মেক্সিকোতে ফ্রিদা কাহলোর আদলে তৈরি বার্বি ডল বিক্রি নিষিদ্ধ করেছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে রুল জারি করে আদালত বলেছে, এই ছবির একমাত্র স্বত্বাধিকারী তার পরিবারের সদস্যরা।
মেক্সিকোর একটি খেলনা তৈরির প্রতিষ্ঠান ম্যাটেল ‘অনুপ্রেরণার নারী’ শিরোনামে নতুন কয়েকটি বার্বি ডল বাজারে আনে। তার মধ্যে ছিল ফ্রিদা কাহলো’র আদলে তৈরি একটি বার্বি ডল ।
তবে ফ্রিদার পরিবারের সদস্যদের দাবি, উৎপাদনকারীরা তাদের অনুমতি ছাড়াই শিল্পীর ছবি ব্যবহার করেচে।
ফ্রিদার ভাজতির মেয়ে মারা রোমিও দাবি করেন, পুতুলটির চেহারার রঙ খুবই হালকা।
তিনি বলেন, ফ্রিদার আরো সব বৈশিষ্ট্যগুলো এখানে থাকলে হয়তো আমার ভালো লাগতো। তবে এই হালকা চোখের পুতুলে সেসবের কিছুই নেই।
আদালতের রায় প্রকাশের পরে রোমিও জানান, তিনি খুবই রোমাঞ্চিত হয়েছেন এবং ভেবেছেন, শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার হলো।
তিনি বলেন, এটাকে বরং একটা মেক্সিকান পুতুল বলা যেতে পারে যেটার ত্বক একটু গাঢ়, জোড়াভ্রু আর খুব বেশি চিকন। ফ্রিদা এতটাও চিকন ছিলেন না। এই পুতুলটিকে মেক্সিকান পোশাক ও মেক্সিকান গয়নাতেই সাজানো হয়েছে।
বিশ শতকের সেরা চিত্রশিল্পীদের একজন বলা হয় ফ্রিদাকে। তার আঁকা কিছু আত্মচিত্র যেগুলো ব্যথা ও বিচ্ছিন্নতাকে তুলে ধরেছে সেগুলোর জন্য বিখ্যাত ফ্রিদা।
আদালতের দেয়া এই রায় শুধুমাত্র মেক্সিকোতেই প্রযোজ্য। তবে এই রায়ের বিপক্ষে ম্যাটেল আপিল করবে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানায়নি তাদের আইনজীবীরা। একই পদক্ষেপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিতে চাইছে ফ্রিদার পরিবার।
১৯০৭ খেকে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন ফ্রিদা। যৌবনে মেক্সিকোর কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। নিজের শিল্পকলার মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেছেন মেক্সিকোর সংস্কৃতি।
তার সময়ে নারীদের কিছু সামাজিক বাধ্যবাধকতাও ভেঙেছেন ফ্রিদা। পরেছেন ট্রাউজার, অন্যান্য পুরুষের পাশাপাশি মেয়েদের সঙ্গেও গড়ে তুলেছেন সম্পর্ক। তার ছবিতেও শরীরের সঙ্গে তার যন্ত্রণাদায়ক সম্পর্কের চিত্র উঠে এসেছে। যে শরীর স্পিনা বিফিডা, পোলিও ও বাস দুর্ঘটনায় অচল হয়ে পড়েছিলো।
তবে তার শারীরিক প্রতিবন্ধীতাকে তুলে ধরা হয়নি এসব বার্বি ডলে।








