নানা নাটকীয়তার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যার কিছু অাগে বাসায় ফিরেছেন লেখক, প্রাবন্ধিক ফরহাদ মজহার। এরআগে নিজের জিম্মায় তাকে মুক্তি দেন আদালত। মুক্তির পর তাকে একটি সাদা মাক্রোবাসে তুলে দ্রুত বাসার পথে রওনা হন তার স্বজনেরা।
সোমবার ভোরে নিজ বাসা থেকে বের হয়ে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার পর সারাদিন প্রবল উৎকণ্ঠা আর উদ্বেগের পর রাতে যশোর থেকে উদ্ধার করা হয় ফরহাদ মজহারকে। মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকা নিয়ে আসার পর থেকে যা যা ঘটেছে চ্যানেল আই অনলাইনের পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো।
ঘরে ফেরার অনুমতি পেলেন ফরহাদ মজহার
মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবীব ঘরে ফেরার অনুমতি দেন ফরহাদ মজহারকে। এরআগে আদালতে নিজ জিম্মায় ফেরার জন্য আবেদন করেন তিনি। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) নিজাম আহমেদ জানান, বিচারক ফরহাদ মজহারকে নিজ জিম্মায় যেতে চান কি না- জিজ্ঞাস করলে তাকে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় নিজ জিম্মায় যাওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেন।
‘‘আমি বেশি সুস্থ নেই’’
ফরহাদ মজহারের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া তাকে উদ্ধৃত করে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের জানান, আমার মক্কেলের সঙ্গে একবার কথা হয়েছে, আমি জানতে চেয়েছিলাম কেমন আছেন আপনি? তিনি বলেছেন ‘‘আমি বেশি সুস্থ নেই’’।
সিএমএম কোর্টে জবানবন্দি
বিকেল পৌঁনে চারটায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঢাকার মহানগর হাকিম আহসান হাবিবের আদালতে ঘটনার বিবরণ দিয়ে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন ফরহাদ মজহার।
সিএমএম কোর্টে ফরহাদ মজহার
ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের (সিএমএম) আদালতে বেলা পৌনে ৩টায় আদাবর থানার পুলিশ ফরহাদ মজহারকে হাজির করে।
পরিবারের দায়ের করা অপহরণ মামলায় উদ্ধার দেখিয়েছে পুলিশ
তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর আদাবর থানায় দায়ের করা অপহরণ মামলায় কবি ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার দেখিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে আদলতে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হবে বলে সাংবাদিকদের জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার।
‘‘তিনি ওষুধ কিনতে বের হয়েছিলেন’’
ফরহাদ মজহারের অপহরণ ও উদ্ধারের ঘটনায় মঙ্গলবার দুপরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, নিজের অপহরণ ঘটনার বর্ণনায় ডিবি পুলিশের কাছে জিজ্ঞাসাবাদে কবি ও কলামিস্ট ফরহাদ মাজহার জানিয়েছেন, তিনি ওষুধ কিনতে বের হয়েছিলেন, এসময় একটি মাইক্রোবাসে করে ৪-৫ জন তাকে তুলে নিয়ে যায়।
‘‘বাবার কাছে ব্যাগ কোথা থেকে এলো জানি না’’
ডিবি কার্যালয়ে ফরহাদ মজহারের মেয়ে সম্তলী হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বাড়ি থেকে তার বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভিডিও ফুটেজে তার সঙ্গে কোন ব্যাগ ছিল না। সেটা আমরা দেখেছি, সবাই দেখেছে। পরে তার কাছে কোথা থেকে ব্যাগ এলো তা আমরা জানি না।
“স্বস্তি যে তিনি জীবিত আছেন”
ফরহাদ মজহারকে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে বাইরে অপেক্ষমাণ তার স্ত্রী ফরিদা আখতার বলেন, ‘আমি এটাতেই স্বস্তি পেয়েছি যে, তিনি জীবিত উদ্ধার হয়েছেন।’
‘পুলিশ একেক সময় একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছে’
ডিবি অফিসের বাইরে অপেক্ষমান ফরহাদ মজহারের ঘনিষ্টজন ও বন্ধু গৌতম দাস বলেন, পুলিশ একেক সময় একক রকম তথ্য দিচ্ছে। আদাবর থানায় বলা হলো প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখন ছেড়ে দিবে নাকি কি করবে কিছুই জানি না আমরা।
“বাবা তো আসামী নয়, ভিকটিম”
ডিবি অফিসের বাইরে অপেক্ষমান ফরহাদ মজহারের মেয়ে সম্তলী হক বলেন, অনেকক্ষণ সময় পেরিয়ে গেছে। তাকে দেখে যা বুঝলাম তার শারীরিক অবস্থা ভালো না, খুব খারাপ। এখান থেকে ছাড়লেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করবো। আমার বাবা তো আসামী নয়, ভিকটিম। একজন ভিকটিমের সঙ্গে কেন আসামীর মতো আচরণ করা হচ্ছে!
ডিবি কার্যালয়ে ফরহাদ মজহার
আদাবর থানা থেকে সকাল সাড়ে ১০টায় তাকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে তদন্ত কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
যশোর থেকে আদাবর থানা
সোমবার রাতে যশোরের নোয়াপাড়া থেকে ফরহাদ মজহারকে উদ্ধার করে র্যাব-৬। পরে তাকে অভয়নগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।সোমবার গভীর রাতেই পুলিশ তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে ফরহাদ মজহারকে আদাবর থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে স্বজনরা তাকে বাসায় তৈরি করা নাস্তা খেতে দেন।








