বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গু খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। তাই ডেঙ্গু মোকাবিলায় এবার ফিলিপিন্সের স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ডেঙ্গুর বিতর্কিত ভ্যাকসিন ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’র ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির একদল ডাক্তার।
ডেঙ্গুর ওই ভ্যাকসিন নিয়ে মামলা চলমান থাকলেও ‘সত্য ও জনগণের কল্যাণে ডাক্তার’ সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতির মাধ্যমে এ আহ্বান জানানো হয়।
দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে দেয়া বিবৃতিতে ওই ভ্যাকসিনকে আবারও বাজারজাত করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ডাক্তার দলের নেতৃত্ব দেয়া এস্পেরানজা ক্যাব্রাল বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ফিলিপিন্সে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেশি এবং বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে প্রথম ডেঙ্গু ভ্যাকসিনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
ডাক্তারদের ওই সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক মিংগুটা পাদিলা বলেন, ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’র বাজারজাত করতে দেয়ার অর্থ এই নয় যে তা প্রত্যকের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। আর এর জন্য সরকারকেও বাড়তি ব্যয় করতে হবে না। কিন্তু ডাক্তারদের কাছে সরবরাহ হলে অন্তত তারা যেন লক্ষাধিক রোগীদের দিতে পারে এবং রোগীরা যেন উপকার পায়।
ফ্রান্সভিত্তিক আন্তর্জাতিক ওষুধ উদ্ভাবক ও প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্যানোফি বিশ্বে প্রথম ডেঙ্গু রোগের জন্য ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ নামের এই ভ্যাকসিন প্রস্তুত করে।
২০১৫ সালে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) ডেঙ্গুর রোগের ভ্যাকসিন হিসেবে ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’কে বাজারজাত করার জন্য অনুমোদন দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনের আগে প্রথমবারের মতো ২০১৫ সালে ৯ থেকে ৪৫ বছর বয়সের ব্যক্তিদের উপর মেক্সিকোতে এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালায় প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। একই বছর ফিলিপিন্স ও ব্রাজিলে ভ্যাকসিন চালু করা হয়।
বর্তমানে বিশ্বের ২০টি দেশে এই ভ্যাকসিন চালু আছে। দেশগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, এল সালভাদর, কোস্টারিকা, পেরু ও প্যারাগুয়ে অন্যতম।
ফিলিপিন্সের সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানেতে গ্যারিন বলেন, ম্যানিলার মেট্রো এলাকায় এবং কিছু প্রদেশে তিন পর্যায়ে ওই ভ্যাকসিন দেয়া হয়। ২০১৬ সালে স্বাস্থ্য বিভাগ দেশটির ডেঙ্গু আক্রান্ত তিনটি প্রদেশে স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহ করে।
দীর্ঘ পাঁচ বছরে ডেঙ্গভ্যাকসিয়ার কার্যকারিতা এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করতে সরকার ৩.৫ বিলিয়ন বরাদ্দ দেয়।
তবে নতুন এক গবেষণার উপর ভিত্তি করে ভ্যাকসিন প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান স্যানোফি ঘোষণা দেয়, যাদের আগে ডেঙ্গু হয়নি তাদের উপর ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। ওই ঘোষণার পর ২০১৭ সালে ফিলিপিন্সে ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ কিছু দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়।
২০১৮ সালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ফ্রান্সিসকো বলেছিলেন, ডেঙ্গু শক সিনড্রোম আক্রান্ত হওয়া যে ১৪ শিশু মারা যায় তাদের প্রত্যককেই ডেঙ্গভ্যাকসিয়ার টিকা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই ভ্যাকসিন প্রয়োগের ফলেই তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না তা বলেননি তিনি। তবে এরপর বেশিরভাগ পিতামাতা তাদের সন্তানদের কোনো ভ্যাকসিন দিতে রাজি হয়নি।
অন্যদিকে দেশটির বাজেট অধিবেশন চলাকালে সিনেটে বলা হয়, ‘ডেঙ্গভ্যাকসিয়া’ প্রয়োগের ফলে তাদের যে মৃত্যু হয়েছে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেনি।
সম্প্রতি দেশটিতে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি ডেঙ্গু রোগীর শনাক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে প্রায় ৫৬১ জনের মৃত্যু হয়।







