সম্প্রতি বাংলাদেশের এক মডেল আত্মহত্যা করেছে। তারও কয়েক বছর আগে বলিউড অভিনেত্রী জিয়া খান ঠিক একই কায়দায় আত্মহত্যা করেছিলেন। আর এ বিষয়ে নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক পেজে
দেওয়া স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বলিউডের নায়িকা জিয়া খান আত্মহত্যা করেছিল যে
কারণে, সে কারণে বাংলাদেশের মডেল সাবিরা হোসাইনও আত্মহত্যা করেছে। একই
কারণে অনেক মেয়েই আত্মহত্যা করে।
প্রেমিক অপমান করেছে, বা প্রতারণা করেছে, সুতরাং বেঁচে থাকার, তারা মনে করে না, কোনও প্রয়োজন আছে। সমস্যার সমাধান সাধারণত তারা এভাবেই করে। এমনই তুচ্ছ, তারা বিশ্বাস করে, তাদের নিজের জীবন।
চলচ্চিত্রে অভিনয় করলে, বা নাটক থিয়েটার করলে, বা মডেলিং করলেই মন-মানসিকতা আধুনিক হয় না। সুচিত্রা, শাবানা, ববিতা, রাজ্জাক, অমিতাভ এবং আরও অনেক তারকাই ধর্মান্ধতা, পুরুষতান্ত্রিকতা আর কুসংস্কারে ডুবে ছিলেন এবং আছেন।
পুরুষের সঙ্গে সংসার না করলে জীবন অর্থহীন হয়ে যায়, বা সন্তান জন্ম না দিলে নারীর জীবনের কোনও মূল্যই থাকে না এগুলোকে বিশ্বাস করে শিক্ষিত নয়, অশিক্ষিত মানুষ। শোবিজে অশিক্ষিতর সংখ্যা নেহাত কম নয়।
তসলিমা নাসরিন আরো লিখেন, প্রেমিকের প্রতারণার সবচেয়ে বড় শিকার তারা, যারা পতিতাবৃত্তি করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রেমিক পুরুষগুলো তাদের ছলে বলে কৌশলে বিক্রি করে দিয়েছে পতিতালয়ে। চরম দুঃসহবাসেও তারা আত্মহত্যা করে না। বরং যুদ্ধ করে নিজেকে নয়তো নিজের সন্তানকে নরক থেকে বাঁচাবার জন্য।
আমি বলতে চাইছি না আত্মহত্যার অধিকার মানুষের নেই। জন্মের পর বেঁচে থাকার যেমন অধিকার আছে, মরে যাওয়ারও অধিকার আছে। তবে অকারণে মরে যাওয়ার কোনও মানে হয় না। যত যাই ঘটুক জীবনে, জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই।
আমি এমন দেখেছি অনেক, প্রেমে পড়লেই মেয়েরা বড় দুর্বল, বড় ক্ষুদ্র, বড় মূল্যহীন, বড় অকিঞ্চিৎকর, বড় অপ্রতিভ, বড় অবলা, বড় অসহায় হয়ে ওঠে। আত্মসম্মানবোধ লোপ পায়। হয় প্রেমের সংজ্ঞা পাল্টাক, নয়তো মেয়েরা পাল্টাক। ক’দিন পর পরই মেয়েদের আত্মহত্যার খবর শুনতে আর ভাল্লাগছে না।







