পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে জ্বালানী গ্যাস, তেল ও পিচ্ছিলকারক পদার্থ উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন জার্মান ফেরত এক যুবক। পটুয়াখালীর সদর উপজেলার এই যুবকের নাম মোঃ হালিম।
ইউরোপে নিজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ছিল। তবে বাংলাদেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা থেকে সেই নিরাপদ ভবিষ্যৎ ছেড়ে ফিরে আসেন পটুয়াখালীতে।
এর নিজের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাতে নেন নানা উদ্যোগ। নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয়ভাবে হাতে তৈরি যন্ত্রের মাধ্যমে শুরু করেন তিনি। রিসাইকেলিং পদ্ধতিতে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর বর্জ্য থেকে মূল্যবান জ্বালানী ও তেল তৈরি করে তাক লাগিয়ে দেন এলাকাবাসীকে।
অথচ পলিথিনের এসব বর্জ্যে ছেঁয়ে গেছে সারাদেশ। ড্রেন, রাস্তা, ঘাট, পুকুর, ডোবা, খোলা জায়গা সর্বত্র বিষাক্ত পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যে ছড়িয়ে ছিটে আছে।
তার অভিনব প্রযুক্তির সাফল্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শত শত কৌতূহলী মানুষ। দেশের পরিবেশ ও জ্বালানী সহায়ক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় লাভজনক এ প্রযুক্তি কাজে লাগাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান মো. হালিম।
সদর উপজেলার মাদাবুনিয়া ইউনিয়নের মোঃ হালিম দীর্ঘ ১১ বছর জার্মানীতে থাকার সময় দেশের কল্যাণে কি করা যায়? তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা শুরু করেন। ওয়ার্কশপে কাজের সুবাদে গত ৩ বছর বিভিন্ন কলকারখানা পরিদর্শন করে অর্জন করেন নানা অভিজ্ঞতা।
সম্প্রতি দেশে ফিরে তারই একটি বাস্তব পরীক্ষা চালিয়ে সফল হন মো. হালিম। এলাকায় ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে নিজস্ব পরিকল্পনায় উদ্ভাবিত যন্ত্রের মাধ্যমে একসাথে তৈরি করে দেখান জ্বালানী গ্যাস, তেল ও বিভিন্ন পিচ্ছিলকারক দ্রব্য।
এসব ক্ষতিকর বর্জ্য মূল্যবান সম্পদে রূপান্তরের নতুন এ কৌশল দেখে অভিভূত এলাকাবাসী তাকে স্বাগত জানান। অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় অভিমত প্রকাশ করে সহযোগিতার আহ্বান জানান তারা ।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় হালিমের প্রযুক্তি এখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নত মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।








