অমর একুশে গ্রন্থমেলা এখন কেবল একটি গ্রন্থমেলাই নয়। বরং এটি বাঙালির আত্মপরিচয় প্রকাশের প্রধানতম মাধ্যম। কাজেই এই মেলার উৎকর্ষ সাধনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, তার সবটাই সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রতিষ্ঠানকে করতে হবে বলে মনে করেন ‘বাংলাদেশ লেখক ঐক্য’ সংগঠনের বক্তারা।
শনিবার প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ লেখক ঐক্য’ সংগঠন আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রন্থমেলাকেন্দ্রিক যে-সকল উদ্যোগ জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা দরকার সেসব নিয়ে কথা বলেন তারা।
আয়োজনে সংগঠনটি বইমেলা নিয়ে তাদের ১০টি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবগুলো হলো: ১) লেখক-প্রকাশকের নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা; ২) প্রকাশকের কাছ থেকে লেখকের পাওনা সম্মানী বিনা ঝক্কিতে বুঝে পাওয়ার ক্ষেত্রে মেলার মাসে বিশেষ সমঝোতা-প্রক্রিয়া প্রবর্তন করা; ৩) বই বাজেয়াপ্ত কিংবা স্টল বন্ধ করার ব্যাপারে মেলা কর্তৃপক্ষের অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা; ৪) বইমেলাকে আন্তর্জাতিক চরিত্রদান করা; ৫) মেলা প্রাঙ্গণের মূল নকশা ও স্টল বিন্যাস এমনভাবে করা যাতে ক্রেতা-দর্শকেরা সহজে কোনো স্টল খুঁজে পেতে পারে এবং এটা যেন প্রকাশকদের সবার বই প্রদর্শন ও বিক্রির অনুকূল হয়; ৬) মূল মেলাপ্রাঙ্গণ থেকে বিচ্ছিন্ন ছোট কাগজের স্টলগুলোকে কীভাবে মূল মেলাপ্রাঙ্গণে অন্তর্ভূক্ত করা যায় সে-বিষয়ে ছোটকাগজ সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা; ৭) ছোটদের কর্নারের স্টল-বিন্যাস নকশা আরো সুপরিকল্পিত এবং আকর্ষণীয় করা; ৮) সারাবছর ক্রেতারা যে ডিসকাউন্ট বা ছাড়ে বই কিনতে পারেন তার থেকে মেলার ডিসকাউন্ট বাড়িয়ে ৩০% করা; ৯) অফিস ও শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ছুটি এবং যানজটের কথা বিবেচনা করে মেলা সমাপ্তির সময় রাত ৯টা পর্যন্ত করা; ১০) মূল মেলাপ্রাঙ্গণে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও স্বল্পমূল্যের চা-কফি ও হালকা খাবারের দোকান রাখা।
শনিবারের আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমতিয়ার শামীম, আহমাদ মোস্তফা কামাল, কবি ও কথাসাহিত্যিক চঞ্চল আশরাফ, প্রাবন্ধিক ও গবেষক ফাহমিদুল হক, প্রাবন্ধিক ও সহ-সভাপতি আরশাদ সিদ্দিকী, ঔপন্যাসিক মোশাহিদা সুলতানা, কবি গিরীশ গৈরিক ও অন্যান্যরা।







