২০০০ সালে বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশ টেস্ট খেলুড়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ৯৫টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ৮টিতে জয় পায় বাংলাদেশ, হেরে যায় ৭২টি ম্যাচে আর ১৫টি ম্যাচ ড্র হয়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৬টি টেস্ট খেলেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর সবচেয়ে কম ৪টি টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
এবার দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের টেস্ট ম্যাচ জয়ের নায়কদের :
এনামুল হক জুনিয়র: নিজেদের ৩৪তম টেস্ট ম্যাচে প্রথম জয়ের মুখ দেখে বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে এনামুল হক জুনিয়রের বোলিং ঘূর্ণিতে কুপোকাত হয় জিম্বাবুয়ে। টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ঐতিহাসিক জয় পায় বাংলাদেশ ২২৬ রানে।
প্রথম ইনিংসে উইকেটশূন্য বাঁহাতি স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৫ রানে তুলে নেয় ৬ উইকেট। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসের ঘাড় মটকাতে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন এনামুলই।
তামিম ইকবাল: ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে গিয়ে নিজেদের মাটিতে তাদের ৯৫ রানে হারায় বাংলাদেশ। নিজেদের ৬০তম টেস্টে দ্বিতীয় জয় পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৮ রানের অসাধারণ একটি ইনিংস খেলে ম্যাচের নায়ক বনে যান টাইগার ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তবে এ ম্যাচে অভিষেকে খেলতে নেমেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
সাকিব আল হাসান: ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে আবারো ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধরাশায়ী করে বাংলাদেশ। স্বাগতিকদের বিপক্ষে চার উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। নিজেদের ৬১ টেস্টে তৃতীয় জয় পায় টাইগাররা।
অলরাউন্ডিং পারফরম্যান্সের জন্য জয়ের নায়ক হন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিব নেন পাঁচটি উইকেট। আর দলকে তৃতীয় টেস্ট জয়ের দেখা পেতে ব্যাটিংয়ে অনবদ্য ৯৬ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন সাকিব আল হাসান।
মুশফিকুর রহিম: ২০১৩ সালে জিম্বাবুয়ে সফরে যায় বাংলাদেশ। হারারেতে নিজেদের ৭৯তম টেস্টে চতুর্থ টেস্ট জয় পায় বাংলাদেশ। নিজেদের মাটিতে জিম্বাবুয়েকে ১৪৩ রানে হারায় বাংলাদেশ।
এ ম্যাচে টাইগারদের জয়ের নায়ক উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। প্রথম ইনিংসে ৬০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৩ রান করায় ম্যাচ সেরার পুরস্কার পায় মুশফিক।
তাইজুল ইসলাম: ২০১৪ সালে অক্টোবরে নিজেদের হোম সিরিজে জিম্বাবুয়েকে তিন উইকেটে হারায় বাংলাদেশ। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে নিজেদের ৮৬তম টেস্ট ম্যাচে পঞ্চম টেস্ট জয় পায় বাংলাদেশ।
এ জয়ের নায়ক বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে এক উইকেটের পর দ্বিতীয় ইনিংসে আট উইকেট দখল করেন তিনি।
সাকিব আল হাসান: ২০১৪ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টেও জয় তুলে নেয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ১৬২ রানে হারিয়ে নিজেদের ৮৭তম টেস্ট ম্যাচে ষষ্ঠ জয় পায় বাংলাদেশ।
এ ম্যাচের জয়ের নায়ক অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। প্রথম ইনিংসে ১৩৭ রানের পাশাপাশি বোলিংয়ে দখল করেন পাঁচ উইকেট। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে জ্বলতে না পারলেও বোলিংয়ে নেন পাঁচ উইকেট।
মুমিনুল হক: ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হোম সিরিজের তৃতীয় টেস্টে সফরকারীদের হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে এ ম্যাচে তামিম ইকবাল ১০৯, ইমরুল কায়েস ১৩০ রান করেও ম্যাচের নায়ক হতে পারেন নি।
ম্যাচের নায়ক হন মুমিনুল হক সৌরভ। প্রথম ইনিংসে ৪৮ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে অনবদ্য ১৩১ রানের অসাধারণ সৌরভ ছড়ানো ইনিংস খেলেন সৌরভ। নিজেদের ৮৮তম টেস্ট ম্যাচে সপ্তম জয় পায় বাংলাদেশ।
মেহেদি হাসান মিরাজ: ২০১৬ সালের অক্টেবরে প্রায় ১৫ মাস টেস্ট ক্রিকেট খেলতে না পারা বাংলাদেশ মুখোমুখি হয় সফরকারী ইংল্যান্ডের।
মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে স্পিনার মেহেদি হাসান মিরাজের নীল স্পিন বিষে লেজ গুটায় ইংল্যান্ড। এ টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ১২ উইকেট নিয়ে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌছে দেয় মিরাজ।







