করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রায় তিন মাস ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া ছিল গণপরিবহনে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ছিল স্বাস্থ্যবিধি না মেনেও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এবার আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সেই ভাড়ার পরিবর্তে আগের ভাড়া কার্যকর করার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
সেই প্রস্তাব পেয়ে আগামী ৩১ আগস্টের পর গণপরিবহনে আর বর্ধিত ভাড়া নেয়া যাবে না- এমনকি প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মন্ত্রিপরিষদে প্রস্তাবনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।
এ প্রস্তাব ও সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এখনও যেহেতু শেষ হয়ে যায়নি, তাই আগের মতো গাদাগাদি করে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। এসব বিষয় সরকার এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি গুরুত্ব সহকারে দেখবে বলে আমরা আশা করি।
চ্যানেল আই অনলাইনের প্রতিবেদনে জানা যায়, ‘বিআরটিএর উপ-পরিচালক (ইনফোর্সমেন্ট) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘৩১ আগস্টের পর সেপ্টেম্বর থেকে আগের ভাড়ায় বাসে যাতায়াত করা যাবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব তৈরি করে আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। ভাড়া কমানোর প্রস্তাবের সঙ্গে দুই সিটে দুজন যাত্রী বসা, প্রত্যেকের মাস্ক পরা, গাদাগাদি করে যাত্রী না তোলাসহ কয়েকটি নির্দেশনা থাকবে।’
এটা ঠিক যে, করোনাভাইরাস সংক্রমণে গণপরিবহন এখনও ঝুঁকির। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এছাড়া উপায়ও নেই। কিন্তু সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। বাস মালিক, শ্রমিক এবং যাত্রীরা যদি সচেতন না হন, তাহলে করোনাভাইরাস মোকাবেলা করা যাবে না। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব।
এজন্য গণপরিবহনে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা নীতি মানাসহ গাদাগাদি করে কোনো পরিবহনে যেন যাত্রী না ওঠে সেটা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহনে আগের ভাড়ায় চলাচলের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।







