনের প্রাকৃতিক সম্পদের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন বন ও বনের সম্পদ সংরক্ষিত হচ্ছে, অন্যদিকে বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির ফলে স্থানীয় দরিদ্র জনগণ স্বাবলম্বী হতে পারছে।
তবে বনভূমি সংরক্ষণে সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ ও বৃহৎ পরিসরে উদ্যোগ গ্রহণ করার মাধ্যমে বনভূমি সহ-ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসু করা সম্ভব। রক্ষা করা সম্ভব প্রাকৃতিক বনের স্বাভাবিক ভারসাম্য।
বনভূমি ও সহ-ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখবেন আজ রাত ১১:৩০ মিনিটে প্রকৃতি ও জীবন অনুষ্ঠানে।
আরও দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:








