ইউরোপিয়ান সুপার লিগে ফিফা ও উয়েফার বাধায় ফুটবল এজেন্টদের মাঝে উত্তেজনার শুরু হয়েছিল। সেই আগুনে ঘি ঢালতে চলেছে ফিফা। মেসি-রোনালদো-নেইমারদের এজেন্টরা ছয় শতাংশের বেশি কমিশন পকেটে ঢোকাতে পারবেন না, এমন এক নতুন নিয়ম চালু করতে চলেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
আসছে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে অর্থাৎ, ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে এ নিয়ম কার্যকরের প্রস্তাব করেছে ফিফা। তারা নিয়মের খসড়াও তৈরি করেছে। এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসা বাকি যদিও।
নিয়মটি পাশ হলে, ফুটবলে লাথি না মেরেও কাড়িকাড়ি অর্থ উপার্জন করা এজেন্টদের বাড়তি আয়ের রাস্তা অনেকটা বন্ধ হয়ে যাবে। বাবা-ভাই, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী অথবা এজেন্ট, দল আর খেলোয়াড়ের মাঝে সংযোগকারী সবাই থাকবেন নতুন নিয়মের আওতায়।
ফিফার এই উদ্যোগ ফুটবলে বড় বিতর্কের সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন অনেক এজেন্ট। ফুটবলারদের দামি এজেন্ট হিসেবে পরিচিত মিনো রাইওলার মতো ব্যক্তিরা নিয়মটির বিরোধিতা করেছেন। এমন পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। বিষয়টি কার্যকর হলে ফিফার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুমকিও ছুঁড়েছেন অনেকে।
নতুন নিয়ম মিনো রাইওলা, হোর্হে মেন্ডেজদের মতো ফুটবল এজেন্টদের মাথাব্যথার কারণ হওয়া স্বাভাবিক। এতে তাদের আয়ের পথটিতে সীমা নির্ধারণ হয়ে যাবে। সংকুচিত হয়ে যাবে কমিশনের পরিমাণ।
২০১৬ সালের গ্রীষ্মে রাইওলা ক্লায়েন্ট হিসেবে ইব্রাহিমোভিচ, পগবা, মাখিতারিয়ান আর মারিও বালোতেল্লি থেকে ৫০ মিলিয়ন ইউরো কমিশন পকেটে পুরেছিলেন। চলতি মৌসুমে দলবদলের কেন্দ্রে থাকা আর্লিং হালান্ডকে যদি নতুন ক্লাবে স্থানান্তর করতে পারেন, তাহলে রাইওলা এজেন্ট হিসেবে পাবেন ৬ মিলিয়ন ইউরো।
এজেন্টরা বলছেন, ফিফার পদক্ষেপটি তাদের অধিকারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মটিকে অনেকে ইউরোপীয় সুপার লিগের আয়োজনের মতো বিতর্কিত ভাবছেন। জানুয়ারিতে দলবদলের বাজারেও বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা তাদের।
পদক্ষেপটিকে এখানেই থামাতে চান ফুটবলারদের এজেন্টরা। মুক্ত বাজার আইন, পুঁজি ও পরিসেবার সুষ্ঠু সঞ্চালনের বিরুদ্ধে যায় কিনা তা নির্ধারণ করতে আদালতে আইনি ব্যবস্থা নিতে চলেছেন তারা। এজেন্টরা ইউরোপীয় কোনো একটি দেশের সাহায্য নেয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তাদের আশা, মামলাটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিচার আদালতে সুফল আনবে।
এজেন্টরা ফুটবলারদের দলবদলের জন্য যে কমিশন চার্জ করেন, তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। ফিফা চায়, খেলোয়াড়দের চুক্তি মূল্য থেকে এজেন্টরা তিন শতাংশের কম কমিশন চার্জ করবে।
চোখ কপালে ওঠার মতো হলেও সত্যি যে, গত মৌসুমের দলবদলে ৪৫০ মিলিয়ন ইউরো এজেন্টদের পকেটে ঢুকেছে। ফুটবল ফ্যামিলি নামের এজেন্টদের একটি গ্রুপ থেকে ২০১৫ সালে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে ফিফা। এতে প্রতিটি ফেডারেশন তার নিজস্ব নিয়ম এবং ব্যবস্থা তৈরি করতে পারত।
ফিফা মনে করছে, সেকারণে তারা সম্প্রতি আইনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে। খেলোয়াড় ও ক্লাবের মধ্যে দ্বন্দ্বে হস্তক্ষেপ করার ক্ষমতাও খুইয়েছে। সেটা ফিরিয়ে আনতেই নতুন নিয়মের পথে এগোচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থাটি।








