সাহিত্যিক পামুক, হ্যারোল্ড পিন্টার, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ বা পাবলো নেরুদাদের সাথেই এখন উচ্চারিত হবে বব ডিলানের নাম। কিন্তু কেনো গায়ক হয়েও সাহিত্যের জন্য এই সর্বোচ্চ সম্মাননা পেলেন তিনি?
বাংলাদেশের অনেকের মতোই বিশ্বজনতার একটি বড় অংশের মাঝেই এমন প্রশ্ন আর বিস্ময় এখন।
তবে ডিলান যে কেবলই একজন গায়ক ছিলেন না। বরং গীতিকার ডিলান নিজস্ব জ্ঞানগত বোধের পরিচয় দিয়েছেন সৃষ্টি-সুরে।
মার্কিন ঘরানার ভেতর নব-কাব্যিক ধারার প্রবর্তনের মাধ্যমে গায়ক হয়েও সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পাওয়া বব ডিলানের কয়েকটি উক্তিতেই প্রকাশ পায় তাঁর সাহিত্য চেতনা:
সৃষ্টিশীলতা নিয়ে বব ডিলান বলেন,‘ সৃষ্টিশীলতা মালবাহী একটি ট্রেনের লাইনচ্যুত হওয়ার মত। সৃষ্টিশীলতার জন্য গভীর অনুরাগ এবং পরম শ্রদ্ধা অত্যাবশ্যক। এজন্য মস্তিষ্ককে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে খুব বেশি ভাবতে না হয়’।
গান-সুরের চর্চা নিয়ে তিনি বলেন,‘ গান লেখার জন্য পরিবেশটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মনের ভেতরের সুপ্ত ভাবনাগুলোকে বাইরে আনতে পারে পরিবেশ-পারিপার্শ্বিকতা। গান হলো চিন্তাশীল,মনের প্রতিফলন ধর্মী কিছু’।
গান শুধু গানই নয় তাঁর কাছে। এমন কথা জানিয়ে তিনি বলেন,‘ গান আমার কাছে স্থুল বিনোদনের চেয়ে অনেক বড় কিছু। গান আমাকে বাস্তবতার এক ভিন্ন এবং এক স্বাধীন জগতে নিয়ে যায়’।
নিজের গান প্রসঙ্গে বব ডিলান বলেন,‘ আমার গানগুলো স্বপ্ন নয়। বরং সেগুলো বাস্তবতা নির্ভর। আমার জন্য সেগুলো হলো যখন চাই,তখন পাই এমন কিছু’।
নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,‘ যখন তোমার কারও গান ভালো লাগে তখন ওই ব্যক্তির প্রেক্ষাপটের মতো তোমাকেও তোমার প্রেক্ষাপটে উন্মুক্ত হতে হবে। যদি কেউ গান লিখতে চায় তবে তাকে অবশ্যই বেশি বেশি লোকসংগীত শুনতে হবে’।








