সাংবাদিকতায় অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা। তবে টিআইবি বলছে, বাংলাদেশের গণমাধ্যম জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আর গণমাধ্যমের কাজে সরকারের হাত দেয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডক্টর গহওর রিজভী।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে টিআইবি গণমাধ্যম ও সুশাসন নিয়ে এ আলোচনার আয়োজন করে। গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা বলেন, নানা সীমাবদ্ধতায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা কম হচ্ছে, বিপরীতে বেশি হচ্ছে প্রটোকল সাংবাদিকতা কিংবা স্টেনোগ্রাফি বা করণিক সাংবাদিকতা।
এটিএন বাংলার প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় অতিমাত্রায় রাজনৈতিক মেরুকরণ হচ্ছে। পেশাগত অভিজ্ঞতা ছাড়া সম্পাদক না করার ব্যাপারটি এতদিনেও অর্জন করা সম্ভব হয়নি। এতোগুলো টেলিভিশন লাইসেন্স পেয়েছে। অথচ লাইসেন্সগুলো কোনো দৃঢ় আইনের ভিত্তিতে দেওয়া হয়নি।
টিআইবি বলছে, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিহার্য। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেফারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের সবারই গণমাধ্যমের প্রতি প্রত্যাশা অনেক বেশি। সেই প্রত্যাশা পূরণে আমাদের নিজেদেরকেও সুশাসিত হতে হবে।’
টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ড. আকবর আলি খান মনে করেন, গণমাধম্যের অর্জন গর্ব করার মতো। কারণ সুশাসনের দিক থেকে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ২৫/৩০ শতাংশ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্ত। সে ধরণের সুশাসনের অনুপস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশের গণমাধ্যম যা অর্জন করেছে তা উল্লেখযোগ্য।
বিভিন্ন বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সরকারকে সহায়তা করে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ডক্টর গওহর রিজভী। তিনি বলেন, ‘কোনো খবরকে দমন করে দেওয়ার ক্ষমতা কোনো সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আমাদের এতো চিন্তা করার কারণ নেই। আমরা যদি চেষ্টা করি তবে সবসময় আমরা খবর পাঠক বা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দিতে পারি।’
অনুষ্ঠানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার তিন ক্যাটাগরিতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার ৬ সাংবাদিককে পুরস্কার দেয় টিআইবি।







