ফ্রান্সে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে গত সপ্তাহের শনি-রোববারের পর আবারও শুরু হয়েছে বিশাল বিক্ষোভ। এর অংশ হিসেবে এক বিক্ষোভকারী শুক্রবার হাতে গ্রেনেড নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে দেখা করতে দেয়ার দাবি জানান।
এরপর অবশ্য প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে আলোচনা শেষে তাকে আত্মসমর্পণ করাতে সফল হয়েছে পুলিশ। পশ্চিম ফ্রান্সের শহর অ্যাঙ্গারসে আত্মসমর্পণ শেষে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তবে ওই ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেনি ফরাসি পুলিশ।
বিবিসি জানায়, বিক্ষোভকারীদের হাই-ভিজিবিলিটি (স্বল্প আলোতে উজ্জ্বল দেখা যায়) জ্যাকেটের মতোই একটি হলদে-সবুজ জ্যাকেট পরে শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে অন্যান্যদের সঙ্গে এসপাচে আনজু শপিং সেন্টারের সামনে আন্দোলনে যোগ দেন ৪৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি।
ওই সময় হাতে একটি গ্রেনেড উঁচিয়ে ধরে তিনি দাবি জানান যেন বিক্ষোভকারীদের প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য প্রেসিডেন্টের রাষ্ট্রীয় বাসভবন এলিসি প্রাসাদে ঢুকতে দেয়া হয়।
শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল পৌনে ৪টার দিকে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় গ্রেনেডধারীকে নিরস্ত করতে। টানা পৌনে ছয় ঘণ্টা বাদানুবাদ আর আলোচনা শেষে রাত সাড়ে ১০টার কিছুক্ষণ আগে পুলিশের হাতে গ্রেনেডটি দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওই ব্যক্তি।
বিস্ফোরক বস্তুটিকে গ্রেনেড হিসেবেই প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপি’কে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তা বারনার্ড গোনজালেজ। তিনি বলেন, এখনো জিনিসটি পরীক্ষা করে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে গ্রেনেডটি নকল নয় এবং সেটি আশপাশে থাকা মানুষদের জন্য আসলেই বিপজ্জনক ছিল বলে নিশ্চিত করেন গোনজালেজ।

ফ্রান্সে যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে মূলত ডিজেলই ব্যবহৃত হয় সবচেয়ে বেশি। গত ১২ মাসে এই ডিজেলের দাম দেশটিতে ২৩ শতাংশের মতো বেড়েছে, অর্থাৎ প্রতি লিটারে গড়ে ১.৫১ ইউরো। ২০০০ সালের পর এটাই ডিজেলের সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধি।
বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং আবার কিছুটা করে কমছে। কিন্তু মাক্রোঁ সরকার তার পরিচ্ছন্ন গাড়ি ও জ্বালানি কর্মসূচির অধীনে চলতি বছরে প্রতি লিটার ডিজেলে ৭.৬ সেন্ট এবং প্রতি লিটার পেট্রোলে ৩.৯ সেন্ট হাইড্রোকার্বন ট্যাক্স আরোপ করায় দেশটিতে জ্বালানির দাম বাড়ার পর আর কমছে না।
তার ওপর আগামী ১ জানুয়ারি থেকে প্রতি লিটার ডিজেলে আরও ৬.৫ সেন্ট ও পেট্রোলে ২.৯ সেন্ট মূল্য বৃদ্ধির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে প্রেসিডেন্টের ওপর ক্ষুব্ধ জনগণ। তারই ফল হিসেবে এই আন্দোলন। আন্দোলনের জবাব দেয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো বক্তব্য বা যোগাযোগের চেষ্টা না দেখায় বিক্ষোভকারীরা আরও বেশি উত্তেজিত হয়ে উঠছে।
অবশ্য করারোপের সময়ই মাক্রোঁ দাবি করেছিলেন, তিন-চতুর্থাংশ মূল্য বৃদ্ধির জন্যই দায়ী বৈশ্বিক মূল্য বৃদ্ধি। দেশে নবায়নযোগ্য শক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্যই জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর কর বৃদ্ধি দরকার বলে ওই সময় মন্তব্য করেন তিনি।
গত শনিবার ফ্রান্সের ২ হাজারেরও বেশি স্থানে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মানুষ এই প্রতিবাদে অংশ নেয়। রোববার সংখ্যাটি আরও বাড়ে। চলতি সপ্তাহের শনিবার আরও অন্তত ৩০ হাজার বিক্ষোভকারী যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








