এবারের পয়লা বৈশাখ উদযাপন সীমিত করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার প্রেক্ষাপটে এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এ ধরনের নির্দেশনা কি দেশের এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে অশনি সংকেত? সংস্কৃতিকর্মীরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশের সামগ্রিক নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে পুলিশের বক্তব্য দু’ ধরনের। তারা বলছে, সামগ্রিক দিক বিবেচনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, উদ্বেগের কোন কারন নেই। আবার বলছে, ৫টার পরে কোন অনুষ্ঠান করা যাবে না।

‘তাদের কথার মধ্যেই দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এতে মানুষের মনে তৈরী হচ্ছে বিভ্রান্তি। আমি মনে করি, পুলিশের উচিৎ বাস্তব পরিস্থিতিতে স্পষ্ট করে বলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে ৫ টার পর অনুষ্ঠান নয় কেন?’
আর গোয়েন্দা সূত্রমতে যদি কোন হামলার আশঙ্কা থেকেই থাকে তাহলে সেটাও সবাইকে স্পষ্ট করে বলা উচিৎ বলে মনে করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি।
‘এতে করে জনগণের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি ভাল থাকবে।’
তিনি অবশ্য বলেন: এই অনুষ্ঠান পালন আমরা করলাম কি করলাম না তা দিয়ে কোনভাবেই বোঝায় না আমরা জঙ্গিবাদি গোষ্ঠির ইচ্ছা পূরণের দিকে ধাবিত হচ্ছি কিনা। আমরা সারা বছর অনুষ্ঠান করব। জঙ্গিবাদ বিরোধী শক্তির বিপক্ষে কথা বলব।
‘একদিন দুই ঘণ্টার অনুষ্ঠান করা থেকে বিরত থাকা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপর মোটেও অশনি সংকেত নয়,’ বলে স্পষ্ট করে বলেন গোলাম কুদ্দুছ।
উল্লেখ্য পুলিশ যেহেতু বিকেল ৫টার মধ্যে সব অনুষ্ঠান শেষ করতে বলেছে তাই সাংস্কৃতিক জোট তাদের এবারের অনুষ্ঠান স্থগিত করেছে।
প্রতিবছর বেলা ৩টায় ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে জোটের পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং তা বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে। যেহেতু বিকেল ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশনা আছে তাই সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবছর নববর্ষের অনুষ্ঠানই করছে না।
উদীচী সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমদ মানিক অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন: পয়লা বৈশাখ একটা স্বতঃস্ফূর্ত সাংস্কৃতিক উৎসব। একে দিন-রাতের আবর্তে বেঁধে ফেলা খুবই দুঃখজনক। ৫টার পর অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে যে নির্দেশনা তার মাধ্যমে আমাদের সংস্কৃতিকে রক্ষণশীলতার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমাদের স্বতবহমান সংস্কৃতিকে ঠেকিয়ে রাখা হচ্ছে।
‘নিরাপত্তা কি শুধু পয়লা বৈশাখেই দরকার? বাকি দিনগুলোতেও নিরাপত্তা জনিত সমস্যা হতে পারে।’
তাই পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান পালনে নিষেধাজ্ঞা বাঙালির জন্য সত্যিই অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতি বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা বের করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক নিসার হোসেন পুলিশের পদক্ষেপকে মোটেও অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন না।
‘একটা বোমার কারণে কেউ প্রাণ হারানোর চেয়ে বরং সীমিত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে ঘরে ফিরে যাওয়া অনেক ভাল। প্রাণে বেঁচে থাকলে অনুষ্ঠান প্রতিবছর এবং প্রতিদিন করা যাবে।’
চারুকলা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল আলী বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টার একদিকে যেমন পজিটিভ, অারেকদিকে অাবার নেগেটিভ। এর মাধ্যমে আমাদের সবকিছুতেই বর্তমোনে মৌলবাদি কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেয়া হচ্ছে। জঙ্গিদের ভয়ে আমরা ঘরে ঢুকে যাচ্ছি। যা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।







