রাজধানীর বহুতল ভবনগুলোর নির্মাণ ও নিরাপত্তা ত্রুটি চিহ্নিত করতে এবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ-রাজউকের ২৪টি দল মাঠে নেমেছে। আর ভবনগুলোতে আগুন নেভানোর ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গুলশান-বনানী এলাকায় পরিদর্শন শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস।
সম্প্রতি বনানীর এফআর টাওয়ারে আগুনের পর বহুতল ভবন নির্মাণে অনিয়মের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। তারপর থেকেই শুরু হয় তোড়জোড়, নানা কমিটি আর বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ যেনো ঘুম থেকে জেগে উঠে অনিয়ম দূর করতে সোচ্চার হয়েছে। বিষয়টিকে আমরা সাধুবাদ জানাই।
রাজধানীতে ভবন নির্মাণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাজউকসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। প্রথাগত অনুমতি নিয়ে ভবন নির্মাণ হলেও নির্মাণের আগে-পরে ভূমির মালিক, ডেভলপার ও অনুমতি প্রদান করা বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নিয়ম ভঙ্গ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি অনেকটা ওপেন সিক্রেট বলেও প্রচলিত। এসব বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্টও বর্তমানে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন এবং ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের আলোকে রাজধানীর ৭ তলার চেয়ে উঁচু ভবনগুলোতে অগ্নিনির্বাপণের কী ব্যবস্থা আছে সেই বিষয়ে একটি যৌথ প্রতিবেদন ৪ মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে বলা হয়েছে।
এতো সংস্থা এতো নজরদারির পরেও যেহেতু অনিয়ম হচ্ছে, সেক্ষেত্রে বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে এর মূলে রয়েছে দুর্নীতি। জনমানুষের জীবন ও নিরাপত্তা যেখানে সরাসরি যুক্ত, এইসব ক্ষেত্রে দুর্নীতি করে কোনো অনিয়মকে প্রশ্রয় দেয়া মোটেও গ্রহণযোগ্য না। দুর্নীতি দমন কমিশন এসব বিষয়ে জোর দৃষ্টি দিলে বিষয়গুলোর পরিবর্তন আসতে পারে বলে আমরা মনে করি। প্রয়োজনে কয়েকটি সংস্থার সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে হলেও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেয়া দরকার। আমাদের আশাবাদ, বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।








