বন্যপ্রাণী নিধন হচ্ছে, গাছপালা-বন উজাড় করে বন্যপ্রাণীর নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আবাস ধ্বংস করা হচ্ছে। নির্বিচারে ও নৃশংসভাবে বন্যপ্রাণী নিধন প্রকৃতি ও মানব সভ্যতার জন্য হুমকি তৈরি করছে। তাই বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ চেতনা জাগিয়ে তোলা জরুরি। আর এজন্য দরকার জনসচেতনতা। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ডক্টর মনিরুল এইচ খান-এর ‘ফটোগ্রাফিক গাইড টু দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অব বাংলাদেশ’ বইটি। আজ চ্যানেল আইয়ে আরণ্যক ফাউন্ডেশন এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।
ডক্টর মনিরুল এইচ খান পেশায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তার এই বইয়ে বাংলাদেশের প্রায় ১৩৮ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৬৯০ প্রজাতির পাখি, ১৭১ প্রজাতির সরীসৃপ ও ৩৮ প্রজাতির উভচর প্রাণীর বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ৯৪ প্রজাতি সারা পৃথিবীতে বিপন্ন। যথাযথ উদ্যোগ নিলে এদের বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সচিত্র এসব তথ্য তুলে ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের আহ্বান জানানো হয়েছে ‘ফটোগ্রাফিক গাইড টু দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অব বাংলাদেশ’ বইতে। চ্যানেল আইয়ে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বইটির পেছনের গল্প তুলে ধরেন ডক্টর মনিরুল এইচ খান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস গ্রুপের পরিচালক এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে যে পরিমাণ জীব বৈচিত্র্য আছে, তা আর অন্য কোথাও নেই। দেশের বাইরে লক্ষ-কোটি টাকা খরচ করা হয় জীব বৈচিত্র্যের রক্ষা করতে। অজ্ঞানতা ও লোভের কারণে আমরা সব হারিয়ে ফেলছি। একারণে প্রয়োজন সচেতনতা। এই বইটি সচেতনতা বাড়ানোর জন্য সময়োপযোগী একটি বই।’
আরণ্যক ফাউন্ডেশন এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত এই বইটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টিতে বইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। ম্যাট পেপারে ঝকঝকে ৪৮৮ পৃষ্ঠার বইটি গবেষকদের জন্য তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কাজ করবে।










