জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্ভিদ ও প্রাণীর প্রধান আশ্রয়স্থল বনভূমি। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের যেসকল বনভূমিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য অন্যতম।
পর্যটন শহর কক্সবাজার থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার উত্তরে চকরিয়া উপজেলায় ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যটির অবস্থান। এই এলাকা একসময় চিরহরিৎ গর্জন বনের জন্য সুপরিচিত ছিল। কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অধীনে অবস্থিত এ বনভূমিকে ২০০৭ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।
চিরহরিৎ ও মিশ্র চিরহরিৎ পাহাড়ি বনভূমি হলেও বর্তমানে এ বনে প্রাচীন বৃক্ষজাতীয় উদ্ভিদ কম দেখা যায়। এই অভয়ারণ্যে গর্জন, সেগুন, তেলসুর, ঢাকিজামসহ বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ রয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা বৃক্ষের পাশাপাশি সৃজিত বাগানও রয়েছে।
বিভিন্ন প্রজাতির পাখির উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত থাকে এই বন। বুনোহাতি কখনো একাকি, আবার কখনো দল বেঁধে বনে বিচরন করে। ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আশেপাশে বেশকিছু মানববসতি গড়ে ওঠায় স্থানীয় মানুষ প্রায়ই বন থেকে বিভিন্ন ধরনের বনজ সম্পদ আহরন করে থাকে।
ফলে এখানকার জীববৈচিত্র্য বর্তমানে হুমকির সম্মুখীন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
ফাঁসিয়াখালী বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য বর্তমানে সহ-ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠির বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে বনের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনলে বন ও বনজ সম্পদ রক্ষার পাশাপাশি নিশ্চিত হবে বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল।
বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে








