চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ন্যু ক্যাম্পে হাইভোল্টেজ ম্যাচে ধ্রুপদি লড়াইয়ে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের মুখোমুখি স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনা। সাম্প্রতিক অতীতের ফর্ম, দুই দলের পুরোনো দ্বৈরথ, সবকিছু মিলিয়ে ক্লাব ফুটবলের বিশ্বসেরা হওয়ার লড়াইয়ের শেষ ধাপ নিশ্চিত করার ম্যাচে ফুটবলভক্তরা নিশ্চিতভাবেই দেখতে পাবে অনিন্দ্য সুন্দর ফুটবলের প্রদর্শনী।
ঘরের মাঠ, চেনা পরিবেশ সঙ্গে মেসি-স্যুয়ারেজ-নেইমার ত্রয়ীর দুর্দান্ত ফর্ম সবকিছু মিলিয়ে ন্যু ক্যাম্পে গত আসরে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্নের কাছে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়ার মধুর প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ বার্সেলোনার সামনে।
দুই বছর আগেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের গ্লানি ভুলতে ঘরের মাঠে বায়ার্নকে সামনে পাওয়ার সুবর্ণ সুযোগের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করতে তাকিয়ে থাকবে বার্সা। এই মৌসুমে বার্সা ন্যু ক্যাম্পে খেলা ৫ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে।
২০১৩ সালের সেমিফাইনালে হারের পর বায়ার্নের কাছে অন্তত ন্যু ক্যাম্পে বার্সা আর হারেনি। অন্যদিকে বায়ার্নেরও বার্সার মাঠের রেকর্ড মোটেও মন্দ না। গত চার ম্যাচের ৩ টিতেই বায়ার্নে জয়। তবে মজার ব্যাপার, ২০০৯ সালে এই ন্যু ক্যাম্পেই ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের রেকর্ড গড়েছিলো বায়ার্ন মিউনিখ। যদিও ইতিহাস যাই হোক, মাঠের লড়াইয়ে অন্তত: দুই পরাশক্তিই কেউ কাউকে নাহি দেবে ছাড়, এমন মনোভাব নিয়েই মুখোমুখি হবে তারা।
গত আসরে একহালি গোলে আন্তসমর্পনের তীক্ত স্বাদ নিশ্চিতভাবেই এই ম্যাচের আগে বেশি করে নজরে রাখবে বার্সার মধ্যমনি আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসিকে। সে ম্যাচে অনেকটা মেসিসহ বার্সা ফরোয়ার্ডদের নিষ্প্রভ করে রাখতে পারলেও এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সাম্প্রতিক অতীতে ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর বার্সার হয়ে রেকর্ড সাফল্য সেই ইঙ্গিতই রাখছে। মেসি-স্যুয়ারেজ-নেইমার মিলে যা করেছেন, তাতে এটুকু বলা যায়, আক্রমণের ধার অনেক বেশিই থাকবে মেসিদের।
এই মৌসুমেই তো মেসি-অঁরি-ইতোর রেকর্ড ভেঙ্গে মেসি-স্যুয়ারেজ- নেইমার ত্রয়ী এরই মধ্যে গড়ে ফেলেছেন বার্সার হয়ে সবচেয়ে বেশি ১০৮ গোলের রেকর্ড। মেসির গোল হয়ে গেছে ৫১ টি, স্যুয়ারেজের ২৪ আর নেইমারের ৩৩ গোল। সাবেক ক্লাবের এই তিন ফরোয়ার্ডকে রুখতে তাই পেপ গার্ডিওলার রাখতে হবে বিশেষ পরিকল্পনাই। শোনা যাচ্ছে, ‘এমএসএন’ ত্রয়ীর আক্রমণ সামলাতে গার্ডিওলা মাঠে নামাতে পারেন তিনজন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারকে।
বায়ার্নকে এই ম্যাচে অনেকটাই খর্বশক্তির দল নামাতে হবে চোটের কারণে। নিশ্চিতভাবেই এই ম্যাচে দর্শক হয়েই থাকতে হচে দলের সেরা পারফরমার আরিয়ান রোবেন, রিবেরি, আলাবা, বাডস্টুবারদের। নাকের হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার পরও তাই মুখোশ পড়েই মাঠে নেমে পড়তে পারেন রবার্ট লেভানডফস্কি। চোট বায়ার্নের দু:শ্চিন্তা হলেও বড় কোনো ইনজুরি নেই তাই বার্সা কোচ লুইস এনরিকে মোটামুটি স্বস্তিতেই।
হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে মাঠের বাইরেও থাকছে কিছু স্নায়ুর লড়াই। ডাগ আউটে দুই দলের সাবেক সতীর্থ পেপ গার্ডিওলা-লুইস এনরিকে দ্বৈরথের দিকেও নজর থাকবে ফুটবলবিশ্বের। এই ম্যাচেই ক্লাব ছেড়ে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ন্যু ক্যাম্পে প্রতিপক্ষ দলের কোচ হিসেবে ডাগ আউটে থাকবেন পেপ গার্ডিওলা।
সাবেক সতীর্থ লুইস এনরিকে, মেসি, ইনিয়েস্তাদের সঙ্গে গার্ডিওলার পুনর্মিলনী ঘটবার উপলক্ষের এই ম্যাচে সাবেক দুই সতীর্থের ডাগ আউটে কৌশলের লড়াইও ফুটবলভক্তদের বিনোদনের রসদ জোগাবে।






