রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকার দালানগুলোর ফাঁক দিয়ে উঁকি দিচ্ছে সকালের সূর্য। বাসন্তী রঙের শাড়ি পড়েছেন মেয়েরা। খোপায় তাদের নানা রঙের ফুল। প্রকৃতিতে সাজ সাজ রব। যেন বলে দিচ্ছে ‘আকাশে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা/ কারা যে ডাকিল পিছে! বসন্ত এসে গেছে।’ তার ছোঁয়া লেগেছে এই এলাকার চ্যানেল আই ভবনের ছাতিম তলায়। এখানে ‘গানে গানে সকাল শুরু’ অনুষ্ঠান হবে। সরাসরি দেখানো হবে চ্যানেল আইয়ে। গান করবেন জনপ্রিয় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও তার সংগীত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারার শিল্পীরা। নাচ করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এসেছেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
আজ সোমবার সকালে নির্ধারিত সময়ে শুরু হলো অনুষ্ঠান। মঞ্চে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ও সুরের ধারার শিল্পীরা। সবাই গেয়ে ওঠেন ‘ওরে গৃহবাসী, খোল দ্বার খোল’। শুরু হলো অনুষ্ঠান। এরপর একে একে ‘ওরে ভাই ফাগুন লেগেছে বনে বনে’, ‘ফাগুনের শুরু হতে শুকনো পাতা গেল ঝরে’, ‘ধীরে ধীরে বও ওগো উতল হাওয়া’, ‘আকাশ আমায় ভরলো আলোয়’ গানগুলো। অনুষ্ঠানের মাঝে মঞ্চে আসেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফজাল হোসেন। উপস্থাপক মৌসুমী বড়ুয়া আমন্ত্রণ জানান তাকে। আফজাল হোসেন বললেন, ‘এরকম সকাল আর বন্যা যদি গায়, তাহলে কে কথা শুনতে চায়! আসুন আমরা বন্যার গান শুনি।’
কিন্তু গানের মাঝে মাঝেই কথা বলেছেন তারা। এই যেমন শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব নিয়ে বন্যার কাছে জানতে চেয়েছিলেন আফজাল হোসেন। বন্যা বললেন, ‘শান্তিনিকেতনে প্রথম বসন্ত উৎসব করেছিলেন সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলে। তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাইরে ছিলেন। দোল পূর্ণিমার রাতে আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠান। সেটা ছিল দোল উৎসব। যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তা জানতে পারলেন, তিনি খুশি হলেন। এরপর বর্ষার গান নিয়ে বর্ষা মঙ্গল অনুষ্ঠান আয়োজন করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেই থেকে বিভিন্ন ঋতুতে উৎসব হচ্ছে শান্তিনিকেতনে।’
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি নিয়েও কথা বলেছেন তারা। বন্যা বললেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতেই ছবি আঁকার চর্চা ছিল। ওই সময় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা ৬ নং জোড়াসাঁকোতে আসতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা ছবি দেখতে।’
আজকের অনুষ্ঠানে নিজের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেছেন আফজাল হোসেন। আরও আবৃত্তি করেছেন হাসান আরিফ। তিনি বললেন, ‘আমি রবীন্দ্রনাথের গান পড়ব।’ রবীন্দ্রসংগীত ‘তুমি একটু কেবল বসতে দিও পাশে’ আবৃত্তি করেন তিনি। আবৃত্তি শেষ হতেই তা গাওয়া শুরু করেন বন্যা। এই যুগলবন্দিতে মুগ্ধ হন সবাই।
‘রাঙ্গিয়ে দিয়ে যাও’ গানের সঙ্গে আবার মঞ্চের সামনে আসেন নৃত্যশিল্পীরা। আবির ছড়িয়ে পুরো পরিবেশকে রাঙ্গিয়ে দিয়ে যান তাঁরা। অনুষ্ঠান শেষ হলেও তার রেশ রয়ে যায় সবার মাঝে।
ছবি : এস এম নাসির ও ওবায়দুল হক তুহিন







