মানবতাবিরোধী অপরাধী কুখ্যাত আলবদর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির
দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই নিদের্শ কারাগারে পৌঁছে। এরআগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আসাদুজ্জামান খান জানিয়েছেন, নিজামী প্রাণভিক্ষা চাননি। ফাঁসি কার্যকরে তাই
নির্বাহী আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় হত্যা, গণহত্যা ও ধর্ষণের
মতো জঘন্য মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া জামায়াত আমিরের
ফাঁসি কার্যকরে সব প্রস্তুতি শেষ করে এ নির্বাহী আদেশের অপেক্ষাতেই ছিলো
কারা কর্তৃপক্ষ।
সন্ধ্যার দিকেই উচ্চ পর্যায় থেকে রাতেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আভাস পাওয়া যায়।
চ্যানেল আই’র বিশেষ প্রতিবেদক মোরছালীন বাবলা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে থেকে জানিয়েছেন, এর আগে চার মানবতাবিরোধী অপরাধীর দণ্ড কার্যকরের সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকা যে রূপ ধারণ করেছিলো বর্তমান পরিস্থিতিও তেমনই। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি ও নিরাপত্তার ধরণ ক্রমশ সেই ইঙ্গিত জোড়ালো করছে।
তিনি জানান, সন্ধ্যার আগে থেকেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য। ব্যারিকেড দিয়ে যান চলাচলও সীমিত করা হয়েছে।
‘এখন অপেক্ষা শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশের।’
কারাগারে পরিবার
তৎকালীন ইসলামি ছাত্র সংঘের সভাপতি নিজামীর সঙ্গে শেষ দেখা করতে রাত ৮টার দিকে তার স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি, ভাই, চাচাসহ পরিবারের ২৬ জন সদস্য কারাগারে যান। প্রায় দেড় ঘণ্টার সাক্ষাত শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে তাদের কেউই সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি। কারা কর্তৃপক্ষের আহবানেই তারা কারাগারে আসেন। আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারকে ডাকার বিষয়টি জানানো না হলেও বিভিন্ন সূত্র তা নিশ্চিত করেছে।
মঙ্গলবার দিনভরই কারা কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেন। নিজেদের মধ্যে যেমন তারা বৈঠক করেছেন, তেমনি বিকেলের দিকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্য বাহিনীর সঙ্গেও বৈঠকে মিলিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।
গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে রোববার রাতে নিজামীকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। নিজামীর ফাঁসি কার্যকর করতে আজ দুপুরে কাশিমপুর থেকে দুই জল্লাদকেও ঢাকায় আনা হয়েছে।
পাকিস্তানীদের চরম নৃশংসতার প্রধান এই সহযোগীর রিভিউ আবেদন খারিজ করে আপিল বিভাগ সোমবার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করার পর থেকেই ফাঁসি কার্যকরের প্রাক প্রস্তুতি শুরু হয়।
ওই রাতেই রিভিউ (রায় পুনর্বিবেচনা) খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেমড সেলে থাকা নিজামীকে পড়ে শোনানো হয়। পরে চিকিৎসকেরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া চারজনের দণ্ডও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে কার্যকর হয়েছে। তারা হলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, দুই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান ও আবদুল কাদের মোল্লা এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী।







