প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত খেলে সাউথ আফ্রিকা সফরে ভালো কিছুর আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। কিন্তু আসল লড়াই শুরু হতেই সামনে আসে কঠিন বাস্তবতা। ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরতে হয়েছে রুমানা-সালমাদের।
হতাশার সিরিজে ওয়ানডে অধিনায়ক রুমানা আহমেদ নিজেদের দায় যেমন দেখছেন, তেমনি গত এক বছরে প্রোটিয়া মেয়েদের উন্নতিটাও টের পেয়েছেন। বুধবার মিরপুরে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপচারিতায় রুমানা বললেন সেসব কথাই।
‘আমার দিক থেকে মনে হয়েছে ওরা অনেক এগিয়ে গেছে। আমরা গত বছর যেটা দেখেছি ওদের মাটিতে ওরা আসলে কিংয়ের মতো খেলেছে। আমাদের ঘাটতি বলব না, আমরা নিজেদের সেরাটা দেখাতে পারিনি। তবে ওরা পুরোপুরিই দেখিয়েছে। ওদের পেস আক্রমণ ছিল অসাধারণ। যেখানে আমরা অনেক বেশি পিছিয়ে ছিলাম।’
গত বছর নিজেদের মাটিতে আফ্রিকার মেয়েদের সঙ্গে সমানে সমান লড়েছিল রুমানা আহমেদের দল। কক্সবাজারে ওয়ানডে সিরিজ হারলেও একটি ম্যাচে জয় ও দুটি ম্যাচে জয়ের আশা জাগিয়েছিল টাইগ্রেসরা। এবার ভিন্ন কন্ডিশনে ভিন্ন চিত্র। প্রোটিয়া মেয়েদের কাছে দাঁড়াতেই পারেনি টিম টাইগ্রেস।
জ্বলে উঠতে না পারার পেছনে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারার ব্যর্থতার কথাও যোগ করলেন রুমানা, ‘কন্ডিশন অনেক প্রভাব ফেলেছে। এখনও আমরা আমাদের দেশের কন্ডিশন ছাড়া অন্য কোথাও সেভাবে মানিয়ে নেয়া শিখিনি।’

যদিও এই সফরে প্রস্তুতি ম্যাচে দুই সেঞ্চুরি প্রত্যাশার বেলুনে হাওয়া দিচ্ছিল। কিন্তু সময় গড়াতেই সব সম্ভাবনা উবে যায়। ঘুরে দাঁড়ানোর বিশ্বাস থাকলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় রুমানারা।
‘প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করায় প্রত্যাশা বেড়েছিল ঠিকই। আমাদেরও মনে হয়েছে শুরু ভালো হলে মনে হয় সব ভালো হবে। প্রথম ম্যাচে (ওয়ানডে) হারের পরও ভাবছিলাম ঘুরে দাঁড়াতে পারব। কিন্তু ওরা নিজেদের আরও পরিবর্তন করে নিয়ে সেটা হতে দেয়নি। অনেকবেশি সিরিয়াস ছিল।’
সাউথ আফ্রিকা সফলে রুমানার কাছে প্রাপ্তি বলতে অভিজ্ঞতা আর নতুন কিছু উপলব্ধি, ‘অনেকদিন পর ওয়ানডে খেলতে গিয়েছি। এ বছর পাঁচটা ম্যাচ খেললাম। আবার কবে পাবো (ওয়ানডে) জানি না। সামনের এশিয়া কাপ টি-টুয়েন্টি। ওডিআই নেই। সাউথ আফ্রিকা সফরে প্রাপ্তি বলতে অভিজ্ঞতা বাড়ল। ওরা ভালো টিম। ভালো টিমের সাথে খেলতে কেমন প্রস্তুতি দরকার বা নিতে হবে সেটা ভালো ভাবেই বুঝেছি।’







