ফুটবল

ফ্রান্স-বেলজিয়াম লড়াইয়ের আড়ালের ৫ লড়াই

ফ্রান্স-বেলজিয়াম লড়াইয়ের আড়ালের ৫ লড়াই

একই সীমান্ত ভাগাভাগি করেছে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামকে। দুই দেশের ভাষাও প্রায় একই, কমিক বইয়ের প্রতি ভালোবাসাও সমান। আর থিয়েরি অঁরি নামের এক সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে নিয়ে রশি টানাটানি। মঙ্গলবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে লড়াইয়ের আগে এই যখন অবস্থা, তখন লড়াই জমিয়ে দিতে হাজির আরও পাঁচ কারণও-

একজন পক্ষত্যাগকারী ফরোয়ার্ড
ম্যাচে মাঠে নামলে বেলজিয়াম ডাগআউটে হয়তো তাকাতে চাইবেন না ফ্রান্সের খেলোয়াড়রা। কারণ শত্রুশিবিরে তখন বিভীষণ হয়ে বসে থাকবেন ফ্রান্সের থিয়েরি অঁরি। যনি বেলজিয়ামের সহকারী কোচের ভূমিকায়। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমের জ্বালাটা আরও বেশি, কারণ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে অঁরি ছিলেন তার দলের সর্বকনিষ্ঠ একজন সদস্যও!

নিজ দেশের বিপক্ষেই রণকৌশল সাজাচ্ছেন আর্সেনাল ও বার্সেলোনার হয়ে খেলা অঁরি, এমন চিন্তা নাকি মাথাতেও আনতে পারছেন না দেশম। তার চোখে ‘এ দৃশ্য বড়ই হৃদয়বিদারক!’

সুযোগ ছিল ফ্রান্সের কোচ হওয়ার। কিন্তু অঁরি বেছে নেন কিনা বেলজিয়ামকেই। অঁরির এই কাজ ফ্রান্সের অনেকেই ভালোভাবে নিতে পারছেন না। তাদের মধ্যে অলিভিয়ের জিরুদ একজন। ফরাসি দলের তারকা বলছেন, অঁরিকে বুঝিয়ে দিতে চান তিনি ভুলপক্ষ বেছে নিয়েছেন।

‘থিয়েরিকে প্রতিপক্ষের ডেরায় দেখাটা খুবই জ্বালাময়ী। আমি ব্যক্তিগতভাবে খুবই গর্ববোধ করবো যদি তাকে বুঝিয়ে দিতে পারি যে তিনি ভুল দল বাছাই করেছেন’ -এমন মন্তব্য করে জিরুদ বলেছেন, ‘আমি চাই থিয়েরি আমিসহ সকল ফরাসি ফুটবলারকে পরামর্শ দিক। আপনারা কিন্তু আবার মনে করে বসবেন না যে তার কাজে আমি ঈর্ষান্বিত।’

অঁরির উত্তরসূরি
অঁরিকে নিয়ে এখন অসন্তোষ থাকলেও একটা সময় তার শূন্যস্থান নিয়ে হাহাকার করেছে ফ্রান্সের ফুটবল। সেই অভাবটা এবার আর বোধ করছে না লা ব্লুজরা। কারণ দলে আছেন কাইলিয়ান এমবাপে। নতুন বিস্ময়!

অঁরির সঙ্গে আর্শ্চজনকভাবে মিল আছে এমবাপের। খেলার ধরণ তো বটেই, দুজনই বেড়ে উঠেছেন প্যারিসের শহরতলীতে। এমবাপে বন্ডি আর অঁরি বেড়ে উঠেছেন লা উলিসে। দুজনেই পজিশনে লেফট উইঙ্গার, শুরুটা মোনাকোর হয়ে। আর দুজনেই উঠতি বয়সে জিতেছেন ফ্রেঞ্চ লিগের শিরোপা।

এমন মিল থাকায় এমবাপেকে নিজের উত্তরসূরি মেনে খুশি থাকতে পারতেন অঁরি। কিন্তু তা আর হচ্ছে কই? বেলজিয়ামকে জেতাতে হলে অবশ্যই আটকাতে হবে এমবাপেকে। আর এই কৌশল খুঁজে বের করতে হবে তাকেই। আর ১৯ বছর বয়সী ফরাসি উঠতি তারকার মূল দায়িত্ব হবে তার ‘দ্রোণাচার্য’কে ভুল প্রমাণ করা। কে সফল সেটা জানা যাবে মঙ্গলবারের পর।

প্রিমিয়ার লিগ খেলা সহকর্মী
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে খেলেন। জাতীয় দলে আসলেই প্রতিপক্ষ। কিন্তু এরপরও ক্লাবের সেই আমেজটা রয়েই যাবে। এমনই বলছেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার নাসের চাডলি।

চাডলি কিন্তু মিথ্যে বলেননি। চেলসির দিকে তাকালেই মিলটা খুঁজে পাওয়া যাবে। থিবো কোর্তয়া, এডেন হ্যাজার্ডের সঙ্গে এনগোলো কন্তে, অলিভিয়ের জিরুদরা এক হয়ে প্রতিপক্ষকে বধ করার কৌশল খোঁজেন। আর ম্যানইউতে পল পগবার সঙ্গী বেলজিয়ান মারোয়ান ফেলাইনি ও রোমেলু লুকাকু।

পাভার্ড যখন নায়ক
বিশ্বকাপের আগে মাতামাতি তো দূরের কথা ইউরোপের বাইরে বেঞ্জামিন পাভার্ড নামটাই জানা ছিল না অনেকের। সেই পাভার্ডই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন এক গোল করলেন যে তিনিই এখন ফরাসিদের মধ্যমণি।

দুই বছর আগেও ইউরোতে তিনি ফ্রান্সকে সমর্থন যুগিয়েছেন লিলেঁর ফ্যান জোনে দাঁড়িয়ে। সেই পাভার্ড যেন বেলজিয়ামের বিপক্ষে অগ্নিমূর্তি ধারণ করতে পারেন সেজন্য ১০হাজার ভক্তদের নিয়ে পাভার্ডের জন্মস্থান সেন্ট হুঁইয়েতে পোস্টার-ব্যানার দিয়ে ছেয়ে দিয়েছেন সে শহরের মেয়র। কারণ ম্যাচটা একে বেলজিয়ামের বিপক্ষে তারওপর মাঠে তাদের নায়ক পাভার্ড।

অ্যাস্টেরিক্স বনাম টিনটিন
এ দুই জনপ্রিয় কমিক চরিত্রের নামের মাহাত্ম্য তারাই বুঝবেন যারা নিয়মিত কমিক পড়ে থাকেন। বেলজিয়ামের বর্ণান্ধ চিত্রশিল্পী হার্জের বিখ্যাত টিনটিনের সঙ্গে গলিল চরিত্র অ্যাস্টেরিক্সকে নিয়ে মাতামাতি নতুন করে শুরু হয়েছে ফ্রান্স-বেলজিয়াম ম্যাচকে কেন্দ্র করে।

ফ্রান্সের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম এল’কুইপে যেমন টিনটিনের ‘চন্দ্র অভিযানে’র চরিত্র পরিবর্তন করে জিরুদ, দেশমকে বসিয়ে দিয়েছে। আর তাদের আটকাতে অপেক্ষায় থিবো কোর্তয়া, কেভিন ডি ব্রুইন ও রোমেলু লুকাকু।

বিষয়:ফ্রান্স-বেলজিয়াম ম্যাচ বিশ্বকাপ সর্বশেষ রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…