জন ভালভার্দে, ইউথ বিল্ড ইউএসএ ইনকর্পোরেশন নামে মার্কিন একটি উন্নয়নমূলক সংস্থার প্রধান নির্বাহী (সিইও)। তবে আর দশজন প্রধান নির্বাহীর মতো নয় তার জীবন। নিজের প্রিয়তমার ধর্ষণকারীকে হত্যার দায়ে ১৬ বছর জেল খাটার পর তিনি ফিরতে পেরেছেন স্বাভাবিক জীবনে।
তবে শুধু নিজের জীবন বদলানোর গল্প শোনাতেই ব্যস্ত না হয়ে জীবনে বড় ধাক্কা সহ্য করা মানুষদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন ভালভার্দে।
জেলে থাকাকালে অন্ধকার থেকে মুক্তির সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন তিনি। অর্জন করেন উচ্চশিক্ষায় দু’টি ডিগ্রি। নিজের আলোকিত হওয়ার পর সঙ্গী কয়েদিদেরকেও পড়তে-লিখতে শেখানোর পাশাপাশি এইচআইভি/এইডস নিয়েও সচেতন করেন তিনি।
এমন ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অন্ধকার জগত থেকে বেরিয়ে আসা ভালভার্দে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন ইউথবিল্ড ইউএসএ ইনকর্পোরেশনে। বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তরুণদের সাহায্য করে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষ করে কম উপার্জন করা ঝরে পড়া তরুণদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে ভালভার্দের প্রতিষ্ঠান।

তার প্রতিষ্ঠান যে তরুণদের সহায়তা করে তাদের প্রতি ৩ জনের ১ জনের নাম আছে অপরাধী তালিকায়। এই তরুণদের কাছে নিজের অতীত লুকাতে চান না ভালভার্দে। বরং অনুপ্রেরণা যোগাতে চান।
নিজের ভাবনা তুলে ধরে ভালভার্দে বলেন,‘ তারাতো আমারই মতো। তাই তারাও তো আমার মতো আলোর পথে আসতে পারে। তারা এমন সব অর্জন করতে পারে যা তারা ভাবতেও পারেনি’।

অন্ধকার পার হলেই আলো। আলোর পথযাত্রী ভালভার্দের জীবনে অন্ধকার ঘনিয়ে এসেছিলো ১৯৯১ সালে। ২০ বছর বয়সী তরুণ ছিলেন তখন। প্রেমিকার ধর্ষককে হত্যা করেছিলেন মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে। অতএব ১৬ বছর জেলখাটার সাজা হয় তার। এরপর চমৎকার ব্যবহারের জন্য জামিনে মুক্ত হন তিনি।
সেই সময়ের কথা জানিয়ে ভালভার্দে বলেন,‘ওই ঘটনার পরই আমি বুঝে গেলাম যে অন্যায় করেছি। কোনোরকম দায় চাপানো, আত্মপক্ষ সমর্থন না করে লম্বা সময়টা যেনো দীর্ঘ পথ একাকী চলার মতো ছিলো’।
তিনি আরও বলেন,‘ কারও জীবন নিয়ে তো আর ক্ষতিপূরণ করাটা সম্ভব নয়। তাই মানুষকে বদলাতে নিজের জীবনটাই বদলে ফেলার চেষ্টা করলাম’।
সেই চেষ্টা থেকেই দু’টি কলেজ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পেয়ে ২০০৮ সালে কারামুক্ত হন ভালভার্দে। জেল থেকে বের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক দি অসবর্ন অ্যাসোসিয়েশনে কাজ শুরু করেন। অপরাধী তালিকায় নাম থাকা, সাবেক কয়েদিদেরকে মানবসম্পদে পরিণত করতে কাজ করে সংস্থাটি। দীর্ঘদিন এখানে কাজ করার পর অবশেষে নিজের যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে মানবসম্পদ উন্নয়নে কাজ করা পুরোনো সংস্থা ইউথবিল্ডে প্রধান নির্বাহী হিসেবে যোগ দেন তিনি।







