অতি বৃষ্টিতে নয়, সামান্য বৃষ্টিতেই এখন ঢাকা এবং চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এখন নগর ডুবতে আর বন্যার দরকার হয় না। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা এখন এই শহরের নাগরিক যন্ত্রণার আরেক নাম। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায় শহরের অধিকাংশ এলাকা। শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এবং আবাসিক এলাকা কোমর সমান পানিতে ডুবে যায়। এ সময় নগরীর জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেইট, প্রবর্তক মোড়, মেহেদীবাগ আগ্রাবাদ এক্সেস সড়ক, বড়পোল মোড়, সিডিএ আবাসিক এলাকা, পোর্ট কলোনির কয়েকটি সড়ক, চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বহদ্দারহাট মোড়, বহদ্দার বাড়ি সড়ক, হালিশহর, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এই জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসন কিংবা কোন সরকারি পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন নগরবাসী এই সমস্যায় ভুগে এখন চরম অতিষ্ঠ। এ নিয়ে মেয়র আ জ ম নাসির সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, একা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে এই জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব নয়। তিনি এক্ষেত্রে সরকারী উদ্যেগের কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন একদিনের ব্যাপার নয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই জলাবদ্ধতা বেড়েই চলেছে। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সরকারকেই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে, এটা সিটি করপোরেশনের কাজ নয়।’ আমরা জানি এটা একদিনে সৃষ্ট কোনো সমস্যা নয়। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম শহর তলিয়ে যায় অল্প বৃষ্টিতেই। ভুক্তভোগী নগরবাসী নগরের খালগুলো ভরাট হওয়া এবং পানি নিষ্কাশনে নতুন কোনো সুয়ারেজ ব্যবস্থা না রাখার অভিযোগ করেন। বৃষ্টি ছাড়াও বছরের ছয় মাস সাগরের জোয়ারে প্লাবিত থাকে চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আগ্রাবাদ, হালিশহর, বড়পুল, ছোটপুলের অধিকাংশ এলাকা। আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা নগরের একটি অভিজাত আবাসিক এলাকা ছিল। বর্তমানে এই এলাকা বসবাসের অযোগ্য বলে অনেকের কাছে তা পরিত্যক্ত। সমুদ্রের জোয়ার ভাটার সঙ্গেই এখন এই এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা মিলে মিশে গেছে। সমুদ্রে জোয়ার এলে পুরো এলাকা কোমর সমান পানিতে ডুবে যায়। জোয়ারের পানি থাকে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা। এসময়টা এই এলাকার মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারে না। মানুষ কোনোমতে অফিস আদালত করে, এলাকার স্কুল কলেজ বন্ধ থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ভোগ করতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। এক বছরের লেখাপড়া ছয় মাসেই শেষ করতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক এলাকার পেছন দিয়ে একটি বাঁধ ছিলো যা ভেঙ্গে দেয়ার কারণে সমুদ্রের জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। এলাকাবাসী এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সিটি কর্পোরেশন ও বন্দর কর্তৃপক্ষের বিরোধকে দায়ী করছে। ভুক্তভোগী একজন ছাত্র জলাবদ্ধতা নিয়ে তার ফেসবুকে আজকেও লিখেছেন, ‘প্রতি ১০ দিনে প্রায় ৭ দিন-ই এমন চিত্র দেখা যায়, যদি ভেবে থাকেন অতিবর্ষা এর জন্য দায়ী তাহলে ভুল করবেন, এটা আগ্রাবাদ, আমি আগ্রাবাদ নিয়ে বলছি, বৃষ্টি থাকুক আর নাইই থাকুক, আধা বছর এই এলাকা এক কোমর পানির নিচে থাকে।’ চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের কোন বিকল্প নেই। আমরা মনেকরি যতই সরকার বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো এক অন্যকে দায়ী করুক না কেন; প্রাথমিক দায় হিসেবে সিটি কর্পোরেশন তা এড়িয়ে যেতে পারে না। এ অবস্থায় কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন মানুষের দুর্ভোগ যদি না কমাতে পারে তাহলে সরকারের সব উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার নজির হিসেবেই থাকবে। তাই জলাবদ্ধতার কবল থেকে দ্রুত নগরবাসীকে মুক্তি দেয়াই এখন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব।








