কিংবদন্তী গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভালো খবর দিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা। তারা বলছেন, শনিবার আহমেদ ইমতিয়াজের হৃদযন্ত্রে দুটি রিং পরানো হয়েছে। এখন তিনি সুস্থ আছেন।
হৃদযন্ত্রে ৮টা ব্লক ধরা পড়ার পর গত ১৬ মে অভিমানী এ শিল্পী অনেকটা হতাশা নিয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমি আমার হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে প্রস্তুত রয়েছি। তবে এর জন্য কারো সহায়তা লাগবে না। কোনো সরকারি সাহায্য বা শিল্পী, বন্ধু বান্ধব সাহায্য আমার দরকার নাই। আমি একাই যথেষ্ট।’
‘শুধু অপারেশন-এর পূর্বে ১০ সেকেন্ড এর জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা এবং কোরান শরিফ রাখতে চাই। আর, তোমরা আমার জন্যে শুধু দোয়া করবে। কোনো ভয় নাই।’
তার এমন আবেগঘন স্ট্যাটাসের পর গুণী এই সংগীত ব্যক্তিত্বের চিকিৎসার দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপরই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চিকিৎসকরা বাইপাসের পরিবর্তে রিং পরানোর সিদ্ধান্ত নেন।
সফলভাবে আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের হৃদযন্ত্রে রিং পরানোর পর পরিবার দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চেয়েছে। আমরা জানি, না বললেও তার মতো মানুষের সুস্থতার জন্য বহু ভক্ত দোয়া করেছেন। তার সুস্থতা পুরো দেশের জন্যই মঙ্গলের, অানন্দের।
আমরা দেখেছি, আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের অসুস্থতার কথা শুনে পুরো দেশের সংগীতানুরাগীদের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়েছিল। কিন্তু এখনকার খবর তাদের মনে আশা জাগিয়েছে। নিশ্চয়ই তিনি সুস্থ হয়ে আবারো নিজের সংগীতের ভুবনে ফিরে আসবেন। তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি উজ্জীবিত করবে ভক্তকূলকে।
আমরা মনে করি, যিনি ১৫ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেন, যুদ্ধের ময়দানে থেকে দেশকে শত্রুমুক্ত করে লাল-সবুজের পতাকা উড়াতে পারেন; সেই আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল অবশ্যই জীবনের যুদ্ধে জয়ী হবেন। আমরাও তার সুস্থতা কামনা করি। বাংলাদেশের সংগীত আপনার ফিরে আসার অপেক্ষায়।







