টানা ১৫ দিন পর মাঠের বাইরের একটি লড়াই থেকে অনেকটা মুক্তি পেলেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ সামি। তাকে স্বস্তি দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে কোনভাবেই যুক্ত নন তিনি। সেইসঙ্গে তাকে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে বোর্ডের চুক্তিতে। গ্রেড ‘বি’তে রাখা হচ্ছে সামিকে। এই রায়ে তার আইপিএল খেলার রাস্তাও খুলে গেল।
সামির স্ত্রী হাসিন জাহানের নানা অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট নির্ধারিত কমিটি বোর্ডের দুর্নীতি দমন শাখাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই মতো, সামিকে ডেকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রায় এক সপ্তাহ পর রায় জানাল বিসিসিআই। যেখানে ক্লিনশিট দেয়া হল সামিকে।
দুর্নীতি দমন শাখার শীর্ষ কর্মকর্তা নীরজ কুমার তদন্তের সেই গোপন তথ্য বিসিসিআিই’র সিওএ-র কাছে জমা দেন। তার পরই সিওএ জানিয়ে দেয়, আর কোন তদন্তের প্রয়োজন নেই। সঙ্গে সামিকে বোর্ডের চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী গ্রেড ‘বি’তে বছরে ৩ কোটি টাকা করে পাবেন এই ক্রিকেটাররা।
বোর্ডের দেয়া খবরে স্বস্তির শ্বাস ফেলছেন সামি। বোর্ড তাকে ক্লিনশিট দিয়েছে শোনার পরই বলেন, ‘এটাই আমার সবচেয়ে বড় জয়। জানতাম, আমি কোন ভুল করিনি। তবুও একটা মানসিক চাপ তো থাকেই। এরকম যেন কারও সঙ্গে না হয়। যতক্ষণ না কিছু প্রমাণ হচ্ছে ততক্ষণ হালছাড়া উচিত নয়।’
তবে সামির দাবি, তাকে যেন এই বিষয়ে আর কেউ কোন প্রশ্ন না করে। তার বিশ্বাস, দলের সকলেই জানেন এটা তার পারিবারিক বিষয়। তা নিয়ে যেন কেউ কথা না বলে।
মুক্তি পেয়ে সামি বলেছেন, ‘এবার খেলায় মন দিতে পারব। এই যে ব্রেকটা গেল, সেখান থেকে ফিরে আসতে একটু সময় দিতে হবে। তবে পারিবারিক সমস্যা এক দিকে আর এক দিকে আমার দেশ, আমার দল। সেটা আমার দায়িত্ব।’
সামির মতে, ভুল দোষারোপ হতেই পারে। তাই প্রমাণ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। তার মধ্যেই তিনি অনুশীলন করেছেন বলে জানিয়েছেন। এবার নিজের পুরোটা ক্রিকেটে দিতে চান।
ভারতীয় দলের এক নম্বর পেসারের বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ তুলেছিলেন খোদ তার স্ত্রী। হাসিন জাহানের অভিযোগ ছিল, লন্ডনের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন সামি। শুধু তাই নয়, মোহাম্মদ ভাই নাকি আলিশবা নামের পাকিস্তানি তরুণীকে দিয়ে সেই টাকা সামির হাতে পৌঁছে দিয়েছেন।
দুবাইতে সামির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঠিকই, তবে টাকার লেনদেন হয়নি, সংবাদমাধ্যমকে এই কথাই জানিয়েছিলেন আলিশবা। পাকিস্তানি তরুণীর সুরে সুর মিলিয়ে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছিলেন মোহাম্মদ ভাইও।
সামির বিরুদ্ধে তার স্ত্রী হাসিন জাহান বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ করেন মিডিয়ার সামনে। জাতীয় দলের সঙ্গে বিদেশ সফরের সময় যৌনকর্মীদের সঙ্গেও স্বামীর মেলামেশার অভিযোগ করেন। হাসিন অভিযোগ করার পর ভারতীয় বোর্ড সামির সঙ্গে কেন্দ্রীয় চুক্তি স্থগিত করে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সামি ভারতীয় দলে খেলতে পারবেন না বলেও তখন জানানো হয়।








