মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মীর কাশেম আলীর আপিল খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ
আদালত।
সম্পূরক কার্যতালিকায় ভুলের কারণে বিভ্রান্তি থাকায় আজ (মঙ্গলবার)
আপিলের রায় হচ্ছে না বলে প্রথমে মনে করা হলেও পরে প্রধান বিচারপতির
নির্দেশে কার্যতালিকায় সংশোধন এনে রায় ঘোষণা করা হয়।
মামলার ১১ নম্বর অভিযোগে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমকে অপহরণ, ডালিম হোটেলে তাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা এবং মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেয়ার অপরাধে মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা হয়। এছাড়া নির্যাতনের ৬ অভিযোগে সাজা বহাল রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগে এ বিষয়ে ‘অশোভন’ মন্তব্যের কারণে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেন আপিল বিভাগ। ১৫ মার্চ তাদেরকে আদালতে সশরীর হাজির হতে বলা হয়েছে।
মীর কাশেমের আপিলের রায় ঘোষণার আগে সুপ্রিম কোর্টের ভেতরে বাইরে নেয়া হয় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রধান বিচারপতির আদালতে রায় ঘোষণার প্রস্তুতি নেয়া হয়। সকাল ৯ টার আগেই পূর্ণ হয়ে যায় আপিল বিভাগের এক নম্বার আদালত কক্ষ।
প্রথমেই আদালত অবমাননা রুল জারির পর সম্পূরক কার্যতালিকা অনুযায়ী রায় ঘোষণা করা হয়।
প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে তখন এজলাসে ছিলেন বেঞ্চের সদস্য বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসাইন হায়দার ও বিচারপতি বজলুর রহমান। মীর কাসেম আলীর আপিল মামলায় সংক্ষিপ্ত আদেশ পড়ে শোনান প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।
রায় ঘোষণার আগে কয়েকজন ব্যক্তি ও সংস্থার বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা এমন একটা ভাব দেখাচ্ছেন যেনো যুদ্ধাপরাধের বিচারটা তারাই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এই ধারণা ভ্রান্ত। যুদ্ধাপরাধের বিচার কোনোদিনই শুরু হতো না যদি এই সরকার ক্ষমতায় না আসতো এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে দৃঢ় মনোভাব নিয়ে না এগোতেন।
‘অনেকেই এমন দাবি করেছেন, আমরাও করেছি। কিন্তু নির্বাহী বিভাগে উপযুক্ত নেতৃত্ব না থাকলে অনেক অন্যায়েরই বিচার হয় না। এই বিচারটি সামনে এগিয়ে নেয়ার জন্য এটি ছিলো একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। নির্বাচনের আগেই এটি ম্যানিফেস্টো ছিলো, সংসদেও এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো।’
মীর কাসেম আলীর মামলায় রায়ের বিষয়ে পরে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে আসামীপক্ষের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘যেহেতু এটি সর্বোচ্চ আদালতের রায়, একজন আইনজীবী হিসেবে এ রায়ের ব্যাপারে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
ভবিষ্যতের ইতিহাস এ রায় পর্যালোচনা করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রায় হাতে পাওয়ার পর রায় রিভিউয়ের আবেদন করার ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান মীর কাশেমের আইনজীবী।
এর আগে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর মামলায় আপিলের উপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন শেষ হওয়ার পর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারিত হয় ৮ মার্চ। প্রথমে তারিখ ২ মার্চ ঠিক করা হলেও প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ঢাকার বাইরে সফর থাকায় রায়ের তারিখ বদলে ৮ মার্চ করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামী জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর আপিল শুনানি। আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয় ১৭ ফেব্রুয়ারি।
পরে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের পর পাল্টা যুক্তি দেয় আসামিপক্ষ। এরপরই রায় ঘোষণার তারিখ ২ মার্চ ঠিক করার পর আবার পরিবর্তন করে ৮ মার্চ করা হয়।







