সিলেট থেকে: মাসুক মিয়া জনিকে কোচ জেমি ডের সঙ্গে খুনসুটি করতে দেখা গেল অনুশীলনেই। ঘাম ঝরানো পর্ব শেষে দলের বাকিরাও মাঠ থেকে ফিরলেন হাসি হাসি মুখ করে। এক ম্যাচ হাতে রেখে সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ায় বাংলাদেশের অনুশীলনটা তো ফুরফুরে মেজাজেই হওয়ার কথা!
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক গোল্ড কাপে গ্রুপ ‘বি’র শেষ ম্যাচে শুক্রবার বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ফিলিপিন্স। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে। বুধবার ফিলিপিন্সের কাছে লাওস ৩-১ গোলে হেরে বসায় শুক্রবারের ম্যাচটি গ্রুপসেরা হওয়ার মঞ্চ বাংলাদেশ-ফিলিপিন্সের। উদ্বোধনী ম্যাচে লাওসকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের কাজটা ঠিকঠাক সেরে রেখেছেন জামাল ভুঁইয়ারা।
দুই দলের সেমিফাইনাল আগেই নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় এই ম্যাচ অনেকটা আনুষ্ঠানিকতারও। সমানভাবে নির্ভার উভয় দলই। নির্ভার বলেই মূল একাদশের অনেককে ডাগআউটে বসিয়ে রাখার সাহস পাচ্ছে বাংলাদেশ-ফিলিপিন্স।
স্বাগতিক শিবিরে ছোটখাটো চোটজনিত সমস্যাও আছে। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল আছেন সেই তালিকায়। তাকে ফিলিপিন্স ম্যাচে বিশ্রাম দেয়ার পক্ষে কোচ। অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়ারও মিলতে পারে বিশ্রাম। যদিও লাল-সবুজ অধিনায়ক এখনো নিশ্চিত নন তাকে শুক্রবার খেলানো হবে কিনা! মূল একাদশে থাকতে পারে আরও কয়েকটি পরিবর্তন। মূলত ডাগআউটের খেলোয়াড়দের বাজিয়ে দেখাই এ ম্যাচে জেমি ডের উদ্দেশ্য।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে নকআউটে অন্যগ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দলকে পাওয়া যায় প্রতিপক্ষ হিসেবে। মূল একাদশকে বসিয়ে রাখায় যদি হেরে বসে বাংলাদেশ? তাতে খেলতে হবে গ্রুপ ‘এ’র সেরা দলের বিপক্ষে! তাহলে কেনো এ ঝুঁকি নেয়া? জেমি ডে উপস্থাপন করলেন পক্ষের যুক্তি।
‘প্যালেস্টাইন আর তাজিকিস্তান প্রায় সমান সমান। আর ‘এ’ গ্রুপ থেকে এরাই সম্ভাব্য সেমিফাইনালিস্ট। সেখানে এদের একদলের বিপক্ষেই লড়তে হবে আমাদের। তাই খেলোয়াড়দের প্রতি আমার পরামর্শ, ফিলিপিন্সের বিপক্ষে চাপ না নিয়ে ম্যাচটা উপভোগ করা। ডাগআউটে কয়েকজন আছে যাদের একটা হলেও ম্যাচ খেলতে দিতে হবে। ওরা নামলে যে আমরা হেরে যাবো তেমনটা কিন্তু নয়। আমরা ম্যাচ জয়ের জন্যই নামবো। পাশাপাশি ম্যাচটা উপভোগও করতে বলবো।’
জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামতে চান। কোচের সঙ্গে একমত জামালও। সম্ভব হলে সেমিতে প্যালেস্টাইনকে এড়িয়ে যেতে চান স্বাগতিক অধিনায়ক, ‘আমাদের জিততেই হবে। অন্য গ্রুপে প্যালেস্টাইন আছে, তাজিকিস্তান আছেন। প্যালেস্টাইন সবচেয়ে শক্তিশালী। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলে ওদের হয়তো এড়ানো যাবে।’
ফিলিপিন্সের ব্যাপারটা আবার বাংলাদেশের থেকে একটু আলাদা। লাওসের বিপক্ষে ম্যাচের মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে সিলেটে পৌঁছান দলটির ৭জন খেলোয়াড় ও সহকারী কোচ আন্দ্রেস গঞ্জালেজ। মূল কোচ না আসায় গঞ্জালেজই সামলাচ্ছেন দলকে। লাওসের বিপক্ষে খেলা দলকে বিশ্রামে রেখে বাকিদের বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে নামিয়েছেন তিনি। বাংলাদেশ ম্যাচে খেলতে দেখা যেতে পারে তাদেরই।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিপিন্সের বিপক্ষে দুই দেখায় একটি করে জয়-হারে সমান অবস্থানে বাংলাদেশ। এমনিতেই দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছে দেশটি। তার উপর বাংলাদেশের বিপক্ষে দেখা মিলতে পারে সেই দলেরই ডাগআউটের খেলোয়াড়দের। এমন এক দলের বিপক্ষে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে ফিলিপিন্সের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় জয়ের জন্য ঝাপিয়ে পড়তেই পারেন লাল-সবুজের ফুটবলাররা।









