গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর হ্যাটট্রিকে স্পেনের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে ফুরফুরে মেজাজেই আছে পর্তুগাল। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে হেরে বসা মরক্কো ইতিহাস থেকে আত্মবিশ্বাস নিচ্ছে ঘুরে দাঁড়ানোর। ১৯৮৬ বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বে পর্তুগালকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল দেশটি। বুধবার মুখোমুখি হবে শক্তি তারতম্যের দলদুটি।
গ্রুপ ‘বি’তে এখন পর্যন্ত একটি জয় নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ইরান। পর্তুগাল ও স্পেন ড্র করায় ১ পয়েন্ট করে পেয়েছে। আর শেষমুহূর্তের আত্মঘাতী গোলে জিতে ইরান জিতে যাওয়ায় মরক্কোকে একটি মাইনাস গোলের ক্ষত নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানীতে অবস্থান করতে হচ্ছে।
মরক্কোকে হারালেই দ্বিতীয় রাউন্ডের পথে এক ধাপ এগিয়ে যাবে ফার্নান্দো সান্তোসের পর্তুগাল। লক্ষ্য ঠিক রেখেই শিষ্যদের প্রস্তুত করছেন তিনি। প্রতিপক্ষ মরক্কো বলে অনুশীলনে ছিল না ছাড়। মঙ্গলবারের অনুশীলনে আবার ফুরফুরে মেজাজেও দেখা মিলেছে তার দলের। হ্যাটট্রিক-ম্যান অদিনায়ক রোনালদো ছিলেন বেশি প্রাণবন্ত।
শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে যে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে ইনিয়েস্তাদের জেতার স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা রোনালদো, গোটাবিশ্বই সেটার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। প্রশংসা থামছে না কয়েকদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও। যদিও সিআর সেভেন উচ্ছ্বাসে ভাসছেন না। উল্টো রোববার থেকেই নিজেদের পরের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

প্রথম ম্যাচে না জিতলেও যেভাবে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িছে পর্তুগাল, সেটি পুরো দলেরই আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে গিয়েছে কয়েকগুণ। প্রস্তুতি শিবিরে শরীরি ভাষাই সেটা ফুটে উঠছিল।
অনুশীলনে রোনালদোকে তার বিখ্যাত ফ্রি-কিক এবং মাধ্যাকর্ষণকে হার মানানো লাফে হেড দেয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। মাঝে মাঝে হাসি-ঠাট্টাতেও মাতলেন সতীর্থ ব্রুনো আলভেজ এবং পেপের সঙ্গে।
পর্তুগিজ কোচ সান্তোস অবশ্য অতটা নির্ভার নন। তাকে ভাবাচ্ছে দলের খুব বেশি রোনালদো নির্ভরতা, আর রক্ষণে অভিজ্ঞ পেপে ও ফন্টের ব্যর্থতা।

চতুর্থ ফুটবলার হিসেবে চার বিশ্বকাপে গোল করার কৃতিত্ব দেখানোর পর রোনালদো বলেছেন, ‘দারুণ লাগছে খেলোয়াড় জীবনে আরো একটা রেকর্ড গড়তে পেরে।’ সঙ্গে পরের ম্যাচগুলোতে দলকে জয় এনে দিতে বদ্ধপরিকর রিয়াল তারকা। তাতে তার গোলসংখ্যা আরও বাড়বে নির্ঘাত।
সেখানে প্রথম ম্যাচে আত্মঘাতী গোলে ইরানের কাছে ০-১তে হেরে যাওয়া মরক্কো সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই সামনে পড়ছে বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়নদের। যাদের আছে রোনালদোর মতো গোলমেশিন। মরক্কো তারপরও আত্মবিশ্বাসী। পর্তুগালের বিপক্ষে হের্ভে রেনের দল মাঠে নামার আগে প্রথম চ্যালেঞ্জ ইরানের বিরুদ্ধে আত্মঘাতী গোলে হারের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা। তবে মাঠে নেমে সেসব ভুলে নিজেদের খেলাটা দিয়েই পর্তুগিজদের আটকাতে চায় দলটি।
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চারজন ডিফেন্ডারকে খেলানোর কথা ভাবছে মরক্কো এবং পর্তুগিজ স্ট্রাইকার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে আটকে রাখতে ডিফেন্ডার নাবিল ডিরারে ভরসা রাখছেন হের্ভে। ইরানের সঙ্গে ম্যাচে ভালো করতে না পারা আইয়ূর খাবির জায়গায় খালিদ বোতালিবকে দেখা যেতে পারে মূল একাদশে। সঙ্গে মেহেদী বেনাতিয়া ও আশরাফ হাকিমি তো থাকবেনই।

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বের ম্যাচে ৩-১ গোলে পর্তুগালকে হারানো মরক্কো আলাদা একটা আত্মবিশ্বাস পাচ্ছে, সেবার বিশ্বকাপের দ্বিতীয় পর্বে যাওয়াই এখন পর্যন্ত তাদের সেরা সাফল্য। ফিফা টেবিলে ৪৮ নম্বরে থাকা মরক্কো তাদের শেষ বিশ্বকাপ খেলেছে ১৯৯৮ সালে। এবার আবারও সেই সেরা সাফল্যের পুনরাব্বৃত্তি করতে চায় দলটি।
মরক্কো দল হিসেবে বেশ গোছানো। খেলোয়াড়দের নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ। ইরান ম্যাচে সেটার প্রতিফলন ঘটেছে। দলটিকে ভোগাচ্ছে একজন যোগ্য স্ট্রাইকারের অভাব। যার জন্য বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ সাজিয়েও ইরানের সঙ্গে গোল পায়নি দলটি।
বুধবার বি গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় মুখোমুখি হবে পর্তুগাল ও মরক্কো।







