সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথা শোনার পর শনিবার হাজার হাজার মানুষ সিউলে সমবেত হন। প্রতিবাদীদের মধ্যে তিনজন মারা গেছেন। সেখানে পার্কের সমর্থক এবং বিরোধীরাও রয়েছে। দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এড়াতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শুক্রবার অর্থনৈতিক দুর্নীতির কারণে পার্লামেন্টে অভিসংশন এনে অফিস থেকে বের হতে তাগিদ দেন দেশটির আদালত। আইনি রুলিং পাওয়া সত্ত্বেও তিনি এখনো প্রেসিডেন্টসিয়াল ভবনের ভেতরেই আছেন। সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিউন এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কথা শোনার পরও এখনো মুখ খোলেননি পার্ক ।
একজন আন্দোলনকারী সুই ইন সোক রয়র্টাসকে বলেন, আমরা কোর্টের সিদ্ধান্তের পক্ষে, আমরা আমাদের নেত্রীর গ্রেফতারের জন্য আন্দোলন করছি। পার্ক তার প্রেসিডেন্টসিয়াল অধিকার হারিয়েছেন এবং তার অপরাধে জন্য অভিযোগের সম্মুখীন হতে পারেন।
দেশটির নিবার্চন কমিশন অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ৯ মে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে। এক পরিসংখানে দেখা যায়, ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা মুন জায় এগিয়ে রয়েছে। তার নিকটবর্তী প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে তিনি প্রায় ২২% ভোটে এগিয়ে রয়েছেন । বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ওয়ং কিয়ো এহেন সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্কের প্রতি অনুগত রয়েছেন। ওয়ং সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট পার্ক এখনই সাউথ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ব্লু হাউজ থেকে যাবেন কিনা এ প্রশ্নে কোনো ধরনের মুখ খুলতে রাজী নন বলে পার্কের অফিসিয়াল সূত্র জানায়। ধারণা করা হচ্ছে তিনি তার সিউলের নিজ বাড়ি মেরামত, পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ভবন ছাড়বেন না।
সবকিছুর নাটকীয়তা নিহিত রয়েছে প্রেসিডেন্ট পার্ক এবং তার ঘনিষ্ট বন্ধু মিস চোই। প্রেসিডেন্ট পার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তার বান্ধবীকে অবাধে প্রেসিডেন্টের অনেক নথি দেখানো এবং বিভিন্ন কোম্পানি থেকে নেওয়া মিলিয়ন ডলার আত্নসাৎ করার সঙ্গে সম্পৃক্ত। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে চোই তার নিয়ন্ত্রণাধীন নন-প্রোফিট ফাউন্ডেশনে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার অনুদান দিতে কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতেন। ব্যক্তিগতভাবে এই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে।
গত ডিসেম্বরে এই জন্য তার বিরুদ্ধে অভিসংশন আনার সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির পার্লামেন্ট। প্রেসিডেন্ট পার্ক তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ তখন অস্বীকার করে সামালোচকদের সমালোচনা কারেন।








