রাজধানীর চিরচেনা যানজট কমিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে হাজার কোটি টাকার ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ শুরু হলেও এসব ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ কখনোই নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয় না। এতে সাধারণ মানুষের উপকারের বদলে নানা ধরণের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এসব পুরনো অভিযোগের পাশাপাশি সর্বশেষ চ্যানেল আইয়ের প্রতিবেদনে জানা যায়, মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ নির্দিষ্ট সময়ে শেষ না হওয়ায় আর্থিকভাবে প্রতিবছর এক হাজার কোটি টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। খানাখন্দ সহ নানা কারণে ভোগান্তির ফলে সেখানকার শপিংমলগুলোতে প্রায় ৭৫ শতাংশ ক্রেতা কমে গেছে। এতে লোকসানের বোঝা বেড়ে যাওয়ায় পুঁজি হারিয়ে সেখানকার ২৫ শতাংশ দোকানও বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ এক সময় মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের নিচের রাস্তার পাশের দোকানপাট ও শপিংমলের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ছিলো রমরমা। কিন্তু ক্রেতাদের চিরচেনা সেই পদচারণা এখন আর নেই। ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতির কথা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানও স্বীকার করেছে। নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ কাজ শেষ করতে না পারার কারণে ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতি অপূরণীয় বলে আমরা মনে করি। কেননা এখানে অল্প পুঁজির অনেক ব্যবসায়ীও রয়েছেন, যারা এই কারণে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়েছেন। তাই ব্যবসায়ীদের এই ক্ষতির বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা কোনভাবেই দায় এড়াতে পারে না। আমরা বিশ্বাস করি, দেশে জনগণের জন্য উন্নয়ন অপরিহার্য, কিন্তু সেই উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের এমন ক্ষতি কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। আমরা মনে করি, উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে যাতে সাধারণ মানুষের সীমাহীন কষ্ট এবং দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে না হয় সেদিকেও সরকারের নজর দেয়া উচিত। কিন্তু সেদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নজরদারি খুবই অপ্রতুল। এই নজরদারির অভাবে এর আগে মৌচাক এলাকায় ফ্লাইওভারের গার্ডার ধসে মানুষের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া অরক্ষিত ফ্লাইওভারের ওপর থেকে যানবাহনে লোহার রড পড়ে দুর্ঘটনার প্রতিনিয়ত ঘটছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, মূল ঠিকাদার থেকে সাব ঠিকাদার পর্যায়ে চলে যাওয়ায় এসব ফ্লাইওভার নির্মাণে কাজের গতি কমে গেছে। এছাড়া মাসের পর মাস ধরে সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়ির ফলে ওই এলাকায় যানজট এখন নিত্যদিনের ঘটনা। তাই ফ্লাইওভার নির্মাণের পাশাপাশি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসহ সরকারের সংশ্লিষ্টকে দপ্তরকে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি লাঘবে আরও বেশি সক্রিয় হতে আমরা আহ্বান করছি।








