বছরের শুরুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন অস্থিতিশীল থাকলেও ধীরে ধীরে তা তাতিয়ে উঠে। তবে বছরের শেষে তা ছিলো অনেকটাই শান্তিপূর্ণ।
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের ঘটনা ছিলো দেশের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তির। আর বছরের একেবারে শেষে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচন জাগিয়ে তোলে ভোটের রাজনীতিকে।
৫ জানুয়ারী দশম জাতীয় সংসদের বর্ষপূর্তির দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ নাম দিয়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কর্মসূচিতে অস্থিতিশীল হয়ে হয়ে ওঠেছিলো দেশের রাজনৈতিক অঙ্গণ। অবরোধের মধ্যেই দফায় দফায় হরতাল। দেশজুড়ে আতঙ্ক অবরোধ আর হরতালের মধ্যে একের পর এক যানবাহনে আগুন আর পেট্রোল বোমায় পুড়িয়ে মারার ঘটনায়।
২৪ জানুয়ারী বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু সংবাদে বেগম খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে ছুটে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু ভেতর থেকে গেইট বন্ধ রেখে ঢুকতে দেওয়া হয়নি প্রধানমন্ত্রীকে।
অবরোধের কথা বলে ২১ ফেব্রুয়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনার এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে যাননি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
৫ এপ্রিল অফিস থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাজিরা দিয়ে তিন মাস পর বাসায় ফিরে যান তিনি। অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা না দিলেও এরপর থেকেই স্বাভাবিক হয়ে আসে পরিস্থিতি।
৬ জুন ৩৬ ঘন্টার সফরে বাংলাদেশ এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২২টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হয় ছাড়াও স্থল সীমান্তচুক্তির অনুসমর্থনের দলিল হস্তান্তর করেন দুই প্রধানমন্ত্রী। শান্তিপূর্ণ সমাধান হয় দীর্ঘ ৬৮ বছরের ছিটমহল সমস্যার।
৯ জুলাই গুজব সত্যি হয়ে দপ্তর বিহীন মন্ত্রী হন সৈয়দ আশরাফ। দায়িত্ব পান প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। শেষ পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রী হিসেবে আবারো ফিরে আসেন মন্ত্রীসভায়।
হজ্জ্ব এবং তাবলিগ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে মন্ত্রীত্ব হারানো আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জামিনে বের হয়ে ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বক্তব্য রেখে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
শারীরিক অসুস্থতার কারন দেখিয়ে ২৮ অক্টোবর দল থেকে পদত্যাগ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমশের মোবিন চৌধুরী। বছর শেষে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা আবারো নতুন দল, ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠনের ঘোষণা দিয়ে রাজনীতিতে আলোচনায় আসেন। এর আগেও বিএনএফ এবং বিএমপি নামের দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।
হঠাৎ করেই জাতীয় সংসদে স্থানীয় পৌরসভা সংশোধন আইন ২০১৫ পাস হয় বছর শেষে। সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নে শুধু মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের বিধান রেখে জাতীয় সংসদে পাশ হয় আরো তিনটি বিল।
এরই ধারবাহিকতায় ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচন।







