প্রথম ২৪ বলে রান ওঠে মাত্র ২। যারমধ্যে আবার খরচের খাতায় ওপেনার মার্টিন গাপটিলের উইকেট। বৃষ্টি শঙ্কা আর মেঘলা আকাশ মাথায় নিয়ে কেন টস জিতে ব্যাট করতে চাইলেন কেন উইলিয়ামসন, সেটা তারই ভালো জানার কথা! অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বাকি সতীর্থদের পক্ষে গেল না। মাঝে বৃষ্টিতে খেলা গড়াল রিজার্ভ ডেতে। সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুইদিন ধরে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড রান তুলল ৮ উইকেটে ২৩৯!
ওল্ড ট্রাফোর্ডে মঙ্গলবার বৃষ্টিতে থমকে গিয়েছিল ভারত-নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনাল। কিউই ইনিংসের ৪৬.১ ওভারের পর বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আর খেলা শুরুর পরিস্থিতি না-থাকায় মঙ্গলবারের মতো ম্যাচ বাতিল ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। সেমি ও ফাইনালে জন্য রিজার্ভ ডে থাকায় সেই খেলা একই জায়গা থেকে আবার শুরু হয় বুধবার।
বিশ্বকাপের নিয়মানুযায়ী নিউজিল্যান্ড ইনিংস যেখানে শেষ হয়েছিল বুধবার সেখান থেকেই শুরু হয় খেলা। অর্থাৎ, ৪৬.১ বলের পর থেকে শুরু হয় খেলা। এদিন টেলরকে প্রথমে বল করেন ভুবনেশ্বর। বুধবার ইনিংসের বাকি ২৩ থেকে মাত্র এক বাউন্ডারিতে যোগ হয় ২৮ রান। কিউইরা উইকেট হারায় তিনটি।
আগেরদিন ৬৭ রানে অপরাজিত থাকা রস টেলর আর মাত্র ৭ রান যোগ করে আউট হন দলীয় সর্বোচ্চ ৭৪ রানে। তিন রানে অপরাজিত থাকা টম ল্যাথামও টেলরের মতো ঠিক সাত রান যোগ করে আউট হন।
প্রথম সেমিফাইনালে প্রথম ৫০ ওভারে ছড়ি ঘুরিয়েছেন বোলাররাই। ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে অল্প রান নিয়ে লড়াই করতে হলে এখন বোলাররাই ভরসা কিউইদের। প্রথম ইনিংসে উইকেটের অবশ্য যা অবস্থা তাতে ট্রেন্ট বোল্ট-টিম সাউদিদের মতো সুইং নির্ভর বোলারদের চোখ চকচক করাই স্বাভাবিক।
বৃষ্টি থাকায় আগেরদিন ও মঙ্গলবার ম্যাচের আগ পর্যন্ত বেশিরভাগটা সময় ঢেকে রাখাই ছিল উইকেট। সেই উইকেটে প্রথমে ব্যাট করতে গিয়ে হাঁসফাঁস করে মরেন কিউই ব্যাটসম্যানরা। প্রথম দুই ওভারই হয় মেডেন। তৃতীয় ওভারে জাসপ্রীত বুমরাহর বলে বিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট ১ রান করা গাপটিল।
পরে উইকেটে এসে হেনরি নিকোলসকে নিয়ে খুঁটি গাড়ার চেষ্টা করেন উইলিয়ামসন। তবে ভিত্তি মজবুত না হলে যা হয় আরকি, রানও খুব বেশি হয়নি, উল্টো ৫১ বলে ২৮ করে জাদেজার বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান নিকোলস। নিউজিল্যান্ডের রান তখন ১৮.২ ওভারে ৬৯।
উইকেট যে পক্ষে সেটা আরও বেশি বোঝা যায় উইলিয়ামসনের ব্যাটিং দেখে। ৬৭ করে ৩৬তম ওভারে কিউই অধিনায়ক যখন ফিরেছেন, দলের রান ৩ উইকেটে ১৩৪। বল খেলেছেন ৯৫টি!
শুরুর দিকে বল অপচয়টা বোঝা হয়ে দাঁড়ানোয় হাত খুলতে চান জিমি নিশাম ও কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম। কেউই ব্যাট চওড়া করতে পারেননি। আউট হয়েছেন ১২ ও ১৬ করে।
একপ্রান্তে উইকেট হারালেও অন্যপ্রান্তে ধৈর্য ধরে টিকে ছিলেন রস টেলর। ৮৫ বলে ৬৭ করে রান বাড়ানোর চেষ্টায় যখন ব্যস্ত এ ডানহাতি ব্যাটসম্যান, তখনই ম্যাচে হানা দেয় শঙ্কার বৃষ্টি। ম্যাচের বয়স তখন ৪৬.১ ওভার। কিউইদের রান তখন ৫ উইকেটে ২১১। দ্বিতীয়দিন মাঠে নেমে তিন উইকেট হারিয়ে গতবারের ফাইনালিস্টরা যোগ করতে পারল ২৮ রান।
ভারতের হয়ে তিন উইকেট নিয়ে সফল বোলার ভুবনেশ্বর কুমার। এছাড়া জাদেজা, চাহাল, পান্ডিয়া ও বুমরাহ নেন একটি করে উইকেট।







