পরিবেশগত যেসব সমস্যা পৃথিবী ভোগ করছে তার বেশিরভাগেরই ভয়াবহতা বিষয়ে অজ্ঞ রাজনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা। ফলে বহুমুখী সঙ্কটের মুখে পড়ছে পরিবেশ।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ (আইপিপিআর) জানিয়েছে, মানুষের উপর এর প্রভাব জটিল পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, সেটা অস্থিতিশীল সমাজ ও বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্যও হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞানীরা বিপর্যয়ের বেশ কিছু ভয়াবহ কারণের একত্র হওয়ার সম্ভাবনা বিষয়ে হুমকি দিয়েছেন। তার মধ্যে তারা বলছেন, পরিবেশ পরিবর্তন, অনেক অনেক প্রজাতির বিলুপ্তি, ভূত্বক ক্ষয়, বন ধ্বংস, সমুদ্রে অম্লক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটবে।
আইপিপিআরের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই সব বিষয়ই ধীরে ধীরে পরিবেশ অস্থিতিশীল করে তুলেছে ফলে সবকিছুই হয়ে উঠেছে কঠিন। আর মানব ইতিহাসে সেই অস্থিতির বিষয়টা ঘটছেও খুব দ্রুত।
আইপিপিআর সতর্ক করেছে, কোনো বিপর্যয় আসার আশঙ্কা কমানোর জানালাগুলো ক্রমাগত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেখানে তিন ধাপের রাজনৈতিক বোঝাপড়া চেয়েছেন লেখকরা। কতটা পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটতে যাচ্ছে সেটার ভিত্তিতে, সমাজের প্রভাবের ভিত্তিতে, পরিবর্তনের জন্য তৈরি হওয়া চাহিদার ভিত্তিতে।
২০০৫ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী বন্যা হওয়ার হার বেড়েছে ১৫ গুণ, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বেড়েছে ২০ গুণ আর বনে আগুন লাগার হার বেড়েছে ৭ গুণ।
গবেষণা বলছে সবচেয়ে বেশি পরিবেশের ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাজ্যে। বছরে ২.২ মিলিয়ন টন ভূত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয় যুক্তরাজ্যের। এবং ১৭ শতাংশের বেশি আবাদী জমিতে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার লক্ষণ দেখা যায়।
আইপিপিআর বলছে, অনেক বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন আমরা পরিবেশ পরিবর্তনের একটি নতুন যুগে প্রবেশ করেছি। আমরা সেটাকে পরিবেশ বিপর্যয়ের যুগ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করছি।
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গ্লোবাল চেঞ্জ সায়েন্সের প্রফেসর সিমন লুইস বলেন, আইপিপিআর ঠিক কথাই বলছে যে এখন পরিবেশ পরিবর্তন দ্রুত হচ্ছে এবং অস্থিতিশীল সমাজের হুমকি দিচ্ছে। সেজন্য সামনে খাদ্য সরবরাহে ঝামেলা হতে পারে যেটা নাগরিক অসন্তোষ তৈরি করবে। তাই এখন থেকেই সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে ভবিষ্যতে বিপর্যয় ঠেকাতে।








