ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে একজনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারতে আবারও আলোচনায় ৬৭ ধারা। গ্রেপ্তারের ঘটনাকে বিরোধীরা ভিন্নমত এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর আঘাত বলে সমালোচনা করলেও বিজেপি বলছে, সমালোচনা আর অবমাননা এক নয়।
সমালোচনাকে স্বাগত জানালেও অশ্লীল, অরুচিকর শব্দ দিয়ে আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করছে বিজেপি।
২০১৫ সালের মার্চে তথ্যপ্রযু্ক্তি আইনের ৬৬এ ধারার অস্বচ্ছতার কারণে তা বাতিল করে দেয় ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। ধারা ৬৭টিও একই ধরণের দ্বিধা তৈরি করছে। এই ধারা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কিছু প্রকাশ ও তা আদান-প্রদানে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।
৩০ অক্টোবর এই ধারায় তামিলনাড়ুর ভিরুধুনাগর জেলার এস. থিরুমুরুগানকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৭ ধারা এবং আইপিসি’র ৫০৫ ধারা অনুযায়ী অভিযোগ দায়ের করা হয় তার বিরুদ্ধে।
থিরুমুরুগানের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ফেসবুক চ্যাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়। সেই বার্তাটি পাঠানো হয়েছিলো বিজেপির জেলা সেক্রেটারি কে. মারিমুথুর কাছে। তার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে থিরুমুরুগানকে আটক করা হয় বলে জানায় ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভিরুধুনগর এর এসপি এম. রাজারাজান জানান, তারা দুজনই ফেসবুক বন্ধু। প্রথমে মারিমুথু মার্সাল মুভিতে বিজয়ের বিতর্কিত ডায়ালগের সমালোচনা করে ফেসবুক মেসেঞ্জারে একটা মেসেজ পাঠায়। তার জবাবে থিরুমুরুগান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে। এই মেসেজের স্ক্রিনশটসহ অভিযোগ দায়ের করা হয়।
মার্সাল মুভির যে অংশটি নিয়ে বিদ্রুপ করে মারিমুথু তাতে গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্সের (জিএসটি) সমালোচনা করা হয়।
বিজেপির মুখপাত্র নারায়ানান তিরুপাঠি বলেন, থিরুমুরুগানের মন্তব্যটি অবমাননামূলক, সমালোচনা নয়। অবমাননা আর সমালোচনা এক নয়। অশ্লীল শব্দে কাউকে অবমাননা উৎসাহিত করা যায় না। বিজেপি যেকোন ধরণের সমালোচনাকে স্বাগত জানায় কিন্তু অরুচিকর বা অকথ্য ভাষায় মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
বিজেপি মুখপাত্র বলেন, আমরা সবাই একটা সমাজে বাস করি। আমি নিজেও সামাজিক মাধ্যমে অনেক সক্রিয়। কিন্তু আমি অরুচিকর মন্তব্যকে কখনও উৎসাহিত করি না।
স্থানীয় রাজনৈতিক দল ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলছে: বিষয়টি ভিন্নমত, মুক্তমত এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উপর আঘাত।







